রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রতিরক্ষা শিল্পে তুরস্কের অভাবনীয় উত্থান: আমদানিকারক থেকে বিশ্বমানের রপ্তানিকারক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৩:০৩ এম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
প্রতিরক্ষা শিল্পে তুরস্কের অভাবনীয় উত্থান: আমদানিকারক থেকে বিশ্বমানের রপ্তানিকারক

মাত্র আড়াই দশকের ব্যবধানে তুরস্ক তার প্রতিরক্ষা শিল্পে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করেছে। একসময় সামরিক সরঞ্জামের জন্য বিদেশনির্ভর দেশটি এখন নিজস্ব যুদ্ধবিমান, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধজাহাজ তৈরির সক্ষমতা অর্জন করে বিশ্ববাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।

২০০২ সালে তুরস্কে প্রতিরক্ষা খাতে কোম্পানির সংখ্যা ছিল মাত্র ৫৬টি, যা বর্তমানে বেড়ে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি হয়েছে। একই সময়ে প্রতিরক্ষা প্রকল্পের সংখ্যা ৬২ থেকে বেড়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০-তে পৌঁছেছে। এই প্রকল্পগুলোর মোট আর্থিক মূল্য ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে এখন ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের রপ্তানিতে উল্লম্ফন

তুরস্কের প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ খাতের রপ্তানি আয়েও এসেছে বিশাল উল্লম্ফন। ২০০২ সালে এই খাতের রপ্তানি ছিল মাত্র ২৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা ২০২৫ সালে ১০ দশমিক শূন্য ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেই ৫ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলারের সামরিক ও মহাকাশ পণ্য রপ্তানি হয়েছে। জুলাই পর্যন্ত বার্ষিক হিসাবে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার।

বর্তমানে তুরস্ক বিশ্বের ১১তম বৃহত্তম প্রতিরক্ষা রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে স্বীকৃত এবং খুব দ্রুতই শীর্ষ দশের তালিকায় প্রবেশের পথে রয়েছে।

ড্রোন ও যুদ্ধবিমান নির্মাণে অগ্রগতি

এই রূপান্তরের অন্যতম বড় প্রতীক তুরস্কের ড্রোন প্রযুক্তি। বাইকার নির্মিত বায়রাকতার টিবি২ ড্রোন সিরিয়া, লিবিয়া, কারাবাখ ও ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের কার্যকারিতা প্রমাণ করে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পেয়েছে। এরপর আকিঞ্জি এবং মনুষ্যবিহীন যুদ্ধবিমান কিজিলেলমা তুরস্কের ড্রোন সক্ষমতাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে।

আকাশ প্রতিরক্ষার পাশাপাশি যুদ্ধবিমান তৈরিতেও বড় অগ্রগতি হয়েছে। তুর্কিশ অ্যারোস্পেস তৈরি করছে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ‘কান’, উন্নত প্রশিক্ষণ ও হালকা যুদ্ধবিমান ‘হুরজেট’ এবং বিভিন্ন ধরনের ড্রোন ও হেলিকপ্টার।

কান যুদ্ধবিমান ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম সফল উড্ডয়ন সম্পন্ন করেছে। ইন্দোনেশিয়া এরই মধ্যে ৪৮টি কান যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুদ্ধজাহাজ ও আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা

সমুদ্রেও নিজেদের সক্ষমতা বাড়িয়েছে তুরস্ক। দেশটির মিলগেম প্রকল্পের মাধ্যমে করভেট ও ফ্রিগেটসহ বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করা হচ্ছে। নতুন প্রজন্মের সাবমেরিন এবং আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতাসম্পন্ন যুদ্ধজাহাজ তৈরির কাজও চলমান রয়েছে।

তুরস্কের তৈরি টিসিজি আনাদোলু থেকে ড্রোন পরিচালনার নতুন ধারণাও বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে রকেটসান। আর রাডার, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, যোগাযোগ ও নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তিতে বড় ভূমিকা রাখছে আসেলসান।

