গোয়াইনঘাটে পিয়াইন নদী থেকে অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনের অভিযোগ

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা ও ইজারার শর্ত উপেক্ষা করে পিয়াইন নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে বালু ও পাথর উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ইজারার আওতার বাইরে থাকা সংরক্ষিত এলাকা থেকেও ড্রেজার দিয়ে বালু-পাথর তোলার কারণে নদীতীরবর্তী বসতবাড়ি, কৃষিজমি, সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা ঝুঁকিতে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, উপজেলার ২ নম্বর পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের পান্তুমাই থেকে মনরতল বাজার পর্যন্ত এলাকা জনবহুল ও পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল। এই এলাকাকে বালুমহালের আওতার বাইরে রাখার জন্য স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবুল হোসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছিলেন। ঝুঁকি বিবেচনায় ওই অংশকে বালুমহালের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমানে ওই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে পিয়াইন নদীর বিভিন্ন অংশে বালু-পাথর উত্তোলন চলছে। বিশেষ করে বুগইলকান্দি, মনাইকান্দি, মনরতল, লংলাখাল, মুরামুরিখাল ও খুরি মৌজার বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

  • ইজারার আড়ালে সংরক্ষিত এলাকায় উত্তোলনের অভিযোগ

স্থানীয়দের দাবি, হাদারপার বালুমহাল ইজারা নেওয়ার পর এর আড়ালে বিছনাকান্দি সীমান্ত এলাকা ও মনরতল বাজারসংলগ্ন সংরক্ষিত স্থান থেকেও ড্রেজার ব্যবহার করে বালু ও পাথর তোলা হচ্ছে।

তাদের অভিযোগ, দিন-রাত নদী থেকে উত্তোলন চলায় নদীর তীর ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে। এতে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় অনেক পরিবার সম্ভাব্য বাস্তুচ্যুতি নিয়েও উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন।

এদিকে বালু-পাথর উত্তোলনের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ। স্থানীয় সূত্রে বিএনপি নেতা ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহ আলম স্বপন এবং গোয়াইনঘাট উপজেলা তাঁতিদলের নেতা আব্দুল মান্নানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। একইভাবে পুলিশ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

  • প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইজারার শর্ত ভঙ্গ এবং পরিবেশের ক্ষতির বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। তারা দ্রুত নদী থেকে অবৈধ ড্রেজার অপসারণ, ইজারার শর্ত লঙ্ঘন হচ্ছে কি না তা তদন্ত এবং নদীতীরবর্তী জনপদ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পিয়াইন নদীর পরিবেশ ও নদীতীরবর্তী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা।

তথ্যসূত্র: স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সূত্র

নোট: প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে; অভিযোগের স্বাধীন যাচাই ও অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে যুক্ত করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *