নেপালের বন্যায় ভেসে উত্তর প্রদেশে সাত মরদেহ উদ্ধার

নেপালের বন্যায় ভেসে আসা সাতটি মরদেহ ভারতের উত্তর প্রদেশে উদ্ধার করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। মহারাজগঞ্জ ও কুশীনগর জেলার নদী থেকে মরদেহগুলো পাওয়া যায়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন নারী ও দুজন পুরুষ রয়েছেন।
এখনো কারও পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। কর্মকর্তাদের ধারণা, নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার স্রোতে মরদেহগুলো সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে এসেছে।
উত্তর প্রদেশের এই অংশটি নেপালের বন্যায় কবলিত চিতওয়ান অঞ্চলের ভাটিতে অবস্থিত। গণ্ডক নদীতে এখনো প্রবল স্রোত থাকায় প্রশাসন নজরদারি বাড়িয়েছে।
মহারাজগঞ্জে উদ্ধার চার অজ্ঞাত মরদেহ
মহারাজগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট গৌরব সিং সোগারওয়াল জানান, বৃহস্পতিবার জেলায় চারটি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিচলাউল তহসিলের উপবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্ধার্থ গুপ্ত বলেন, গণ্ডক নদী থেকে তিন নারী ও এক পুরুষের মরদেহ পাওয়া গেছে।
তার ভাষ্য, মরদেহগুলো নেপাল থেকে ভেসে আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। পরিচয় শনাক্তের জন্য ভারতীয় প্রশাসন নেপালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
একই সঙ্গে নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে উদ্ধার ও নিরাপত্তা দল। বিস্তারিত আরও জানুন দৈনিক বাংলাভিউয়ের আন্তর্জাতিক সংবাদে।
নেপালের বন্যায় কুশীনগরে আরও তিন মরদেহ
মহারাজগঞ্জ থেকে ভাটির দিকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরের কুশীনগরে আরও তিনটি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিদ্ধার্থ ভার্মা জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে দুজন নারী ও একজন পুরুষ।
মরদেহগুলো ফ্রিজারে সংরক্ষণ করে পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। ভারী বৃষ্টির পর গণ্ডক নদীতে তীব্র স্রোত অব্যাহত রয়েছে।
ফলে আগামী কয়েক দিনে আরও মরদেহ বা ধ্বংসাবশেষ ভেসে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন।
মহারাজগঞ্জ ও কুশীনগরের নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের দুর্যোগে প্রাণহানির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। শনিবারের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক হিসাবে নেপাল ও তিব্বতে অন্তত ৬৩৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে।
প্রায় তিন হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
ভারতে উদ্ধার হওয়া সাতটি মরদেহ ওই সরকারি মৃত্যুর হিসাবের বাইরে রয়েছে।
তাদের পরিচয় নিশ্চিত হলে সংশ্লিষ্ট দেশের প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এগোবে।
নেপালের বন্যা নিয়ে নতুন উদ্ধার তথ্য ও সীমান্ত পরিস্থিতি আরও জানতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের এক্স পাতায়ও হালনাগাদ দেখা যাবে।
উদ্ধারকারী দলগুলো নদীর প্রবাহ ও সম্ভাব্য নতুন ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছে।









