বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায়। শনিবার শুরু হতে যাওয়া ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের সুযোগ।
অস্ট্রেলিয়ার দ্বাদশ টেস্ট ভেন্যু হিসেবে অভিষেক হতে যাচ্ছে এই মাঠের। এখানে আগে কোনো টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি।
তবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের পরিসংখ্যান ম্যাকাইয়ের পিচ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দিচ্ছে। বিশেষ করে পেসারদের সাফল্য এখানে বেশ উল্লেখযোগ্য।
বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় টেস্টে কেমন হতে পারে পিচ
ম্যাকাইয়ের মাঠে এখন পর্যন্ত পাঁচটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ হয়েছে। এসব ম্যাচের পরিসংখ্যান বলছে, পিচের আচরণ মূলত পেসবান্ধব ছিল।
এখানে পেসাররা স্পিনারদের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ বেশি সফল হয়েছেন। তাঁরা ২৩.৬৭ গড়ে মোট ১২২টি উইকেট নিয়েছেন।
অন্যদিকে স্পিনারদের সংগ্রহ ৫০টি উইকেট। তাঁদের বোলিং গড় ৩১.৭৬। ফলে সংখ্যার হিসাবে পেসাররাই স্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছেন।
এই মাঠের সবচেয়ে সফল বোলার মাইকেল ক্যাসপ্রোভিচ। সাবেক অস্ট্রেলিয়ান পেসার ৭.৯১ গড়ে মোট ১২টি উইকেট নিয়েছেন।
১৯৯৫ সালে শুরু ম্যাকাইয়ের প্রথম শ্রেণির যাত্রা
ভেন্যুটিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট শুরু হয় ১৯৯৫ সালের নভেম্বরে। সেই সময় কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছিল শ্রীলঙ্কা।
ম্যাচটিতে শ্রীলঙ্কা বড় ব্যবধানে হেরেছিল। কুইন্সল্যান্ড তাদের ২৭৩ রানে পরাজিত করে। এরপর দীর্ঘ বিরতিতে যায় লাল বলের ক্রিকেট।
প্রায় ২০ বছর এই মাঠে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ হয়নি। পরে আবার শেফিল্ড শিল্ডের মাধ্যমে লাল বলের ক্রিকেট ফিরে আসে।
ক্রিকেটের আরও খবর ও বিশ্লেষণ দৈনিক বাংলাভিউয়ের খেলাধুলা বিভাগে পড়তে পারেন।
শেফিল্ড শিল্ডে দুই ম্যাচ খেলেছে কুইন্সল্যান্ড
ম্যাকাইয়ে স্বাগতিক হিসেবে দুটি শেফিল্ড শিল্ড ম্যাচ খেলেছে কুইন্সল্যান্ড। প্রথম ম্যাচটি হয়েছিল ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে।
পরবর্তী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় ২০২৩ সালের অক্টোবরে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলও এই মাঠে দুটি ম্যাচ খেলেছে।
সর্বশেষ প্রথম শ্রেণির ম্যাচটি হয়েছিল ২০২৪ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে। সেখানে ভারত ‘এ’ দলের মুখোমুখি হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া ‘এ’।
অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ ম্যাচটি ৭ উইকেটে জেতে। সেই ম্যাচে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন পেসার ব্রেন্ডন ডগেট।
প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন ডগেট। তাঁর পারফরম্যান্সও পেসবান্ধব উইকেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
ম্যাকাইয়ে টসও হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ
এই মাঠে প্রথম ইনিংসের গড় সংগ্রহ ২৫৭ রান। টসের ফলও ম্যাচের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
টসজয়ী অধিনায়করা ৬০ শতাংশ ম্যাচে প্রথমে ব্যাটিং বেছে নিয়েছেন। অর্থাৎ পাঁচ ম্যাচের তিনটিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত এসেছে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে জয়ের হিসাবে। এখানে ৮০ শতাংশ ম্যাচেই টসজয়ী দল শেষ পর্যন্ত জয় পেয়েছে।
তাই বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় টেস্টে টসও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে ম্যাচের দিনের কন্ডিশনও সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখবে।
ম্যাকাইয়ের ওয়ানডে ইতিহাসও পুরোনো
শুধু প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট নয়, ম্যাকাইয়ের আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ইতিহাসও বেশ পুরোনো। ১৯৯২ সালের ফেব্রুয়ারিতে এখানে প্রথম ওয়ানডে হয়।
এরপর আন্তর্জাতিক ওয়ানডের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়েছে। প্রায় ৩৩ বছর পর ২০২৫ সালের আগস্টে আবার ওয়ানডে ফেরে।
সেই সময় অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এবার প্রায় এক বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরছে ম্যাকাইয়ে।
বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় টেস্টে টাইগারদের ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের সুযোগ
ডারউইনে প্রথম টেস্ট জিতে ইতিমধ্যে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে সেটিই ছিল বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়।
এবার নাজমুল হোসেন শান্তর দলের সামনে আরও বড় অর্জনের হাতছানি। ম্যাকাইয়ে জয় পেলেই নিশ্চিত হবে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়।
এমনকি ম্যাচটি ড্র হলেও সিরিজ বাংলাদেশের হবে। তাই দ্বিতীয় টেস্টে টাইগারদের সামনে সুযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় টেস্টে পেসারদের দিকে নজর
ম্যাকাইয়ের অতীত পরিসংখ্যান বাংলাদেশের পেসারদের জন্য আশাব্যঞ্জক হতে পারে। ডারউইনেও পেস আক্রমণ বাংলাদেশের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তবে ম্যাকাই বাংলাদেশের জন্য অপরিচিত কন্ডিশন। তাই দ্রুত উইকেট ও পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া হবে বড় চ্যালেঞ্জ।
সব মিলিয়ে সিরিজের শেষ ম্যাচ ঘিরে প্রত্যাশা বেড়েছে। ম্যাকাইয়ে বাংলাদেশ নতুন ইতিহাস লিখতে পারে কি না, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের নিয়মিত আপডেট পেতে দৈনিক বাংলাভিউ X অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করুন।