রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) একসময় নাগরিকদের কাছে স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠছে। এরই মধ্যে রাজউকের মহাখালী জোনকে ঘিরে ‘ঘুষের সিন্ডিকেট’ পরিচালনার অভিযোগের কেন্দ্রে উঠে এসেছে পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়ার নাম।
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সালেহ্ আহমদ জাকারিয়ার অধীনে থাকা রাজউকের মহাখালী জোনে অনুমোদন, ফাইল নিষ্পত্তি ও নির্মাণসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমকে ঘিরে অর্থ আদায়ের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে।
এছাড়াও মহাখালী জোনের কয়েকজন নির্মাণ পরিদর্শক আইন ও বিধি প্রয়োগের পরিবর্তে ঘুষ আদায়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন অনুমোদন ও ফাইল আটকে রেখে অর্থ আদায়ের এই প্রক্রিয়া পরিচালকের জ্ঞাতসারেই সংগঠিত হচ্ছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছেন।
🔘 অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ:
এই চক্রের অন্যতম সহযোগী হিসেবে সক্রিয় মো: সোলাইমান হোসেনের নাম অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি তিনি এক সংবাদকর্মীর ওপর প্রকাশ্যে হামলা চালান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও সিসিটিভি ফুটেজে হামলার প্রমাণ থাকার পরও পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়া ঘটনাটিকে ‘তেমন কিছু না’ হিসেবে দেখিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জোড় চেষ্টা করেন।
পরবর্তীতে সেই চেষ্টা সফল না হলেও হামলার ঘটনায় কার্যকর বিচার না হওয়ায় প্রশাসনিক মদতের অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
🔘 ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বিতর্ক:
পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়ার বিরুদ্ধে পেশাগত অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নানা বিতর্কের তথ্য সামনে এসেছে। জানা যায়, অভিজাত ক্লাব, লাউঞ্জ ও বারগুলোতে তার নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে এবং তার জীবনযাপনে বেশকিছু জায়গায় নামেবেনামে সম্পত্তি, ফ্ল্যাট, জমি রয়েছে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল পদে থাকা একজন কর্মকর্তাকে ঘিরে দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের এসব অভিযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।