১৬ বছর বয়সে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন লক্ষ্মণন মেইয়াপ্পান

কৈশোরের সাধারণ গণ্ডি পেরিয়ে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবনার বয়সেই পেশাদার চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন লক্ষ্মণন মেইয়াপ্পান। দুবাইতে ১৬ বছর এবং ১৪১ দিন বয়সে এই অনন্য কীর্তি অর্জন করায় গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস তাকে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ পুরুষ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তার এই অর্জন বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মেইয়াপ্পানের এই যাত্রার শুরুটা হয়েছিল কোভিড-১৯ মহামারির কঠিন সময়ে। দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষা শেষ করার পরপরই তিনি ফাইন্যান্স বা অর্থবিদ্যার জগতে পা রাখেন।

পিডব্লিউসি একাডেমির আগের একটি প্রোফাইলে বলা হয়েছিল যে, তার মা কোভিড-১৯ লকডাউনের সময় তাকে অ্যাকাউন্টিং-এর প্রাথমিক ধারণাগুলোর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। মেয়াপ্পানের মা নিজেও একজন এসিসিএ, যার অনুপ্রেরণায় তিনি এই পেশায় আসার সিদ্ধান্ত নেন। ১৫ বছর বয়সে তিনি এসিসিএ যোগ্যতার জন্য পড়াশোনা শুরু করেন এবং প্রায় এক বছরে তা সম্পন্ন করেন। এত অল্প বয়সে এসিসিএ সম্পন্ন করা তার শিক্ষাজীবনের একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

এরপর থেকে মেইয়াপ্পান তার শিক্ষাগত ও পেশাগত প্রোফাইল আরও সমৃদ্ধ করতে থাকেন। তিনি সিএফএ চার্টার অর্জন করেন এবং বর্তমানে ফাইন্যান্সে এমএসসি করছেন। তিনি এখন দুবাইয়ের সেঞ্চুরি ফাইন্যান্সিয়ালে সিনিয়র রিসার্চ অ্যানালিস্ট হিসেবে কাজ করছেন, যেখানে তার দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে বিনিয়োগ গবেষণা, বিশ্লেষণ এবং আর্থিক বাজারের জটিল সিদ্ধান্ত গ্রহণ। পড়াশোনা ও ফাইন্যান্সের বাইরেও তার বহুমুখী আগ্রহ রয়েছে; তিনি অবসর সময়ে ঘড়ি ডিজাইন ও তৈরির কাজে সময় কাটাতে পছন্দ করেন।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্বীকৃতি পাওয়ার পর মেইয়াপ্পান বলেন, ‘এই মাইলফলকটি আমার কাছে অনেক অর্থবহ, কিন্তু আমি যোগ্যতা অর্জনকে কখনো প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখিনি। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল বাস্তব জগতে ফাইন্যান্স কীভাবে কাজ করে তা বোঝা এবং এমন দক্ষতা তৈরি করা, যা সময়ের সাথে সাথে প্রাসঙ্গিক থাকে। যখন শেখার চালিকাশক্তি হয় কৌতূহল, তখন তার ফলাফল অনেক বেশি অর্থবহ হয়।’ তার এই অসামান্য সাফল্য তরুণ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *