এআই পোষা প্রাণী এখন চীনের তরুণ কর্মীদের মধ্যে নতুন ট্রেন্ড হয়ে উঠেছে। কর্মক্ষেত্রে বসের ওপর জমে থাকা ক্ষোভ ও মানসিক চাপ প্রকাশে অনেকেই এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বসের আদলে ভার্চ্যুয়াল ডেস্কটপ চরিত্র তৈরি করছেন।
এআই পোষা প্রাণী কীভাবে তৈরি করছেন কর্মীরা
কর্মক্ষেত্রে বসের ওপর জমে থাকা ক্ষোভ প্রকাশের এক অদ্ভুত ও অভিনব উপায় খুঁজে পেয়েছেন চীনের তরুণ কর্মীরা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তাঁরা এখন বসের অবিকল আদলে ভার্চ্যুয়াল পোষা প্রাণী তৈরি করছেন। কম্পিউটারের পর্দায় এসব চরিত্রকে নানা ধরনের বিব্রতকর বা মজার কাজ করতে বাধ্য করছেন কর্মীরা। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনে এ ধরনের এআই-নির্ভর ডেস্কটপ পোষা প্রাণীর জনপ্রিয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ইলন মাস্কের আদলে ভার্চ্যুয়াল চরিত্র
আগের দিনের সাধারণ ভার্চ্যুয়াল পোষা প্রাণীর তুলনায় এগুলো অনেক বেশি উন্নত। ব্যবহারকারীরা নিজেদের পছন্দমতো এসব চরিত্রের চেহারা, আচরণ এবং প্রতিক্রিয়া নির্ধারণ করতে পারেন। এআই অ্যাপ্লিকেশনে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির ছবি আপলোড করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিলেই তৈরি হয়ে যাচ্ছে সেই ব্যক্তির আদলে ভার্চ্যুয়াল চরিত্র। যারা নিজেরা এটি তৈরি করতে পারছেন না, তাঁরা অর্থের বিনিময়ে পেশাদার সেবা নিচ্ছেন। এই সেবা পেতে খরচ শুরু হয় ৯ দশমিক ৯ ইউয়ান থেকে, যা মান ও জটিলতাভেদে কয়েক শ ইউয়ান পর্যন্ত হতে পারে।
কর্মক্ষেত্রের চাপ কমাতে নতুন এআই ট্রেন্ড
এই প্রযুক্তির সহজলভ্যতা নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হয় আগস্টের শুরুতে, যখন জিউইউচুশি নামের এক ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্কের আদলে একটি ভার্চ্যুয়াল চরিত্র তৈরি করে দেখান। এসব চরিত্র কেবল পর্দায় স্থির হয়ে থাকে না; বরং ব্যবহারকারীর কমান্ড অনুযায়ী এগুলো চা পরিবেশন, মাথা নত করা কিংবা নিজেকে আঘাত করার ভান করার মতো কাজও করতে পারে। মাউস ব্যবহার করে চরিত্রটিকে পর্দার এপাশ-ওপাশ সরানো যায়, যা দেখে মনে হয় সে কষ্ট করে হাঁটছে। এমনকি অনেকে চরিত্রটিকে পর্দার কিনারা বেয়ে উপরে উঠতে দেওয়ার মতো দৃশ্যও তৈরি করছেন।
কর্মীরা এসব ভার্চ্যুয়াল চরিত্রকে দিয়ে নিজেদের মনের কথা বলাচ্ছেন। যেমন, বসের আদলে তৈরি চরিত্র দিয়ে বলানো হচ্ছে ‘আর ওভারটাইম নয়’ কিংবা ‘পদোন্নতি ও বেতন বাড়াও’। আবার অনেকে বন্ধু বা প্রিয়জনের আদলে চরিত্র তৈরি করে কম্পিউটারের পর্দার এক কোণে রেখে তাদের সঙ্গে গল্পগুজব করার মতো পরিবেশ তৈরি করছেন। কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ কমাতে এবং একঘেয়েমি দূর করতে তরুণ প্রজন্মের কাছে এই এআই-নির্ভর ভার্চ্যুয়াল পোষা প্রাণীর ব্যবহার এক নতুন ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে।