সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে বসত হারানোর ঝুঁকিতে দক্ষিণ এশিয়ার কোটি মানুষ

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এখন আর দূরবর্তী আশঙ্কা নয়; দ্রুতগতিতে ঘটে চলা এই পরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়ার কোটি মানুষের বসত হারানোর ঝুঁকি তৈরি করেছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের ‘সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জ এবং তা মোকাবেলার উপায় ও পন্থা’ শীর্ষক নতুন প্রতিবেদনে এ সতর্কতা উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এনডিটিভি অনলাইন এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নথিভুক্ত ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হার অনেক বেশি।
এই হার ক্রমাগত ত্বরান্বিত হচ্ছে এবং উন্নত ও উন্নয়নশীল সব দেশের জন্যই বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনছে। এটি বৈশ্বিক পরিসরে বাড়তে থাকা গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচিত। দ্রুত আপডেট পেতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের X অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করুন।
অবকাঠামো ও অর্থনীতিতে বাড়ছে চাপ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি
সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ার ফলে শহুরে অবকাঠামো, বিদ্যুৎ গ্রিড, পরিবহন নেটওয়ার্ক, পানি সরবরাহব্যবস্থা এবং ভূগর্ভস্থ পানিসম্পদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও আর্থিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
একই সঙ্গে মানবাধিকারের কার্যকর ভোগের ক্ষেত্রেও বাধা সৃষ্টি করছে।ঝুঁকির ধরন অঞ্চলভেদে ভিন্ন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি ও নিউ ইয়র্ক এবং চীনের গুয়াংঝৌয়ের মতো উচ্চ আয়ের শহরগুলোতে উপকূলীয় অবকাঠামোর ওপর বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এসব শহরে ঝুঁকিতে থাকা সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ ট্রিলিয়ন থেকে ৩ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।
দক্ষিণ এশিয়ায় বাস্তুচ্যুতির আশঙ্কা
অন্যদিকে, দক্ষিণ এশিয়ার দুর্যোগঝুঁকির মধ্যে নিম্নভূমির ব-দ্বীপ অঞ্চলগুলোর চিত্র আলাদা। ভারতের কলকাতা ও মুম্বাই এবং বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মতো শহরগুলোতে সবচেয়ে বড় সংকট মানুষের বাস্তুচ্যুতি।
এসব শহরে ১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ স্থায়ীভাবে জলমগ্ন হওয়ার কারণে ঘরবাড়ি হারানোর তাৎক্ষণিক ঝুঁকিতে রয়েছেন।
সামাজিক ঝুঁকিকে সমান গুরুত্বের আহ্বান
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, উপকূলীয় দুর্বলতা ও ঝুঁকি মূল্যায়নে ব্যবহৃত সূচকগুলো আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানবজীবন ও বাস্তুচ্যুতির মতো সামাজিক ঝুঁকিকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অঞ্চলভেদে ঝুঁকির প্রকৃতি বদলে যাওয়ায় মূল্যায়নেও সেই পার্থক্য প্রতিফলিত হওয়া জরুরি বলে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ খবর ও আপডেট পেতে দৈনিক বাংলাভিউ WhatsApp চ্যানেল অনুসরণ করুন।











