মার্কিন নৌবাহিনী একের পর এক সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সমুদ্রভিত্তিক সামরিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
জাহাজ নির্মাণে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে কারিগরি ত্রুটি। দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটছে। এ ছাড়া দীর্ঘ মোতায়েন নাবিকদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। ফলে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন নৌবাহিনী এখন বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
মার্কিন নৌবাহিনীর কারিগরি ত্রুটি
সম্প্রতি দক্ষিণ চীন সাগরে অভিযান চালাচ্ছিল ইউএসএস বেনফোল্ড। এ সময় জাহাজটিতে গুরুতর কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়।
গত ২৪ জুলাই জাহাজটির জেনারেটর বিকল হয়। ফলে এটি চার দিন বিদ্যুৎহীন ছিল। এতে খাবার সরবরাহ ব্যাহত হয়।
পাশাপাশি শৌচাগার ব্যবহারেও সমস্যা দেখা দেয়। শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়। বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেয়। বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনী ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছে।
আরও পড়ুন: দৈনিক বাংলাভিউয়ের আন্তর্জাতিক সংবাদ
মার্কিন নৌবাহিনী দীর্ঘ মোতায়েন
এদিকে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে প্রায় ৫ হাজার নৌসদস্য রয়েছেন। তারা দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে আছেন।
গত নভেম্বর থেকে এই মোতায়েন শুরু হয়। পরে কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়। জাহাজটি ২৫০ দিনের বেশি সমুদ্রে রয়েছে।
এতে খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি পানির সমস্যাও রয়েছে। নষ্ট পাইপলাইন নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে নাবিকদের ক্লান্তি বেড়েছে। তবে মার্কিন নৌবাহিনী কিছু অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজে আগুন
অন্যদিকে ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডে গত মার্চে আগুন লাগে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। জাহাজটির লন্ড্রি এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়।
আগুন নিয়ন্ত্রণে ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। এতে দুই নাবিক আহত হন। ধোঁয়ায় অনেকে অসুস্থ হন।
মার্কিন নৌবাহিনীর একাধিক দুর্ঘটনা
ইউএসএস হ্যারি এস ট্রুম্যানও গত বছর দুর্ঘটনার শিকার হয়। মিসরের পোর্ট সাঈদের কাছে সংঘর্ষটি ঘটে। একটি বাণিজ্যিক জাহাজের সঙ্গে এর সংঘর্ষ হয়।
এ ছাড়া লোহিত সাগরে দুটি এফ/এ-১৮ যুদ্ধবিমান হারায়। তদন্তে দুর্বল যোগাযোগের বিষয়টি উঠে আসে। সীমিত প্রশিক্ষণের কথাও উঠে আসে। পাশাপাশি অতিরিক্ত চাপ শনাক্ত হয়। এসব দুর্ঘটনায় ১০ কোটি ডলারের বেশি ক্ষতি হয়েছে।
মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ নির্মাণে বিলম্ব
সরকারি হিসাব পর্যবেক্ষণ সংস্থা জিএও এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিয়েছে। সংস্থাটির মতে, জাহাজ নির্মাণে বাজেট প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গত দুই দশকে এই পরিবর্তন ঘটেছে।
তবে নৌবহরের আকার বাড়েনি। বরং গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে দীর্ঘ বিলম্ব হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে।
তথ্যসূত্র: U.S. Government Accountability Office (GAO)
মার্কিন নৌবাহিনী নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
চীনের নৌবাহিনী দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ বাড়ছে। চীনের নৌবহরে ৩৭০টির বেশি জাহাজ রয়েছে। মার্কিন নৌ গোয়েন্দা দপ্তর এই তথ্য দিয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহরে ৩০০টিরও কম জাহাজ রয়েছে। কয়েক বছর ধরে এই সংখ্যা ৩০০-এর নিচে।
সব মিলিয়ে দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন চাপ বাড়াচ্ছে। এর সঙ্গে রয়েছে রক্ষণাবেক্ষণ সমস্যা। পাশাপাশি জাহাজ নির্মাণেও বিলম্ব হচ্ছে। ফলে মার্কিন নৌবাহিনী বড় ধরনের সংকটের মুখে রয়েছে।