মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ইরানিদের বিভাজিত করার বদলে উল্টো ঐক্যবদ্ধ করে তুলছে।
সম্প্রতি তেহরানের সাবেক কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ আব্বাস খামায়ার একটি সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন।
ফলে ওয়াশিংটনের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ এবং ভীতি প্রদর্শনের কৌশল ইরানি জনগণের কাছে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
ট্রাম্পের সোশ্যাল পোস্ট ও মার্কিন কৌশল
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক এই কূটনীতিক বেশ কিছু স্পর্শকাতর বিষয়ে আলোচনা করেন।
এছাড়া ওয়াশিংটনের ঘন ঘন সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের নীতিকে তিনি অসংলগ্ন এবং অপেশাদার হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তবে আমেরিকান প্রশাসনের কোনো হুমকিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ভয় পায়নি বলে তিনি স্পষ্ট জানান।
অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরে তীব্র জ্বালানি সংকট চলছে বলে যে খবর ছড়ানো হচ্ছে তা অসত্য।
কারণ সাবেক কূটনীতিক খামায়ার এই ধরনের প্রচারণাকে শত্রুপক্ষের অতিরঞ্জিত সংবাদ বলে উল্লেখ করেছেন।
তেহরানের পেট্রোল পাম্পগুলোতে গাড়ি নিয়ে অবস্থানরত মানুষদের এখন সর্বোচ্চ আধঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করতে হচ্ছে না।
মূলত ইরানে জ্বালানির দাম অত্যন্ত কম এবং সর্বত্র সহজেই তা পাওয়া যায়। তাই স্বাভাবিকভাবেই সেখানে স্থানীয়দের মধ্যে মাথাপিছু জ্বালানি খরচের পরিমাণ বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় পাঁচ গুণ।
সুতরাং পাম্পের সাধারণ লাইন দেখে সংকট দাবি করা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি বিষয়।
ইরানিদের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট
সাবেক সর্বোচ্চ নেতা খামেনির জানাজাসহ বিভিন্ন জাতীয় কর্মসূচিতে সম্প্রতি বিপুল পরিমাণ জনসমাগম দেখা গেছে। এরপরও যেকোনো বহিরাগত চ্যালেঞ্জ কিংবা বিদেশি হামলার পরিস্থিতিতে ইরানি সমাজ সবসময় অটুট ও ঐক্যবদ্ধ থাকে। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক তথ্যের জন্য দৈনিক বাংলাভিউ-এর পাতায় আরও জানুন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল সামরিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তারা কাঙ্ক্ষিত কৌশলগত সাফল্য অর্জন করতে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ। কারণ ঘন ঘন লক্ষ্য পরিবর্তনের কারণে তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে অসংলগ্ন বলে প্রমাণিত হচ্ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ওয়াশিংটনের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
সব মিলিয়ে ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ইরানি জনগণের মধ্যস্থ ঐক্যকে আরও বেশি শক্ত অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। কিন্তু মার্কিন এই অদূরদর্শী নীতি আমেরিকার নিজেরই কূটনৈতিক অবস্থান দুর্বল করছে। এই খবরের সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে আমাদের অফিশিয়াল এক্স পেজে আরও জানতে ক্লিক করুন।