রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল, সামনে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দলের শীর্ষ নেতারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে তার মনোনয়নপত্র জমা দেন।

এর আগে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মির্জা ফখরুলের নাম চূড়ান্ত করা হয়। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে তার নাম প্রস্তাব করা হলে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তা অনুমোদন করেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের প্রস্তাবক হিসেবে ড. আবদুল মঈন খান এবং সমর্থক হিসেবে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নাম দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ার পর মির্জা ফখরুল বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা

সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতি পদটি শূন্য হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বর্তমানে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে বিএনপির প্রার্থীর পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের পক্ষে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। ফলে দীর্ঘ সময় পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়। এরপর ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কথা রয়েছে।

  • মির্জা ফখরুলের পর বিএনপির মহাসচিব কে?

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি পদে গেলে বিএনপির মহাসচিবের পদটি শূন্য হবে। ফলে তার উত্তরসূরি নিয়েও দলের ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এই দৌড়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন ও হাবিবুন নবী খান সোহেলের নামও সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।

তবে দলীয়ভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এসব নামকে সম্ভাব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

  • মন্ত্রণালয় ও সংসদীয় আসন নিয়েও আলোচনা

মির্জা ফখরুলের পদত্যাগের পর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা পুনর্বিন্যাসে বিভিন্ন নেতার নাম রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত হলেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

একইভাবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলে তার সংসদীয় আসন ঠাকুরগাঁও-১ শূন্য হওয়ার সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। ওই আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে।

  • দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অর্থনীতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পর তিনি শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন। পরে সরকারি চাকরিতেও দায়িত্ব পালন করেন।

এরপর তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। ১৯৮৮ সালের পৌরসভা নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বিএনপির ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার নেতৃত্বেও দায়িত্ব পালন করেন।

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি সরকারের কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

  • বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘ সময়

২০০৯ সালে বিএনপির জাতীয় সম্মেলনের পর মির্জা ফখরুল জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পান। ২০১১ সালে খন্দকার দেলওয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন। পরে ২০১৬ সালের জাতীয় সম্মেলনে তাকে বিএনপির মহাসচিব নির্বাচিত করা হয়।

বিরোধী দলের রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকালে তিনি একাধিক মামলা ও গ্রেপ্তারের মুখোমুখি হয়েছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন ও কর্মসূচিতে দলের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তিনি বিএনপির অন্যতম প্রধান মুখপাত্র হিসেবেও সক্রিয় ছিলেন।

এখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার প্রার্থিতা বিএনপির অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বে পরিবর্তনের পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তথ্যসূত্র: সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ও নির্বাচনসংক্রান্ত সূত্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *