বিমান বিক্রি ও লিজব্যাক কৌশলে ভিয়েটজেট এয়ারের রাজস্বে বড় উল্লম্ফন

২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ভিয়েটজেট এয়ার তাদের বিমান বিক্রি ও লিজব্যাক (এসএলবি) কার্যক্রমের মাধ্যমে রাজস্ব আয়ে বড় সাফল্য পেয়েছে। এই তিন মাসে প্রতিষ্ঠানটির মোট নিট রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৪৯৯ বিলিয়ন ভিয়েতনামি ডং, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭০ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।

ভিয়েটজেট এভিয়েশন জয়েন্ট স্টক কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বা প্রথম ছয় মাসে তাদের মোট রাজস্ব ৫১ হাজার ৫৩৬ বিলিয়ন ডংয়ে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।

প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব বৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি ছিল উড়োজাহাজ ও ইঞ্জিনের ব্যবস্থাপনা, মালিকানা হস্তান্তর এবং এসএলবি কার্যক্রম। এই খাত থেকে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১২ হাজার ১৫৬ বিলিয়ন ডংয়ের বেশি আয় হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২৮ দশমিক ৩ গুণ বেশি।

এটি কোম্পানির মোট নিট রাজস্বের প্রায় ৩৯ দশমিক ৯ শতাংশ। বিমান বিক্রি ও লিজব্যাক হলো এমন একটি কৌশল, যেখানে এয়ারলাইন তাদের মালিকানাধীন বিমান লিজ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে পুনরায় তা লিজ নিয়ে পরিচালনা করে, যার ফলে তাৎক্ষণিক নগদ অর্থ প্রাপ্তি নিশ্চিত হয়।

যাত্রী পরিবহন খাতেও ভিয়েটজেট ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে পরিবহন খাত থেকে আয় হয়েছে ১৭ হাজার ২৬৫ বিলিয়ন ডং, যা আগের বছরের চেয়ে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক রুটে আয় হয়েছে ৪ হাজার ৩০০ বিলিয়ন ডং, যা এক বছরে ৪০ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে।

তবে অভ্যন্তরীণ যাত্রী পরিবহন থেকে আয় হয়েছে ৪ হাজার ৯৪৫ বিলিয়ন ডং, যা গত বছরের প্রায় সমান। অন্যদিকে, আনুষঙ্গিক সেবা থেকে আয় ২২ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৩৫৭ বিলিয়ন ডংয়ে নেমেছে।

রাজস্ব বাড়লেও পরিচালন ব্যয়ের চাপে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ভিয়েটজেটের কর-পরবর্তী মুনাফা ৩৫৯ বিলিয়ন ডংয়ে নেমে এসেছে, যা গত বছরের তুলনায় ৪৬ দশমিক ৫ শতাংশ কম। জেট এ-১ জ্বালানির উচ্চমূল্য, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক আকাশপথে বিভিন্ন বিঘ্ন মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বছরের প্রথম ছয় মাসে প্রতিষ্ঠানটির কর-পরবর্তী মুনাফা ৬ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩৭২ বিলিয়ন ডংয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির ওপর উচ্চ জেট এ-১ জ্বালানি মূল্য, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক আকাশপথে বিঘ্নের প্রভাব পড়েছে।

এর মাধ্যমে বিমান সংস্থা তাৎক্ষণিকভাবে বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করতে পারে এবং একই সঙ্গে বিমানটি ব্যবহার অব্যাহত রাখতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *