১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে এবারও দেশের শোবিজ অঙ্গনের তারকারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের ব্যক্তিগত অনুভূতি ও অবস্থান তুলে ধরেছেন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে সপরিবারে নিহত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দিনটি জাতীয় শোক দিবস হিসেবে নানা আনুষ্ঠানিকতায় পালিত হলেও, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবার চিত্রটি ভিন্ন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দিনটি আগের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত না হলেও শোবিজের অনেক পরিচিত মুখ তাদের নিজস্ব ভঙ্গিতে শোক ও স্মরণের বার্তা দিয়েছেন।
অভিনেত্রী জয়া আহসান বঙ্গবন্ধুর একটি ভাস্কর্যের ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, “১৫ আগস্ট। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শ্রদ্ধা ও শোকে স্মরণ।” অন্যদিকে, অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ইতিহাস ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির জটিলতা নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেছেন।
তিনি জানান, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর ইতিহাস যে বিকৃত বা রাজনৈতিকভাবে ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হতে পারে, তা তিনি নতুন করে উপলব্ধি করেছেন। তাই কোনো একক বয়ানের ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে তিনি নারাজ।
তবে বাঁধন স্পষ্ট করেছেন যে, শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের নির্মমতাকে কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না। তার মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা ইতিহাসের ভিন্ন ব্যাখ্যা কখনোই মানুষের জীবনের মূল্যকে খাটো করতে পারে না এবং কোনো ধরনের সহিংসতাকে সমর্থনযোগ্য করে তোলে না। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর প্রারম্ভিক রাজনৈতিক অবদানকে তিনি সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করেছেন এবং ইতিহাসকে সত্য ও সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
অন্যান্য তারকারাও তাদের নিজস্ব অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। অভিনেতা খায়রুল বাসার লিখেছেন, “আমার পছন্দ সাধারণ সত্য, যা দিয়ে কোনোদিন কারো মুখোশ হয় না। যে নামের পরিনামে এই দেশ এই বাংলা… তুমি বাংলার ধ্রুবতারা।” অভিনেতা আরশ খান বঙ্গবন্ধুর ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, “প্রতি বছরই বিপদে ফেলে দেন। আবারও ফেলবেন জানি। আপনার আত্মার শান্তি কামনা করছি।” এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানে সরব থাকা অভিনেত্রী নাজিয়া হক অর্ষাও বঙ্গবন্ধুর ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছেন, “বাংলাদেশ…”
এই তালিকায় আরও যুক্ত হয়েছেন অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী, মিলন ভট্টাচার্য, নাজিফা তুষি, মাহিয়া মাহি, অরুণা বিশ্বাস, তুষ্টি, তানভীন সুইটি ও দোয়েল। সংগীতশিল্পী কোনাল ও পান্থ কানাইয়ের পাশাপাশি নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিম, দীপঙ্কর দীপন এবং মেজবাউর রহমান সুমনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে তারকাদের এসব পোস্টে শোকের পাশাপাশি ইতিহাসের জটিলতা ও ভিন্ন ব্যাখ্যার দোলাচল ফুটে উঠেছে।
রাজনৈতিকভাবে পরিবর্তিত এই সময়ে তারকাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টগুলো দিনটিকে ঘিরে ভিন্ন ভিন্ন অভিব্যক্তির জায়গা তৈরি করেছে। কেউ সংক্ষিপ্ত শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছেন, আবার কেউ ইতিহাসের প্রেক্ষাপট ও হত্যাকাণ্ডের অন্যায়কে আলাদাভাবে দেখার চেষ্টা করেছেন। তারকাদের এই ব্যক্তিগত অবস্থানগুলো মূলত ১৫ আগস্টকে ঘিরে তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন ঘটিয়েছে।