অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের দায়ে চট্টগ্রামে বাবা-ছেলের কারাদণ্ড

চট্টগ্রামে বাবা-ছেলের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অবৈধ সম্পদ অর্জন, তথ্য গোপন এবং অবৈধ সম্পদ বৈধ করার চেষ্টার দায়ে এই সাজা হয়েছে। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালত রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কক্সবাজারের টেকনাফের মো. আবদুল্লাহ ও তাঁর বাবা আবুল বশর। তবে রায়ের সময় তাঁরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে বাবা-ছেলের কারাদণ্ডের মামলার শুরু

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ এপ্রিল মো. আবদুল্লাহকে নোটিশ দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন। তাঁকে সম্পদ বিবরণী দাখিল করতে বলা হয়।

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি সম্পদ বিবরণী জমা দেননি। পাশাপাশি সময় বাড়ানোর জন্য কোনো আবেদনও করেননি।

এরপর দুদক তাঁর সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধানে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।

আবদুল্লাহর সম্পদের হিসাবে বড় অসংগতি

দুদকের অনুসন্ধানে আবদুল্লাহর নামে ১ কোটি ১০ লাখ ২৩ হাজার ৬৫ টাকার সম্পদ পাওয়া যায়। এর মধ্যে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে।

অন্যদিকে, তাঁর বৈধ আয়ের উৎস ছিল মাত্র ১০ লাখ টাকা। ফলে সম্পদের বড় অংশ বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।

দুদকের হিসাবে ১ কোটি ১৩ হাজার ৬৫ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে প্রমাণিত হয়।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে চার বছরের সাজা

দুদকের পিপি মোকাররম হোসাইন রায়ের বিস্তারিত জানিয়েছেন। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, মো. আবদুল্লাহকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে তাঁকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁকে অর্থদণ্ডও দিয়েছেন আদালত।

আবদুল্লাহকে ৮৪ লাখ ৪৫ হাজার ৮৫৮ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ফলে কারাদণ্ডের পাশাপাশি বড় অঙ্কের আর্থিক দণ্ডও রয়েছে।

দুর্নীতি ও আদালতসংক্রান্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ পড়ুন দৈনিক বাংলাভিউয়ে

বাবা আবুল বশরের তিন বছরের কারাদণ্ড

মামলায় আবদুল্লাহর বাবা আবুল বশরকেও দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত। তাঁকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অবৈধ সম্পদ বৈধ করার অপচেষ্টায় তাঁর সহায়তার বিষয়টি আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। তাই তাঁকেও শাস্তির আওতায় আনা হয়।

তদন্তে টেকনাফের একটি জমির লেনদেনের তথ্য সামনে আসে। আবুল বশর ২০ লাখ টাকা দিয়ে ওই জমি কিনেছিলেন।

হেবা দলিলে ছেলের নামে জমি

জমি কেনার মাত্র তিন মাস পর মালিকানায় পরিবর্তন আসে। আবুল বশর জমিটি তাঁর বড় ছেলে মো. আবদুল্লাহকে দিয়ে দেন।

এ ক্ষেত্রে হেবা দলিল করা হয়েছিল। তদন্তে এই লেনদেনকে অবৈধ সম্পদ বৈধ করার অপচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হয়।

এই অপচেষ্টায় সহায়তার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়। ফলে আবুল বশরকে তিন বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে বাবা-ছেলের কারাদণ্ডের রায়

চট্টগ্রামে বাবা-ছেলের কারাদণ্ড এর রায় বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হয়। সাত কর্মদিবসের মধ্যে রায় দিয়ে মামলাটির নিষ্পত্তি করেছেন আদালত।

তবে রায় ঘোষণার সময় দুই আসামির কেউ আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সাজা পরোয়ানামূলে দুজনের বিরুদ্ধেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আদালতের রায় অনুযায়ী পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলবে।

দৈনিক বাংলাভিউয়ের সর্বশেষ আপডেট পেতে আমাদের X অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *