কারখানা থেকে শ্রমিক ছাঁটাই, সকালে এসে জানলেন চাকরি নেই

গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী জরুন এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী কেয়া গ্রুপের সুইং ও স্পিনিং সেকশনসহ বিভিন্ন ইউনিট থেকে হঠাৎ করে ৬২৭ জন পোশাক শ্রমিককে একযোগে ছাঁটাই করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় কারখানার মূল ফটকে গণছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের দীর্ঘ নামের তালিকা সাঁটিয়ে দেয় প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।
আজ মঙ্গলবার সকালে অন্যান্য সাধারণ দিনের মতো কাজে যোগ দিতে এসে নিজেদের নাম তালিকায় দেখতে পেয়ে চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ শ্রমিকেরা। দৈনিক বাংলাভিউ-এর বিশেষ গাজীপুর প্রতিনিধি শিল্পাঞ্চলের এই নজিরবিহীন শ্রমিক অসন্তোষের খবরটি নিশ্চিত করেছেন।
হঠাৎ চাকরি হারিয়ে অনিশ্চয়তায় শতাধিক শ্রমিকের পরিবার
দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সাথে চাকরি করা ভুক্তভোগী শ্রমিকেরা জানান যে, বিগত তিন মাস ধরে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম কিছুটা ধীরগতিতে চলছিল এবং তাঁদের অনেকের বেতন বকেয়া রয়েছে।
পূর্বাহ্নে কোনো প্রকার চিঠি বা মৌখিক নোটিশ না দিয়ে হঠাৎ করে সকালে কারখানায় এসে ছাঁটাইয়ের খবর পাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে তাঁরা চরম মানসিক ও আর্থিক সংকটে পড়েছেন। সন্তান-সন্ততিদের পড়াশোনা ও বাসাভাড়ার খরচ মেটানো নিয়ে শ্রমিকের মাঝে তীব্র হাহাকার সৃষ্টি হয়েছে।
শিল্প খাতের নিয়মিত খবর ও শ্রমিক অসন্তোষের আপডেট পেতে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে অনুসরণ করুন।
ব্যাংকিং জটিলতা ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে পদ বিলুপ্তি
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন ৬২৭ জন শ্রমিক ছাঁটাই সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষের অফিসিয়াল নোটিশ প্রাপ্তির বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
কেয়া গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের স্বাক্ষরিত নোটিশে জানানো হয় যে, তীব্র ব্যাংকিং জটিলতা, বকেয়া গ্যাস বিলের কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা এবং প্রশাসনিক অতিরিক্ত ব্যয় কমাতেই বাধ্য হয়ে কিছু পদ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। পোশাক খাতের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে সরাসরি আমাদের টুইটার পেজ-এ চোখ রাখুন।
শ্রম আইন অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে সব পাওনা পরিশোধের আশ্বাস
কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রম আইনের ২০ ধারা মোতাবেক এই পদ বিলুপ্তি ও গণছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। কেয়া গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, ছাঁটাই হওয়া প্রতিটি শ্রমিকের সব আইনসম্মত পাওনাদি আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে নিয়ম অনুযায়ী বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
তবে বকেয়া বেতন ও পাওনা দ্রুত পাওয়ার দাবিতে কারখানার মূল ফটকে শ্রমিকদের অবস্থান ও ক্ষোভ এখনো অব্যাহত রয়েছে।











