গ্যাস সংকটে ৬৬০ বস্ত্রকল বিপর্যস্ত, কোথাও উৎপাদন ৩০ শতাংশে

গ্যাস সংকটে বস্ত্রকল খাতের বড় অংশ এখনো স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে পারেনি। জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে দেশের ৬৬০টি বস্ত্রকল তীব্র সংকটে ভুগছে।
অনেক কারখানায় উৎপাদন আংশিক বন্ধ রয়েছে, কোথাও সক্ষমতার মাত্র ৩০ শতাংশ ব্যবহার হচ্ছে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে পরিস্থিতি জানিয়েছে।
সংগঠনটির হিসাবে দেশে এক হাজার ৮০০টির বেশি বস্ত্রকল রয়েছে। এর মধ্যে ৫২৭টি স্পিনিং মিল, আর ২০১৯ সাল থেকে ২৪৪টি কারখানা বন্ধ।
গ্যাস সংকটে বস্ত্রকল এর উৎপাদনে বড় ধাক্কা
গাজীপুরের ভবানীপুরে মোশাররফ কম্পোজিট টেক্সটাইলে স্বাভাবিক সময়ে দিনে ১৭০ টন সুতা উৎপাদিত হয়। তবে এক মাস ধরে উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ৩০ শতাংশে নেমেছে।
পল্লী বিদ্যুৎ ও ডিজেল জেনারেটরে সীমিত উৎপাদন চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশাররফ হোসেন জানান, সাম্প্রতিক দুই দিনে গ্যাসের চাপ ৩-৪ পিএসআই হয়েছে।
তবু উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। অন্যদিকে এশিয়া কম্পোজিট মিলস ৭০-৭৫ শতাংশ সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছে।
শ্রীপুরের একটি কারখানায় গ্যাসের চাপ এখনো ২ পিএসআইয়ের নিচে। সেখানে উৎপাদন সক্ষমতার ৩০-৩৫ শতাংশ ব্যবহার হচ্ছে।
নরসিংদীর ভূঁইয়া টেক্সটাইল ২২ দিন বন্ধ থাকার পর সীমিতভাবে উৎপাদন শুরু করেছে। সর্বশেষ সংবাদ জানতে ক্লিক করুন।
নারায়ণগঞ্জে সংকট এখনো তীব্র
ফতুল্লার এমএস ডাইং প্রিন্টিং অ্যান্ড ফিনিশিংয়ে ১৮ আগস্ট থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ। কারখানাটির দৈনিক ১১০ টন কাপড় ডাইংয়ের সক্ষমতা থাকলেও উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
এতে গার্মেন্টস বিভাগেও প্রয়োজনীয় কাপড় সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
বিটিএমএর সহসভাপতি আবুল কালাম জানিয়েছেন, সোনারগাঁয়ের চৈতি কম্পোজিটে উৎপাদন ৪০ শতাংশে নেমেছে।
তবে হবিগঞ্জ ও চট্টগ্রামের কারখানায় গ্যাস সরবরাহ তুলনামূলক সন্তোষজনক রয়েছে।
বস্ত্র খাতের তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আরও জানতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের এক্স আপডেটেও চোখ রাখা যেতে পারে।
সংকটের শুরু ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর। সামিটের টার্মিনাল থেকেও সরবরাহ ব্যাহত হয়।
পরে দুটি টার্মিনালের কার্যক্রম ধাপে ধাপে ফিরলেও কয়েকটি শিল্পাঞ্চলে চাপ এখনো স্বাভাবিক হয়নি।
বিটিএমএ কারখানাগুলোর বর্তমান অবস্থা যাচাই করছে। মূল্যায়ন শেষে পুনরুজ্জীবন ও প্রয়োজনীয় সহায়তার প্রস্তাব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দেওয়ার কথা রয়েছে।
সংগঠনটি বলছে, দীর্ঘ সংকটে আর্থিক চাপ বেড়েছে এবং বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে কিছু এলাকায় পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে।











