ফ্রান্সের নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ নিয়ে ওঠা অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে মস্কো। প্যারিসের রুশ দূতাবাস এই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
অভিযোগটি ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে উঠেছে। ফরাসি রাজনীতিকেরা কয়েক মাস ধরে মস্কোর বিরুদ্ধে সতর্ক করছেন।
রাশিয়ার দাবি, কোনো সার্বভৌম দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা তাদের রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ নয়।
ফ্রান্সের নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ নিয়ে মস্কোর বক্তব্য
দূতাবাস বলেছে, পশ্চিমা দেশগুলো নিজেদের রাশিয়াবিরোধী অবস্থানকে যৌক্তিক দেখাতে বারবার কথিত রুশ হুমকি সামনে আনছে।
মস্কোর মতে, সামরিক ব্যয় বাড়ানোর পক্ষে জনসমর্থন তৈরিতেও একই বক্তব্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
রুশ দূতাবাস আরও বলেছে, অযৌক্তিক সামরিক ব্যয় ফ্রান্সের সামাজিক খাতগুলোর ওপর চাপ বাড়াতে পারে।
তাদের ভাষ্য, এতে সরকারি ঋণের বোঝা বাড়বে। একই সঙ্গে বাজেট ঘাটতির চাপ সাধারণ নাগরিকদের ওপর পড়বে।
ফরাসি কর্তৃপক্ষের পাল্টা অবস্থান
অন্যদিকে, ফরাসি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা মস্কোর বক্তব্য মানছেন না। তারা ধারাবাহিক ডিজিটাল প্রচারণার অভিযোগ করছেন।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ আগেই ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হিসাবের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন।
রেনেসাঁ দলের নেতা গ্যাব্রিয়েল আতালও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, ভোটারদের সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিয়ে দুই দেশের বক্তব্য সম্পূর্ণ বিপরীত। তদন্তের ফল তাই বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
ভিজিনামের প্রতিবেদনে দুটি নেটওয়ার্ক
ফ্রান্সের ডিজিটাল হস্তক্ষেপ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ভিজিনাম সাম্প্রতিক কিছু বিভ্রান্তিকর প্রচারণা শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে।
সংস্থাটির মূল্যায়নে, রাশিয়াপন্থি ম্যাট্রিওশকা ও স্টর্ম-১৫১৬ নেটওয়ার্ক এসব প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত ছিল।
প্রচারণাগুলোতে ভুয়া প্রতিবেদন, নকল সংবাদশিরোনাম এবং পরিচিত গণমাধ্যমের আদলে তৈরি ভিডিও ছড়ানো হয়েছে।
ভিজিনামের মতে, এসব উপকরণ অনলাইনে সমন্বিতভাবে ছড়িয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছে।
লক্ষ্যবস্তুদের মধ্যে ছিলেন রেনেসাঁর গ্যাব্রিয়েল আতাল, হরাইজনসের এদুয়ার ফিলিপ এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য রাফায়েল গ্লুকসম্যান।
তাঁরা সবাই ২০২৭ সালের নির্বাচনী আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ নাম। ফলে অভিযোগগুলো ফরাসি রাজনীতিতে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ফ্রান্সের নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ নিয়ে বাড়ছে উত্তাপ
ফ্রান্সের সরকার ২০২৭ সালের নির্বাচনের তারিখ ইতিমধ্যে নির্ধারণ করেছে। প্রথম দফার ভোট হবে ১৮ এপ্রিল।
প্রথম দফায় কেউ প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে ২ মে দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন সামনে রেখে বিদেশি ডিজিটাল প্রভাব ঠেকাতে নজরদারি বাড়াচ্ছে সংশ্লিষ্ট ফরাসি সংস্থাগুলো।
একই সঙ্গে প্রার্থীরাও অনলাইন প্রচারণার উৎস যাচাই এবং ভুয়া তথ্য দ্রুত শনাক্ত করার দাবি তুলছেন।
মস্কো অভিযোগ অস্বীকার করলেও প্যারিস বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। ফলে দুই দেশের কূটনৈতিক দূরত্ব আরও বাড়ছে।
আরও আন্তর্জাতিক সংবাদ পড়তে বাংলাভিউয়ে থাকুন। ভিডিও প্রতিবেদন দেখুন বাংলাভিউয়ের ইউটিউব চ্যানেলে।
ফ্রান্সের নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক এখন প্রচারপর্বের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য নিরপেক্ষ তদন্তের ফল প্রয়োজন।