জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন। সোমবার নিউইয়র্ক স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে তাঁকে বহনকারী তুর্কি এয়ারলাইনসের ফ্লাইট জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীরা। সফরের আগে ঢাকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, নিউইয়র্কে তাঁর ব্যস্ত কূটনৈতিক ও বহুপক্ষীয় কর্মসূচি থাকবে।
ইস্তাম্বুলে দুই ঘণ্টা ৩৫ মিনিটের যাত্রাবিরতির পর ফ্লাইটটি নিউইয়র্কে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। পরে মোটর শোভাযাত্রায় তাঁকে হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্কে নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার থেকে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি
নিউইয়র্ক সফরের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে মঙ্গলবার। সকালে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত বিশ্বনেতা ও তাঁদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে স্বাগত প্রাতরাশে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী পর্বে অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে অংশ নেবেন তিনি।
দিনটিতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে এবং বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গের সঙ্গে বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাতের কথা রয়েছে।
রোহিঙ্গা ও জলবায়ু ইস্যুতে বৈঠক
২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক একটি সাইড ইভেন্টে অংশ নিয়ে দ্রুত প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইবেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিনে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় অংশ নেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।
২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ
২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। সরকারপ্রধান হিসেবে জাতিসংঘের এই মঞ্চে এটিই তাঁর প্রথম বক্তব্য। পররাষ্ট্রসচিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভাষণে গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে।
সফরকালে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের কর্মসূচিও রয়েছে। এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় আলোচনায় আসতে পারে। অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে মেটা, ওয়াল স্ট্রিটসহ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।
বর্তমান সূচি অনুযায়ী, ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
আরও পড়ুন
ভ্যাপসা গরমের মধ্যে স্বস্তি, বাড়ছে বৃষ্টির সম্ভাবনা
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কোস্টগার্ড মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ
সর্বশেষ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খবর পেতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের X পেজে যুক্ত থাকুন।








