তাইজে সৌদি জোটের বিমান হামলায় দুই শিশুসহ নিহত ৩

ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে হুথি নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। হামলায় আরও দুজন আহত হয়েছেন বলে ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
আল জাজিরাও একই হতাহতের তথ্য প্রকাশ করেছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ এ দাবির বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। তাইজের ধুবাব ও মাকবানাহ জেলায় এসব বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলার পর হতাহতদের বিষয়ে তথ্য সামনে এলেও তাদের পরিচয় বা বয়স সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ফলে এ মুহূর্তে হামলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
তাইজে নতুন করে তীব্র হচ্ছে সংঘাত
ইয়েমেনে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুথি ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থিত বাহিনীর মধ্যে লড়াই আবার বেড়েছে। তাইজও এই সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি বাহিনী হুথিদের কাছ থেকে কয়েকটি অবস্থান পুনর্দখল করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এরপর প্রদেশটির কয়েকটি এলাকায় সামরিক চাপ ও পাল্টা হামলা বাড়ছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথি-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী ধুবাব ও মাকবানাহতে চালানো হামলায় তিনজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তাই হতাহতের তথ্যটি বর্তমানে হুথি-নিয়ন্ত্রিত কর্তৃপক্ষের দেওয়া হিসাব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। —আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন।
সংঘাতের বিস্তৃত প্রভাব
তাইজে লড়াই বাড়ার ঘটনাটি ইয়েমেনের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির নতুন অবনতির অংশ। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে হুথিদের অগ্রগতি এবং তাদের বিরুদ্ধে সরকারি ও সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর পাল্টা তৎপরতা সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করেছে। এতে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির পর ইয়েমেনে সহিংসতা কিছুটা কমেছিল। তবে সাম্প্রতিক লড়াই আবারও সেই স্থিতি দুর্বল করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে তাইজে সামরিক অগ্রগতি, বিমান হামলা এবং বেসামরিক হতাহতের ঘটনা পরবর্তী সংঘাতের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
একই সঙ্গে নতুন করে বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক সংকটের চাপ বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।











