হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে গাছ কাটা ও পাচারের অভিযোগে বন বিভাগ একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা দায়ের করেছে। গত মঙ্গলবার ১৯২৭ সালের সংশোধিত বন আইনে চুনারুঘাট থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। সাতছড়ি বন্যপ্রাণী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামলার বাদী হয়েছেন। আরও সংশ্লিষ্ট সংবাদ
সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে গাছ কেটে পাচারে মামলা
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: সাইফুল ইসলাম মামলা দায়েরের বিষয়টি বাংলাভিউকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত বছরের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে গাছ কেটে তা চুরি করা হয়েছে।
তবে অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম এই ঘটনার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। দৈনিক বাংলাভিউ-দেশ
মামলার আসামিরা ও বন বিভাগের অবস্থান
গোপন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চিহ্নিত এই মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মারুফ মিয়াকে।
এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও কাঠ ব্যবসায়ীদের আসামির তালিকায় রাখা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে রেঞ্জ কর্মকর্তা বাংলাভিউকে জানিয়েছেন।
বাপা নেতা তোফাজ্জল সোহেল বাংলাভিউকে বলেছেন, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় মুখ্য হওয়া উচিত নয়।
সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবুল কালাম বাংলাভিউকে জানিয়েছেন, গাছ চুরির বিষয়ে বন বিভাগ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, বনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের আইনি পদক্ষেপ জরুরি ছিল।
বন বিভাগ জানিয়েছে, তদন্তের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোও মামলার নিয়মিত ফলোআপ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও এই জাতীয় উদ্যান রক্ষা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল।
বনের আশপাশের পরিবেশ সুরক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন আরও তৎপর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সাধারণ মানুষ ও প্রকৃতিপ্রেমীরা বনের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।