হিসার ও সিপার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং ‘স্টিল ডোম’ নামে বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ করছে দেশটি।

স্থল প্রতিরক্ষা ও দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ

স্থল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাতেও তুরস্কের অগ্রগতি ঈর্ষণীয়। আলতাই প্রধান যুদ্ধট্যাংকের পাশাপাশি এফএনএসএস ও ওতোকারের তৈরি বিভিন্ন সাঁজোয়া যান এখন আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা শিল্পে বর্তমানে তুরস্কে এক লাখের বেশি মানুষ সরাসরি কাজ করছেন। গত ২৫ বছরে তুরস্কের গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে ব্যয় ৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার থেকে বেড়ে ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে। দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহারও ২০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮৫ শতাংশের বেশি হয়েছে।

বর্তমানে তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের পণ্য প্রায় ১৮৫টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে এবং প্রায় ২৩০ ধরনের পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিশ্ববাজারে তুরস্কের শক্ত অবস্থান

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি অস্ত্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে নিজস্ব প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলাই তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের সবচেয়ে বড় অর্জন।

যুদ্ধবিমান থেকে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র থেকে যুদ্ধজাহাজ—সব ক্ষেত্রেই দেশটি এখন নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বৈশ্বিক অস্ত্রবাজারে শক্ত অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছে।

এই অগ্রযাত্রায় ডেইলি সাবাহ, রকেটসান, তুসাস, বাইকারটেক ও আসেলসানের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তুরস্কের এই অপ্রতিরোধ্য গতি বিশ্ব ভূ-রাজনীতিতে দেশটির প্রভাবকে আরও সুসংহত করেছে।

ইমরানের ছেলেদের সাক্ষাৎকারে স্কাই স্পোর্টসের ওপর ক্ষুব্ধ পিসিবি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ২:২৯ পিএম
ইমরানের ছেলেদের সাক্ষাৎকারে স্কাই স্পোর্টসের ওপর ক্ষুব্ধ পিসিবি

স্কাই স্পোর্টসের ওপর পিসিবির ক্ষোভ তৈরি হয়েছে ইমরান খানের দুই ছেলের একটি সাক্ষাৎকার ঘিরে। লর্ডসে ইংল্যান্ড-পাকিস্তান দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনে সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটি।

সুলাইমান খান ও কাসিম খানের সাক্ষাৎকার নেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইক আথারটন। সেখানে তারা কারাবন্দি বাবার স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

স্কাই স্পোর্টসের ওপর পিসিবির আপত্তি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাক্ষাৎকার প্রচারের আগেই স্কাই স্পোর্টসের সঙ্গে যোগাযোগ করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।

সাক্ষাৎকার দেখানো হলে ক্রিকেটাররা মাঠে না ফেরার বিষয়টিও বিবেচনায় ছিল।

তবে পিসিবির আপত্তি সত্ত্বেও ১৮ মিনিটের সাক্ষাৎকারটি শেষ পর্যন্ত প্রচার করে স্কাই স্পোর্টস।

এরপর পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা নির্ধারিত সময়েই মাঠে ফেরেন। পাকিস্তানে সিরিজ সম্প্রচারকারী রাষ্ট্রীয় চ্যানেল পিটিভি অবশ্য সাক্ষাৎকারটি দেখায়নি।

ফলে স্কাই স্পোর্টসের ওপর পিসিবির ক্ষোভ নিয়ে ক্রিকেট অঙ্গনে আলোচনা বাড়ে।

ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে ছেলেদের উদ্বেগ

সুলাইমান ও কাসিম জানান, প্রায় তিন বছর ধরে কারাগারে থাকা বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। একই সঙ্গে উপযুক্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি ইমরানকে ইসলামাবাদের শিফা হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

তবে তাকে পিমস হাসপাতালে পরীক্ষার পর আবার কারাগারে পাঠানো হয়।

ইমরানের পরিবার এ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। তারা ব্যক্তিগত চিকিৎসকের মাধ্যমে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সুযোগ চায়।

সাবেক অধিনায়কদেরও চিকিৎসার আহ্বান

ইমরানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ২১ জন সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে চিঠি দিয়েছেন।

তাদের মধ্যে মাইক আথারটনসহ বিভিন্ন দেশের সাবেক অধিনায়ক রয়েছেন।

অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার ইমরানের প্রতি নির্যাতন বা সাক্ষাতে বাধার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সরকারের দাবি, বন্দি হওয়ার পর বহুবার পরিবার ও আইনজীবীরা তার সঙ্গে দেখা করেছেন।

২০২৩ সালের আগস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে রয়েছেন ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান।

তিনি ও পিটিআই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

দৈনিক বাংলাভিউয়ের খেলাধুলার আরও খবর পড়ুন। নিয়মিত আপডেট পাওয়া যাবে দৈনিক বাংলাভিউয়ের এক্স অ্যাকাউন্টে

নেপাল-তিব্বত বন্যায় ৩০ দেশের নাগরিক নিখোঁজ, উদ্ধার অব্যাহত

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৪:১৫ এম
নেপাল-তিব্বত বন্যায় ৩০ দেশের নাগরিক নিখোঁজ, উদ্ধার অব্যাহত

নেপাল-তিব্বত বন্যায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে। শনিবারের সর্বশেষ হিসাবে দুই অঞ্চলে অন্তত ৬৭৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। প্রায় তিন হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ, যাদের মধ্যে বহু বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।

নেপালের দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে ২ হাজার ৪২৬ জন এখনো নিখোঁজ। তিব্বতের গিরোং কাউন্টিতে পাঁচ শতাধিক মানুষের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

উদ্ধার অভিযানে হেলিকপ্টার, সেনা, পুলিশ ও বিশেষায়িত দল কাজ করছে।

নেপাল-তিব্বত বন্যায় ৩০টির বেশি দেশের নাগরিক নিখোঁজ

নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের নাগরিক রয়েছেন।

নেপালের পর্যটন কর্তৃপক্ষের হিসাবে ৩০টির বেশি দেশের নাগরিক দুর্যোগের সময় ওই অঞ্চলে ছিলেন।

অনেকেই কৈলাস-মানসসরোবরগামী পর্যটক ও তীর্থযাত্রী। ভারত জানিয়েছে, তাদের শতাধিক নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আরও কয়েকশ ভারতীয় এখনো যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, ইউক্রেন ও অস্ট্রেলিয়ার অনেক নাগরিকের সন্ধানেও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলো কাজ করছে।

দুর্যোগের বিস্তৃত প্রেক্ষাপট ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও জানুন

পাহাড়ি অঞ্চল, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক এবং বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ উদ্ধার তৎপরতাকে কঠিন করে তুলছে।

উদ্ধার অভিযানে আন্তর্জাতিক সহায়তা

নেপাল এখন টানেল উদ্ধার, ডিএনএ শনাক্তকরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক কারিগরি সহায়তা চেয়েছে। ভারত ও অন্যান্য দেশ ইতোমধ্যে উদ্ধার সরঞ্জাম, চিকিৎসা সহায়তা এবং ত্রাণ পাঠিয়েছে।

কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের শ্রমিকও নিখোঁজ তালিকায় রয়েছেন। কাদা ও ধ্বংসাবশেষে আটকে থাকা টানেলগুলোতে উদ্ধারকারী দল বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে।

খারাপ আবহাওয়া ও নতুন বৃষ্টির আশঙ্কায় কিছু সময় হেলিকপ্টার অভিযান ব্যাহত হয়েছে।

চীনও তিব্বতের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার কাজ চালাচ্ছে।

সীমান্তবর্তী নতুন হ্রদের পানি নিয়ে সতর্কতা থাকলেও সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে তাৎক্ষণিক ঝুঁকি কিছুটা কমেছে। তবু সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা বন্যা নিয়ে সতর্ক রয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নেপালে চার হাজারের বেশি মানুষকে বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের তালিকা যাচাই করতে কনস্যুলার সমন্বয়ও জোরদার করা হয়েছে।

নেপাল-তিব্বত বন্যার উদ্ধার পরিস্থিতি আরও জানতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের এক্স আপডেটেও নজর রাখা যেতে পারে।

নতুন মরদেহ উদ্ধার ও নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়ায় সরকারি হিসাব নিয়মিত পরিবর্তিত হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য এখন জীবিতদের উদ্ধার, আহতদের চিকিৎসা এবং বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি পৌঁছানো।

একই সঙ্গে বিদেশি নাগরিকদের পরিচয় ও অবস্থান নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তথ্য বিনিময় চলছে।

নেপালের বন্যায় ভেসে উত্তর প্রদেশে সাত মরদেহ উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ৩:২৬ পিএম
নেপালের বন্যায় ভেসে উত্তর প্রদেশে সাত মরদেহ উদ্ধার

নেপালের বন্যায় ভেসে আসা সাতটি মরদেহ ভারতের উত্তর প্রদেশে উদ্ধার করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। মহারাজগঞ্জ ও কুশীনগর জেলার নদী থেকে মরদেহগুলো পাওয়া যায়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন নারী ও দুজন পুরুষ রয়েছেন।

এখনো কারও পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। কর্মকর্তাদের ধারণা, নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার স্রোতে মরদেহগুলো সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে এসেছে।

উত্তর প্রদেশের এই অংশটি নেপালের বন্যায় কবলিত চিতওয়ান অঞ্চলের ভাটিতে অবস্থিত। গণ্ডক নদীতে এখনো প্রবল স্রোত থাকায় প্রশাসন নজরদারি বাড়িয়েছে।

মহারাজগঞ্জে উদ্ধার চার অজ্ঞাত মরদেহ

মহারাজগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট গৌরব সিং সোগারওয়াল জানান, বৃহস্পতিবার জেলায় চারটি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিচলাউল তহসিলের উপবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্ধার্থ গুপ্ত বলেন, গণ্ডক নদী থেকে তিন নারী ও এক পুরুষের মরদেহ পাওয়া গেছে।

তার ভাষ্য, মরদেহগুলো নেপাল থেকে ভেসে আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। পরিচয় শনাক্তের জন্য ভারতীয় প্রশাসন নেপালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

একই সঙ্গে নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে উদ্ধার ও নিরাপত্তা দল।  বিস্তারিত আরও জানুন দৈনিক বাংলাভিউয়ের আন্তর্জাতিক সংবাদে।

নেপালের বন্যায় কুশীনগরে আরও তিন মরদেহ

মহারাজগঞ্জ থেকে ভাটির দিকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরের কুশীনগরে আরও তিনটি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিদ্ধার্থ ভার্মা জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে দুজন নারী ও একজন পুরুষ।

মরদেহগুলো ফ্রিজারে সংরক্ষণ করে পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। ভারী বৃষ্টির পর গণ্ডক নদীতে তীব্র স্রোত অব্যাহত রয়েছে।

ফলে আগামী কয়েক দিনে আরও মরদেহ বা ধ্বংসাবশেষ ভেসে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন।

মহারাজগঞ্জ ও কুশীনগরের নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

এদিকে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের দুর্যোগে প্রাণহানির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। শনিবারের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক হিসাবে নেপাল ও তিব্বতে অন্তত ৬৩৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে।

প্রায় তিন হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

ভারতে উদ্ধার হওয়া সাতটি মরদেহ ওই সরকারি মৃত্যুর হিসাবের বাইরে রয়েছে।

তাদের পরিচয় নিশ্চিত হলে সংশ্লিষ্ট দেশের প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এগোবে।

নেপালের বন্যা নিয়ে নতুন উদ্ধার তথ্য ও সীমান্ত পরিস্থিতি আরও জানতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের এক্স পাতায়ও হালনাগাদ দেখা যাবে।

উদ্ধারকারী দলগুলো নদীর প্রবাহ ও সম্ভাব্য নতুন ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছে।