নবজাতক কন্যাকে দেখে ফেরার পথে বাবার মৃত্যু ঘটনায় পাবনায় শোক নেমে এসেছে। সড়ক দুর্ঘটনায় বাহারুল ইসলাম বাবুল (৪৫) মারা গেছেন। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাটি ঘটে।
দুর্ঘটনাটি ঘটে ঈশ্বরদী-পাবনা মহাসড়কের ঢুলটি এলাকায়। নিহত বাহারুল ঈশ্বরদী পৌর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি আরআরপি এগ্রো ফিড মিলে কাভার্ড ভ্যান চালাতেন।
নবজাতক কন্যাকে দেখে পথেই দুর্ঘটনা
পারিবারিক সূত্র জানায়, ১১ দিন আগে অস্ত্রোপচারে বাহারুলের স্ত্রী কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। তাদের আরও দুটি ছেলেসন্তান রয়েছে। তাদের বয়স ১২ ও ৫ বছর।
বুধবার বিকেলে দুই ছেলেকে নিয়ে মোটরসাইকেলে শ্বশুরবাড়ি যান বাহারুল। বাড়িটি পাবনা সদর উপজেলার আটমাইল এলাকায়। সেখানে তিনি নবজাতক কন্যাকে দেখেন।
সন্ধ্যার পর ছেলেদের নিয়ে ঈশ্বরদীর উদ্দেশে রওনা হন তিনি। তবে ঢুলটি এলাকায় পৌঁছালে একটি দ্রুতগামী ট্রাক ধাক্কা দেয়।
এতে বাহারুল ও তার দুই ছেলে সড়কে ছিটকে পড়েন। পরে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।
স্থানীয়রা আহত দুই শিশুকে উদ্ধার করেন। এরপর তাদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে আরও বিস্তারিত খবর নিয়মিত প্রকাশ করছে দৈনিক বাংলাভিউ।
সহকর্মীদের মাঝে নেমে এসেছে শোক
আরআরপি গ্রুপের পরিচালক মো. রফিকুল আলম জানান, সারাদিন গাড়ি চালিয়েছেন বাহারুল। পরে বিকেলে ফ্যাক্টরিতে গাড়ি জমা দেন।
এরপর তিনি নবজাতক কন্যাকে দেখতে যান। কিন্তু ফেরার পথেই দুর্ঘটনার শিকার হন। তার অকাল মৃত্যুতে সহকর্মীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ট্রাকচালককে শনাক্তে পুলিশের চেষ্টা
ঈশ্বরদী থানার ওসি মো. আশাদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
দুর্ঘটনার পর ট্রাকসহ চালক পালিয়ে যায়। তাই তাকে তাৎক্ষণিক আটক করা সম্ভব হয়নি। দৈনিক বাংলাভিউ র এক্স অনুসরণ করুন
বর্তমানে ট্রাক ও চালককে শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নবজাতক কন্যাকে দেখে পথেই বাবার মৃত্যু দুর্ঘটনার ঘাতক ট্রাকসহ চালক পলাতক
পুলিশ বর্তমানে ঘাতক চালককে আটক করতে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে। প্রশাসন জানায় এ ঘটনায় দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এদিকে এই মর্মান্তিক ঈশ্বরদীতে সড়ক দুর্ঘটনার সঠিক বিচার ও দোষীদের শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।