ইউক্রেনের হামলায় জ্বালানি চাপে রাশিয়া, ভারত থেকে পেট্রোল আমদানি শুরু

রাশিয়ার জ্বালানি সংকট এখন দেশটির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে পেট্রোল সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ভারত থেকে পেট্রোলের একটি চালান ইতোমধ্যে রাশিয়ার বন্দরে পৌঁছেছে।

রাশিয়ার জ্বালানি সংকটে হামলার প্রভাব

গত কয়েক মাস ধরে রাশিয়ার বিভিন্ন রিফাইনারি ও জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইউক্রেন। এসব হামলার কারণে দেশটির পরিশোধন সক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি আমদানি শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক বুধবার আমদানি শুরুর কথা স্বীকার করেন। তবে কী পরিমাণ জ্বালানি আনা হচ্ছে, তা জানাননি।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির আরও খবর জানতে দৈনিক বাংলাভিউ আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রতিবেদন পড়তে পারেন।

ভারত থেকে পেট্রোলের চালান পৌঁছেছে রাশিয়ায়

শিল্প খাতের তিনটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ভারত থেকে অন্তত একটি পেট্রোলের চালান রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রবেশ করেছে।

জাহাজ চলাচলের তথ্যেও এর প্রমাণ মিলেছে। তথ্য অনুযায়ী, ওমানের পতাকাবাহী একটি ট্যাংকার পোর্ট সাইদের কাছে সমুদ্রে ‘শিপ-টু-শিপ’ পদ্ধতিতে প্রায় ৬৮ হাজার টন পেট্রোল সংগ্রহ করে।

এই পেট্রোল ভারতের ভাদিনার বন্দরে ‘অগ্নি’ নামের একটি ট্যাংকারে লোড করা হয়েছিল। আগস্টের শুরুতে ট্যাংকারটি রাশিয়ার আর্কটিক বন্দর ভিতিনোতে পণ্য খালাস করে।

রোসনেফট স্টেশনে পেট্রোল কেনায় সীমা

রাশিয়ার জ্বালানি সংকট এতটাই তীব্র হয়েছে যে, দেশটির বৃহত্তম রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি রোসনেফট নতুন সীমা নির্ধারণ করেছে।

এখন থেকে রোসনেফটের সব স্টেশনে একজন গ্রাহক একবারে সর্বোচ্চ ৩০ লিটার পেট্রোল কিনতে পারবেন।

রাশিয়া বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশ। তবে যুদ্ধের কারণে তাদের পরিশোধন সক্ষমতা বড় বাধার মুখে পড়েছে।

ভারত ছাড়াও অন্য দেশ থেকে জ্বালানি আনছে রাশিয়া

পরিস্থিতি মোকাবিলায় মস্কো শুধু ভারতের ওপর নির্ভর করছে না। রাশিয়া বেলারুশ ও কাজাখস্তান থেকেও রেলপথে পেট্রোল আমদানির প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।

পাশাপাশি, অভ্যন্তরীণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে জ্বালানি রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ।

গত সপ্তাহে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, রাশিয়া এশিয়া থেকে ডিজেল আমদানিও শুরু করেছে।

রাশিয়ার জ্বালানি সংকটে বদলেছে ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক

শিল্প খাতের তথ্য অনুযায়ী, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ভারত থেকে আরও অন্তত দুটি পেট্রোলের চালান রাশিয়ার বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

যুদ্ধের আগে ভারত রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সম্পর্কের সমীকরণ বদলে গেছে।

এখন রাশিয়া নিজেই ভারতের পরিশোধিত জ্বালানির ক্রেতায় পরিণত হয়েছে।

বিশ্ব রাজনীতির সর্বশেষ আপডেট পেতে দৈনিক বাংলাভিউ-এর এক্স আপডেট অনুসরণ করতে পারেন।

উল্লেখ্য, ইউক্রেনীয় বাহিনীর অভিযান শুধু রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডেই নয়, বরং তাদের দখলে থাকা ক্রিমিয়া অঞ্চলকেও প্রভাবিত করেছে।

যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষতির কারণে রাশিয়ার অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে বড় চাপ তৈরি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *