ডিজিটাল অধিকার সুরক্ষায় আইন প্রয়োগে সমতা চান বিশেষজ্ঞরা

ডিজিটাল অধিকার সুরক্ষায় শুধু নতুন আইন প্রণয়ন বা পুরোনো আইন সংশোধন যথেষ্ট নয়। আইন প্রয়োগে সমতা, অপব্যবহার বন্ধ এবং কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
একই সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা। ৩০ আগস্ট সকালে ঢাকার একটি হোটেলে টেকগ্লোবাল ইনস্টিটিউটের গোলটেবিলে এসব মত উঠে আসে।
‘ডিজিটাল পলিসিস অ্যান্ড রাইটস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনায় নীতিনির্ধারক, সাংবাদিক, আইনজীবী, গবেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আইন প্রয়োগে বৈষম্য বন্ধের দাবি
এদিকে দ্য ডেইলি স্টারের কনসালটিং এডিটর কামাল আহমেদ বলেন, বিদ্যমান আইনের অপব্যবহার ঠেকানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তাঁর মতে, রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ হলেও সাধারণ নাগরিকের বৈধ অভিযোগে প্রতিকার পেতে দেরি হয়। ফলে আইনের ওপর মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অন্যদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ডিজিটাল শাসনের সংকটে আমলাতন্ত্র, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের ভূমিকা রয়েছে।
অভিযোগ ওঠা ক্ষমতাকাঠামোর কাছেই প্রতিকারের নিয়ন্ত্রণ থাকলে স্বাধীন তদন্ত দুর্বল হতে পারে।
মতপ্রকাশ ও অনলাইন নিরাপত্তা
আইনজীবী প্রিয়া আহসান চৌধুরী বলেন, মানহানি বা বিভ্রান্তিকর তথ্যকে অস্পষ্টভাবে সাইবার অপরাধ হিসেবে গণ্য করা ঝুঁকিপূর্ণ। এতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
এছাড়া অনলাইন হয়রানি ও ব্ল্যাকমেলের শিকার নারীরা অভিযোগ জানাতে গিয়ে প্রত্যাশিত সহযোগিতা না পাওয়ার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
কার্টুনিস্ট মেহেদী হক বলেন, বিধিনিষেধমূলক আইনের ভয় আত্মনিয়ন্ত্রণ ও আত্মনিষেধের প্রবণতা বাড়াতে পারে।
ফলে সমালোচনা, ব্যঙ্গচিত্র এবং স্বাধীন মতপ্রকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ডিজিটাল অধিকার সুরক্ষায় জবাবদিহি
এদিকে বিটিআরসির উপপরিচালক এস এম তাইফুর রহমান বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করে না। একই সঙ্গে বিটিআরসি নজরদারিও চালায় না বলে জানান তিনি।
জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সির পরিচালক হোসাইন বিন আমিন বলেন, সাইবার বুলিং ও অনলাইন হয়রানির শিকারদের সহায়তায় একটি পোর্টাল চালু হয়েছে।
টেকগ্লোবাল ইনস্টিটিউটের কান্ট্রি হেড ফৌজিয়া আফরোজ অংশগ্রহণমূলক নীতিনির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি নাগরিক সমাজ, গবেষক, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে পরামর্শপ্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।
ডিজিটাল অধিকার সুরক্ষায় আইন, প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের সমান জবাবদিহি প্রয়োজন বলে আলোচনায় মত আসে।
দৈনিক বাংলাভিউয়ের আরও জাতীয় খবর পড়ুন। এছাড়া নিয়মিত আপডেট পাওয়া যাবে দৈনিক বাংলাভিউয়ের এক্স অ্যাকাউন্টে।















