নেপাল-তিব্বত বন্যায় ৩০ দেশের নাগরিক নিখোঁজ, উদ্ধার অব্যাহত

নেপাল-তিব্বত বন্যায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে। শনিবারের সর্বশেষ হিসাবে দুই অঞ্চলে অন্তত ৬৭৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। প্রায় তিন হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ, যাদের মধ্যে বহু বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।
নেপালের দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে ২ হাজার ৪২৬ জন এখনো নিখোঁজ। তিব্বতের গিরোং কাউন্টিতে পাঁচ শতাধিক মানুষের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
উদ্ধার অভিযানে হেলিকপ্টার, সেনা, পুলিশ ও বিশেষায়িত দল কাজ করছে।
নেপাল-তিব্বত বন্যায় ৩০টির বেশি দেশের নাগরিক নিখোঁজ
নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের নাগরিক রয়েছেন।
নেপালের পর্যটন কর্তৃপক্ষের হিসাবে ৩০টির বেশি দেশের নাগরিক দুর্যোগের সময় ওই অঞ্চলে ছিলেন।
অনেকেই কৈলাস-মানসসরোবরগামী পর্যটক ও তীর্থযাত্রী। ভারত জানিয়েছে, তাদের শতাধিক নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আরও কয়েকশ ভারতীয় এখনো যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, ইউক্রেন ও অস্ট্রেলিয়ার অনেক নাগরিকের সন্ধানেও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলো কাজ করছে।
দুর্যোগের বিস্তৃত প্রেক্ষাপট ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও জানুন ।
পাহাড়ি অঞ্চল, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক এবং বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ উদ্ধার তৎপরতাকে কঠিন করে তুলছে।
উদ্ধার অভিযানে আন্তর্জাতিক সহায়তা
নেপাল এখন টানেল উদ্ধার, ডিএনএ শনাক্তকরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক কারিগরি সহায়তা চেয়েছে। ভারত ও অন্যান্য দেশ ইতোমধ্যে উদ্ধার সরঞ্জাম, চিকিৎসা সহায়তা এবং ত্রাণ পাঠিয়েছে।
কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের শ্রমিকও নিখোঁজ তালিকায় রয়েছেন। কাদা ও ধ্বংসাবশেষে আটকে থাকা টানেলগুলোতে উদ্ধারকারী দল বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে।
খারাপ আবহাওয়া ও নতুন বৃষ্টির আশঙ্কায় কিছু সময় হেলিকপ্টার অভিযান ব্যাহত হয়েছে।
চীনও তিব্বতের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার কাজ চালাচ্ছে।
সীমান্তবর্তী নতুন হ্রদের পানি নিয়ে সতর্কতা থাকলেও সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে তাৎক্ষণিক ঝুঁকি কিছুটা কমেছে। তবু সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা বন্যা নিয়ে সতর্ক রয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নেপালে চার হাজারের বেশি মানুষকে বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের তালিকা যাচাই করতে কনস্যুলার সমন্বয়ও জোরদার করা হয়েছে।
নেপাল-তিব্বত বন্যার উদ্ধার পরিস্থিতি আরও জানতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের এক্স আপডেটেও নজর রাখা যেতে পারে।
নতুন মরদেহ উদ্ধার ও নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়ায় সরকারি হিসাব নিয়মিত পরিবর্তিত হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য এখন জীবিতদের উদ্ধার, আহতদের চিকিৎসা এবং বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি পৌঁছানো।
একই সঙ্গে বিদেশি নাগরিকদের পরিচয় ও অবস্থান নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তথ্য বিনিময় চলছে।






