টাং-রবিনসনের আগুনে বোলিংয়ে হেডিংলিতে পাকিস্তানের ব্যাটিং ধস

হেডিংলি টেস্ট পাকিস্তানের ব্যাটিং ধস নামিয়েছেন ইংল্যান্ডের দুই পেসার জশ টাং ও অলি রবিনসন। প্রথম দিনেই দুজন ভাগ করে নিয়েছেন ১০ উইকেট।

টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। তবে ইংলিশ পেসারদের তোপে সফরকারীদের প্রথম ইনিংস মাত্র ১৭১ রানে শেষ হয়।

জবাবে দিন শেষে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১১২ রান। ফলে স্বাগতিকরা এখন পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসের চেয়ে ৫৯ রানে পিছিয়ে রয়েছে।

হেডিংলি টেস্ট এ পাকিস্তানের ব্যাটিং ধস

ইংল্যান্ডের হয়ে বল হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করেন টাং ও রবিনসন। দুজনই পাকিস্তানের পাঁচটি করে উইকেট তুলে নেন।

টাং ৪৬ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার করেন। অন্যদিকে রবিনসন ৫১ রান খরচ করে সমান ৫ উইকেট নেন।

হেন্ডিং টেস্ট ক্যারিয়ারে টাং চতুর্থবার পাঁচ উইকেট পেলেন। আর রবিনসনের জন্য এটি পঞ্চমবার পাঁচ উইকেট নেওয়ার ঘটনা।

টাং-রবিনসনের ১০ উইকেটে বিরল রেকর্ড

এক ইনিংসে ইংল্যান্ডের দুই বোলারের পাঁচটি করে উইকেট নেওয়ার ঘটনা বিরল। টেস্ট ইতিহাসে ইংল্যান্ডের হয়ে এটি ১৬তম ঘটনা।

এর আগে সর্বশেষ ২০০৬ সালে ইংল্যান্ডের দুই বোলার এই কীর্তি গড়েছিলেন। প্রতিপক্ষ সেবারও ছিল পাকিস্তান।

ম্যানচেস্টারের সেই টেস্টে পাঁচটি করে উইকেট নিয়েছিলেন মন্টি পানেসার ও স্টিভ হার্মিসন। এবার তাঁদের তালিকায় যোগ হলেন টাং ও রবিনসন।

ক্রিকেটের আরও খবর ও বিশ্লেষণ দৈনিক বাংলাভিউয়ের খেলাধুলা বিভাগে পড়তে পারেন।

হেডিংলি টেস্ট ম্যাচে প্রথম বলেই পাকিস্তানকে ধাক্কা রবিনসনের

ম্যাচের প্রথম বলেই পাকিস্তানকে বড় ধাক্কা দেন রবিনসন। তাঁর বলে সাজঘরে ফেরেন আজান আওয়াইস।

টেস্ট ইতিহাসে দ্বিতীয়বার কোনো পাকিস্তানি ব্যাটার ম্যাচের প্রথম বলে আউট হলেন। এর আগে এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৯৮৩ সালে।

ভারতের বিপক্ষে জলন্ধর টেস্টের প্রথম বলে আউট হয়েছিলেন মহসিন খান। এবার সেই বিরল তালিকায় যুক্ত হয়েছেন আজান আওয়াইস।

ইংল্যান্ডের মাটিতেও রবিনসন গড়েছেন বিশেষ কীর্তি। টেস্টের প্রথম বলে উইকেট নেওয়া চতুর্থ বোলার হয়েছেন তিনি।

এর আগে মরিস টেট, জিওফ আর্নল্ড ও রায়ান সাইডবটম এই কীর্তি গড়েছিলেন। ফলে রেকর্ড বইয়ে জায়গা পেয়েছেন রবিনসন।

ইমাম-শফিকের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা

চোট কাটিয়ে দলে ফেরা রবিনসন পঞ্চম ওভারে আবার আঘাত করেন। এবার তাঁর এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন শান মাসুদ।

মাত্র ৬ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে পাকিস্তান। এরপর প্রতিরোধ গড়েন ইমাম উল হক ও আবদুল্লাহ শফিক।

তৃতীয় উইকেটে তাঁরা ৯১ রান যোগ করেন। ফলে প্রাথমিক বিপর্যয় সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দেয় সফরকারীরা।

তবে টাংয়ের বলে ৪২ রানে বিদায় নেন ইমাম। স্লিপে ক্যাচ দেওয়ার পরই পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে নতুন করে ধস নামে।

শেষ সাত উইকেট গেল মাত্র ৭৪ রানে

ইমামের বিদায়ের পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় পাকিস্তান। শেষ সাতটি উইকেট মাত্র ৭৪ রানের মধ্যে হারায় সফরকারীরা।

দলের সর্বোচ্চ ৬১ রান করেন আবদুল্লাহ শফিক। তিনি ১০৪ বলের ইনিংসে আটটি চার মারেন।

শেষ পর্যন্ত রবিনসনের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড হন শফিক। এরপর পাকিস্তানের বাকি ব্যাটাররাও বড় প্রতিরোধ গড়তে পারেননি।

সৌদ শাকিল এলবিডব্লিউর শিকার হন। চা বিরতির আগে পরপর দুই বলে সালমান আগা ও আলি উসমানকে ফেরান টাং।

শেষ বিশেষজ্ঞ ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানও টাংয়ের শিকার হন। ফলে ৪৮.১ ওভারে ১৭১ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান।

ইংল্যান্ডের দুই ওপেনারও ফিরলেন দ্রুত

জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে ইংল্যান্ড ভালো শুরু পেলেও দুই ওপেনারকে হারায়। ৪৮ রানের মধ্যে দুজনই সাজঘরে ফিরে যান।

বেন ডাকেটকে এলবিডব্লিউ করেন মোহাম্মদ আব্বাস। এরপর মোহাম্মদ আলীর বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এমিলিও গে।

গে অবশ্য দ্রুত রান তুলেছিলেন। তিনি ৩১ বলে সাতটি চারের সাহায্যে ৩৩ রান করেন।

হেডিংলি টেস্ট রুট-কক্সের প্রতিরোধ

দুই ওপেনারের বিদায়ের পর ইংল্যান্ডকে আর বিপদে পড়তে দেননি জো রুট ও জর্ডান কক্স। তাঁরা সাবধানে দিন শেষ করেন।

অবিচ্ছিন্ন তৃতীয় উইকেট জুটিতে দুজন ৬৪ রান যোগ করেছেন। ফলে প্রথম দিনের শেষ ভাগে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে ইংল্যান্ড।

কক্স ৩৮ বলে ২৩ রান নিয়ে অপরাজিত রয়েছেন। অন্যদিকে রুট ৫৩ বলে ৩৭ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করবেন।

হেডিংলি টেস্ট পাকিস্তানের ব্যাটিং ধস প্রথম দিনেই ইংল্যান্ডকে এগিয়ে রেখেছে। তবে দ্বিতীয় দিনের শুরুতে পাকিস্তানের পেসারদের সামনে বড় সুযোগ থাকবে।

খেলাধুলার নিয়মিত আপডেট পেতে দৈনিক বাংলাভিউ X অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *