বরিশাল আদালত প্রাঙ্গণে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। বুধবার দিবাগত রাতে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলাটি করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম। মামলায় বাদী হয়েছেন থানার এসআই মুহাম্মাদ কামরুল হায়দার রুবাইয়াত।
পুলিশ জানায়, আদালত প্রাঙ্গণে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বোমা বিস্ফোরণের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতি করার অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। তবে বিস্ফোরণের সঙ্গে কারা জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে এক-দুই দিনের মধ্যে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রধান ফটক থেকে প্রায় ১০ গজ দূরে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থল ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। এতে আদালত প্রাঙ্গণে থাকা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে ছোটাছুটি শুরু করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। পরে সিআইডি বরিশালের একটি ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরিত কাদামাটি, কাদামাটিসহ বারুদ, বোমার কাচের টুকরা, জর্দার কৌটার মুখ এবং বিস্ফোরিত বোমার প্যাকেজিং কাগজ উদ্ধার করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, আদালত প্রাঙ্গণে একটি ১০ তলা ভবনের ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে বোমাটি রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বুধবার সকাল ১০টা ২৬ মিনিটে বোমাটি বিস্ফোরিত হলে আদালত এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। বিস্ফোরণের পেছনে কারা রয়েছে এবং কী উদ্দেশ্যে আদালত প্রাঙ্গণে বোমাটি রাখা হয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।