বিএনপির স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন ও মন্ত্রিসভায় রদবদলের গুঞ্জন: নতুন নেতৃত্বে কারা আসছেন?

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার পর বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো ও সরকার পরিচালনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে চারজন নতুন নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে মহাসচিব পদ শূন্য হওয়া, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে নতুন দায়িত্ব বণ্টন এবং সরকারের ছয় মাস পূর্তিতে মন্ত্রিসভায় সীমিত রদবদলের বিষয়টি এখন রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

গত ১৩ আগস্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে ঘোষণার ঠিক একদিন পর স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত আসে। নতুন করে কমিটিতে জায়গা পাওয়া চার নেতা হলেন রুহুল কবির রিজভী, আমানউল্লাহ আমান, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং ফরহাদ হালিম (ডোনার)। এই অন্তর্ভুক্তির ফলে বর্তমানে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির মোট সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে।

নতুন সদস্যদের মধ্যে রুহুল কবির রিজভী দীর্ঘদিন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বে আছেন। সাবেক সচিব ইসমাইল জবিউল্লাহ প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়া চিকিৎসক ফরহাদ হালিম জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এবং ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আমানউল্লাহ আমান দলের বিভিন্ন স্তরে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, দলের চেয়ারম্যান, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও মহাসচিব স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে গণ্য হন। চেয়ারম্যান কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিলে স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠনের পর বিভিন্ন সময়ে শূন্য হওয়া পদগুলোতে নতুনদের যুক্ত করা হয়েছে। তবে এবার একসঙ্গে চারজনকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি দলের ভেতরে ও বাইরে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ নিয়ে আলোচনার তালিকায় শামসুজ্জামান দুদু, আসাদুজ্জামান রিপন, জহির উদ্দিন স্বপন ও সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নামও ছিল। এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান রিপন জানান, দলের প্রধানের নেওয়া যেকোনো সিদ্ধান্তের প্রতি তিনি পূর্ণ আস্থা ও আনুগত্য বজায় রাখবেন। এদিকে, স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়া দীর্ঘদিন অসুস্থতার কারণে দলের কর্মকাণ্ডে নিষ্ক্রিয় রয়েছেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ায় তাঁর বর্তমান দায়িত্ব অর্থাৎ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সরকারের ছয় মাস পূর্তিতে মন্ত্রিসভার কার্যক্রম পর্যালোচনার পাশাপাশি দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্যমতে, রাষ্ট্রপতির শপথের আগে বড় ধরনের রদবদল না হলেও কয়েকজন নতুন মুখ যুক্ত করে মন্ত্রিসভায় সীমিত পরিবর্তন আনা হতে পারে।

মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে বিভিন্ন নাম আলোচনায় রয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে মির্জা ফখরুলের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরীর নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়া নতুন মুখ হিসেবে কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন, সেলিমা রহমান এবং আন্দালিভ রহমান পার্থের নামও আলোচনায় উঠে এসেছে। তবে সরকারের কোনো মন্ত্রী বা বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নেতারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এসব রদবদল নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

দলের মহাসচিব পদ শূন্য হওয়ার বিষয়টি নিয়েও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নাম এখনো ঘোষণা করা হয়নি, তবে রুহুল কবির রিজভীকে স্থায়ী কমিটির সদস্য করার পর তাঁকে আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়ার একটি সম্ভাবনা নিয়ে দলের ভেতরে গুঞ্জন রয়েছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তাঁর ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হবে। এই আসনে উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে তাঁর ছোট ভাই ও ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন এবং বড় মেয়ে মির্জা শামারুহের নাম স্থানীয়ভাবে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। তবে মির্জা পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির সাংগঠনিক ও সরকারি দায়িত্বের এই পুনর্বিন্যাস এখন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১৩ আগস্ট মির্জা ফখরুল ইসলামের প্রার্থিতার এক দিন পর স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করা হলো।

সরকার ও বিএনপির সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য নতুন মুখ হিসেবে কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা

যদিও সদস্যদের কারও কারও অন্তর্ভুক্তি দলের অনেকের মধ্যে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে।

তাঁরা হলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, রুহুল কবির রিজভী, আমানউল্লাহ আমান, মো.

অসুস্থতার কারণে বহু বছর ধরে তাঁকে দলের সভা ও কর্মসূচিতে দেখা যায় না।

সরকার ও বিএনপির সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য নতুন মুখ হিসেবে কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থের নাম আলোচনায় রয়েছে।

এ বিষয়ে এই প্রতিবেদক গত দুই দিনে সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *