অধিকৃত পশ্চিম তীরে
ইসরাইলি বসতির পণ্যে নিষেধাজ্ঞা আনতে পারে বৃটেন

অধিকৃত পশ্চিম তীরে বেআইনিভাবে গড়ে ওঠা ইসরাইলি বসতির পণ্যে‘র সেবার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিতে যাচ্ছে বৃটেন। মঙ্গলবার বিকেলে হাউস অব কমন্সে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড এই পদক্ষেপের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি মিলিব্যান্ড জানিয়েছেন, বৃটেন ও ইসরাইলের মধ্যকার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নতুন করে পুনর্গঠন করা হবে।
আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে এসব ইসরাইলি বসতি সম্পূর্ণ অবৈধ। আন্তজার্তিক থেকে আরোও পড়ুন
এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই কড়া নিষেধাজ্ঞা আসছে, যখন পশ্চিম তীরে ইসরাইল নতুন করে ১ হাজার ২০০টি বাড়ি নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করেছে।
কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা
তবে বৃটেনের এই সম্ভাব্য কঠোর সিদ্ধান্তের কড়া বিরোধিতা করেছে মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্র।
এছাড়া সর্বশেষ খবরের জন্য X অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করুন।
ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বিবিসিকে জানিয়েছেন, বৃটেনের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্য পরবর্তীতে পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।
ইসরাইলি বসতির পণ্যে নিষেধাজ্ঞায় যাচ্ছে বৃটেন
এদিকে, বৃটেনের কর্ম ও পেনশনবিষয়ক মন্ত্রী প্যাট ম্যাকফ্যাডেন স্পষ্ট করেছেন যে, এই পদক্ষেপকে ইসরাইলের সঙ্গে সামগ্রিক ব্যবসা বয়কট হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
তিনি জানান, বেআইনি বসতি কার্যক্রমের ধারাবাহিক সম্প্রসারণের প্রতিক্রিয়ায় সরকার শেষ পর্যন্ত এই বাধ্যবাধকতামূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দুই রাষ্ট্র সমাধান ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক
ম্যাকফ্যাডেন আরও বলেন, ইসরাইল যদি অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রাখে,
তবে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান অর্জনের পথ আরও জটিল হয়ে পড়বে।
তিনি উল্লেখ করেন, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা—উভয় ক্ষেত্রেই ইসরাইলের সঙ্গে বৃটেনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একইসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান ইসরাইলি সরকারের সমালোচনা এবং বৃটেনে বসবাসরত ইহুদি সম্প্রদায়ের সাধারণ জীবনযাত্রার মধ্যে অবশ্যই স্পষ্ট পার্থক্য থাকা উচিত।
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও জাতীয় অবস্থান
বৃটেনে কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের শত্রুতামূলক আচরণকে তিনি মৌলিকভাবে ভুল বলে অভিহিত করেছেন।
তাই ইসরাইলি বসতির পণ্যে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, পশ্চিম তীরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান বৈশ্বিক অঙ্গনে বেশ সাড়া ফেলেছে।
ফলে মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে পরিবর্তন আনার বিষয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ আরও বৃদ্ধি পাবে।











