ত্রাণকর্মীদের জন্য টানা তৃতীয় বছর বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান গাজা

ত্রাণকর্মীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ গাজা টানা তৃতীয় বছর বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য এই ভয়াবহ পরিস্থিতি তুলে ধরেছে। ২০২৫ সালেও বহু মানবিক সহায়তাকর্মী সেখানে প্রাণ হারিয়েছেন।

জাতিসংঘের হিসাবে, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে অন্তত ৩২৬ জন মানবিক সহায়তাকর্মী নিহত হয়েছেন। গত তিন বছরে নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। গাজা ও পশ্চিম তীরেই ৫৬০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন।

ত্রাণকর্মীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ গাজা তে প্রাণহানি

গাজা টানা তৃতীয় বছরের মতো সবচেয়ে বিপজ্জনক এলাকা হয়েছে। সংঘাতের মধ্যে সেখানে মানবিক কার্যক্রম চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

২০২৫ সালে গাজায় ১৮৬ জন মানবিক সহায়তাকর্মী নিহত হয়েছেন। এরপর তালিকায় রয়েছে সুদান। সেখানে একই সময়ে ৭১ জন ত্রাণকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।

ফলে গাজা ও সুদানের পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে। জীবন রক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছাতে গিয়েও কর্মীরা মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।

বিশ্বজুড়ে ত্রাণকর্মীদের হতাহতের চিত্র

এইড ওয়ার্কার সিকিউরিটি ডাটাবেসেও ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। ২০২৫ সালে মোট ৯০৭ জন সহায়তাকর্মী হতাহত বা অপহৃত হয়েছেন।

এর মধ্যে নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন হিসাবে পার্থক্য রয়েছে। জাতিসংঘ অন্তত ৩২৬ জন নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে। অন্য হিসাবে সংখ্যাটি বেশি।

২০২৪ সালেও ত্রাণকর্মীদের প্রাণহানি রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছিল। তবে পরের বছর সামগ্রিক হতাহত ও অপহরণের ঘটনা আরও বেড়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, তিন বছরে এক হাজারের বেশি ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন। আগের তিন বছরের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় তিনগুণ।

ত্রাণকর্মীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ গাজা ও পশ্চিম তীরে পাঁচ শতাধিক প্রাণহানি

গত তিন বছরের প্রাণহানির বড় অংশ ঘটেছে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে। গাজা ও পশ্চিম তীরে ৫৬০ জনের বেশি কর্মী নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে সুদানে একই সময়ে ১৩০ জন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ সুদানেও বহু মানবিক কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। ইউক্রেনেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

জাতিসংঘের বিস্তারিত তথ্য মানবিক সহায়তাকর্মীদের নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিবেদনে পাওয়া যায়।

সশস্ত্র ড্রোন বাড়াচ্ছে নিরাপত্তা ঝুঁকি

সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সশস্ত্র ড্রোনের ব্যবহারও বাড়ছে। এসব ড্রোন তুলনামূলক সস্তা এবং সহজলভ্য। ফলে মানবিক কর্মীদের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এদিকে হামলা ও সামরিক তৎপরতা সহায়তা কার্যক্রমেও বাধা সৃষ্টি করছে। নিরাপদে খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

স্থানীয় কর্মীরাও বড় ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মীরাও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।

ত্রাণকর্মীদের সুরক্ষায় জবাবদিহির আহ্বান

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে হামলার ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। জাতিসংঘও মানবিক কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে দৈনিক বাংলাভিউয়ের আরও আন্তর্জাতিক সংবাদ পড়তে পারেন। সেখানে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঘটনার সর্বশেষ তথ্য পাওয়া যাবে।

২০২৬ সালেও অব্যাহত প্রাণহানি

নতুন বছরেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বরং ত্রাণকর্মীদের ওপর হামলা এবং হতাহতের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।

চলতি বছরেও বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় মানবিক কর্মীরা নিহত হয়েছেন। আহত ও অপহরণের ঘটনাও নিয়মিতভাবে সামনে আসছে।

ফলে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক এলাকায় সাধারণ মানুষের কাছে জরুরি সেবা পৌঁছানোও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ত্রাণকর্মীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ গাজা সহায়তার সংকট

ত্রাণকর্মীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ গাজা এখন মানবিক কার্যক্রমের বড় চ্যালেঞ্জ। কর্মীরা জীবন বাজি রেখে খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন।

তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি তাঁদের কাজ কঠিন করছে। একই সঙ্গে বেসামরিক মানুষের প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার সুযোগও সংকুচিত হচ্ছে।

সব মিলিয়ে ত্রাণকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন বড় আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ। কার্যকর সুরক্ষা ছাড়া মানবিক সহায়তা কার্যক্রম আরও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *