রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩

কফি এনিমা কি সত্যিই শরীর ডিটক্স করে? জানুন স্বাস্থ্যঝুঁকি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ২:২৯ এম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কফি এনিমা কি সত্যিই শরীর ডিটক্স করে? জানুন স্বাস্থ্যঝুঁকি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাস্থ্য সচেতনতার নামে নানা ধরনের ডিটক্স ট্রেন্ডের হিড়িক পড়ে যায়। এর মধ্যে অন্যতম আলোচিত একটি পদ্ধতি হলো ‘কফি এনিমা’। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা, শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেওয়া, লিভার পরিষ্কার রাখা কিংবা ওজন কমানোর মতো নানা চটকদার দাবি করা হয় এই পদ্ধতি নিয়ে।কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের কঠোর দৃষ্টিতে কফি এনিমা মোটেও কোনো নিরীহ ঘরোয়া স্বাস্থ্যচর্চা নয়।

এর কথিত উপকারের পক্ষে কোনো শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই, বরং ভুলভাবে বা বারবার ব্যবহারের ফলে শরীরে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এনিমা মূলত একটি চিকিৎসা পদ্ধতি, যেখানে মলত্যাগে সহায়তা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসাগত প্রয়োজনে মলদ্বার দিয়ে তরল প্রবেশ করানো হয়। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ব্যবহৃত মানসম্মত এনিমা আর ঘরে বসে কফি দিয়ে ডিটক্স করার চেষ্টা এক বিষয় নয়। গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টদের মতে, কফি এনিমার মাধ্যমে শরীর পরিষ্কার করা, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানো কিংবা শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেওয়ার দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

আমাদের শরীর প্রাকৃতিকভাবেই বর্জ্য ও বিপাকজাত পদার্থ প্রক্রিয়াজাত করে বের করে দেওয়ার নিজস্ব সক্ষমতা রাখে। লিভার, কিডনি, ফুসফুস ও পরিপাকতন্ত্র এই কাজে নিরলস ভূমিকা পালন করে। তাই শরীর থেকে বিষ বের করার জন্য কফি এনিমার প্রয়োজনীয়তার পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সুস্থ থাকতে নাটকীয় ডিটক্সের চেয়ে পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম ও আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং পর্যাপ্ত ঘুম অনেক বেশি কার্যকর।

কফি এনিমার সম্ভাব্য জটিলতার মধ্যে অন্ত্রের প্রদাহ অন্যতম। ২০২০ সালে প্রকাশিত একটি সিস্টেমেটিক রিভিউতে গবেষকেরা স্ব-প্রয়োগ করা কফি এনিমা–সম্পর্কিত কেস রিপোর্টগুলো পর্যালোচনা করেন। এতে অন্ত্রের প্রদাহসহ একাধিক ক্ষতিকর ঘটনার তথ্য উঠে আসে। একটি কেস রিপোর্টে দেখা গেছে, একজন সুস্থ ব্যক্তি কফি এনিমা নেওয়ার পর ‘প্রোক্টোকোলাইটিস’ বা মলদ্বার ও কোলনের প্রদাহে আক্রান্ত হয়েছেন। ওই ব্যক্তির তলপেটে তীব্র ব্যথা, রক্তপাত ও বারবার মলত্যাগের অনুভূতির মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছিল। অর্থাৎ পেট পরিষ্কারের আশায় নেওয়া একটি পদ্ধতি উল্টো অন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।

ঘরে বসে এনিমা তৈরি ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতার অভাব বড় ঝুঁকি তৈরি করে। ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি বা তরল জীবাণুমুক্ত না হলে শরীরে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। কফি এনিমা নিয়ে প্রকাশিত চিকিৎসাবিষয়ক প্রতিবেদনে গুরুতর সংক্রমণ এমনকি সেপসিসের ঘটনাও নথিবদ্ধ হয়েছে। সেপসিস হলো সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের অতিরিক্ত ও বিপজ্জনক প্রতিক্রিয়া, যা বিভিন্ন অঙ্গের কার্যকারিতাকে বিপন্ন করে তুলতে পারে। কোনো কিছু প্রাকৃতিক বা ঘরোয়া হলেই সেটি নিরাপদ—এই ধারণাটি এখানে ভুল প্রমাণিত হয়।

বারবার এনিমা ব্যবহারের ফলে শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো ইলেকট্রোলাইট হৃদ্‌স্পন্দন, স্নায়ু ও পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসাবিষয়ক সাহিত্যে কফি এনিমার সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকটি মৃত্যুর ঘটনাও নথিবদ্ধ হয়েছে, যেখানে ময়নাতদন্তে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতার বিষয়টি উঠে এসেছে। বিশেষ করে হৃদ্‌রোগ, কিডনি বা লিভারের সমস্যা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি অনেক বেশি।

অনেকে কোষ্ঠকাঠিন্যের দ্রুত সমাধান হিসেবে এনিমার ওপর নির্ভর করেন। সাময়িকভাবে মলত্যাগ হলেও এটি দীর্ঘমেয়াদে কোনো সমাধান নয়। অতিরিক্ত এনিমা ব্যবহারে কোলনের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া বারবার ঘরোয়া উপায়ে সমস্যা সামলাতে গিয়ে কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রকৃত কারণ—যেমন খাদ্যাভ্যাস, ওষুধ বা হরমোনজনিত সমস্যা—অজানাই থেকে যায়।

কফি এনিমার কার্যকারিতা নিয়ে ২০২০ সালের ওই সিস্টেমেটিক রিভিউতে কোনো ইতিবাচক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। গবেষকদের স্পষ্ট সিদ্ধান্ত ছিল, নিরাপত্তা ও কার্যকারিতার পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় কফি এনিমাকে স্ব-যত্নের পদ্ধতি হিসেবে সুপারিশ করা যায় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হলেই কোনো পদ্ধতি বৈজ্ঞানিকভাবে নিরাপদ বা কার্যকর হয়ে যায় না, এটিই এই ট্রেন্ডের বড় শিক্ষা।

কোষ্ঠকাঠিন্য হলেই এনিমা করার প্রয়োজন নেই। বরং খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা বেশি জরুরি। তবে দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটে তীব্র ব্যথা, পায়খানার সঙ্গে রক্তপাত, অকারণে ওজন কমে যাওয়া কিংবা হঠাৎ মলত্যাগের অভ্যাসে বড় পরিবর্তন দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কফি সকালের প্রিয় পানীয় হতে পারে, কিন্তু সেই পানীয়কে শরীরের অন্য পথে ব্যবহার করলেই তা স্বাস্থ্যকর হয়ে যায় না। সূত্র: হেলথলাইন, ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব হেলথ, গুড আর এক্স।

ইমরানের ছেলেদের সাক্ষাৎকারে স্কাই স্পোর্টসের ওপর ক্ষুব্ধ পিসিবি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ২:২৯ পিএম
ইমরানের ছেলেদের সাক্ষাৎকারে স্কাই স্পোর্টসের ওপর ক্ষুব্ধ পিসিবি

স্কাই স্পোর্টসের ওপর পিসিবির ক্ষোভ তৈরি হয়েছে ইমরান খানের দুই ছেলের একটি সাক্ষাৎকার ঘিরে। লর্ডসে ইংল্যান্ড-পাকিস্তান দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনে সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটি।

সুলাইমান খান ও কাসিম খানের সাক্ষাৎকার নেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইক আথারটন। সেখানে তারা কারাবন্দি বাবার স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

স্কাই স্পোর্টসের ওপর পিসিবির আপত্তি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাক্ষাৎকার প্রচারের আগেই স্কাই স্পোর্টসের সঙ্গে যোগাযোগ করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।

সাক্ষাৎকার দেখানো হলে ক্রিকেটাররা মাঠে না ফেরার বিষয়টিও বিবেচনায় ছিল।

তবে পিসিবির আপত্তি সত্ত্বেও ১৮ মিনিটের সাক্ষাৎকারটি শেষ পর্যন্ত প্রচার করে স্কাই স্পোর্টস।

এরপর পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা নির্ধারিত সময়েই মাঠে ফেরেন। পাকিস্তানে সিরিজ সম্প্রচারকারী রাষ্ট্রীয় চ্যানেল পিটিভি অবশ্য সাক্ষাৎকারটি দেখায়নি।

ফলে স্কাই স্পোর্টসের ওপর পিসিবির ক্ষোভ নিয়ে ক্রিকেট অঙ্গনে আলোচনা বাড়ে।

ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে ছেলেদের উদ্বেগ

সুলাইমান ও কাসিম জানান, প্রায় তিন বছর ধরে কারাগারে থাকা বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। একই সঙ্গে উপযুক্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি ইমরানকে ইসলামাবাদের শিফা হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

তবে তাকে পিমস হাসপাতালে পরীক্ষার পর আবার কারাগারে পাঠানো হয়।

ইমরানের পরিবার এ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। তারা ব্যক্তিগত চিকিৎসকের মাধ্যমে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সুযোগ চায়।

সাবেক অধিনায়কদেরও চিকিৎসার আহ্বান

ইমরানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ২১ জন সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে চিঠি দিয়েছেন।

তাদের মধ্যে মাইক আথারটনসহ বিভিন্ন দেশের সাবেক অধিনায়ক রয়েছেন।

অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার ইমরানের প্রতি নির্যাতন বা সাক্ষাতে বাধার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সরকারের দাবি, বন্দি হওয়ার পর বহুবার পরিবার ও আইনজীবীরা তার সঙ্গে দেখা করেছেন।

২০২৩ সালের আগস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে রয়েছেন ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান।

তিনি ও পিটিআই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

দৈনিক বাংলাভিউয়ের খেলাধুলার আরও খবর পড়ুন। নিয়মিত আপডেট পাওয়া যাবে দৈনিক বাংলাভিউয়ের এক্স অ্যাকাউন্টে

নেপাল-তিব্বত বন্যায় ৩০ দেশের নাগরিক নিখোঁজ, উদ্ধার অব্যাহত

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৪:১৫ এম
নেপাল-তিব্বত বন্যায় ৩০ দেশের নাগরিক নিখোঁজ, উদ্ধার অব্যাহত

নেপাল-তিব্বত বন্যায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে। শনিবারের সর্বশেষ হিসাবে দুই অঞ্চলে অন্তত ৬৭৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। প্রায় তিন হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ, যাদের মধ্যে বহু বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।

নেপালের দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে ২ হাজার ৪২৬ জন এখনো নিখোঁজ। তিব্বতের গিরোং কাউন্টিতে পাঁচ শতাধিক মানুষের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

উদ্ধার অভিযানে হেলিকপ্টার, সেনা, পুলিশ ও বিশেষায়িত দল কাজ করছে।

নেপাল-তিব্বত বন্যায় ৩০টির বেশি দেশের নাগরিক নিখোঁজ

নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের নাগরিক রয়েছেন।

নেপালের পর্যটন কর্তৃপক্ষের হিসাবে ৩০টির বেশি দেশের নাগরিক দুর্যোগের সময় ওই অঞ্চলে ছিলেন।

অনেকেই কৈলাস-মানসসরোবরগামী পর্যটক ও তীর্থযাত্রী। ভারত জানিয়েছে, তাদের শতাধিক নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আরও কয়েকশ ভারতীয় এখনো যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, ইউক্রেন ও অস্ট্রেলিয়ার অনেক নাগরিকের সন্ধানেও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলো কাজ করছে।

দুর্যোগের বিস্তৃত প্রেক্ষাপট ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও জানুন

পাহাড়ি অঞ্চল, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক এবং বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ উদ্ধার তৎপরতাকে কঠিন করে তুলছে।

উদ্ধার অভিযানে আন্তর্জাতিক সহায়তা

নেপাল এখন টানেল উদ্ধার, ডিএনএ শনাক্তকরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক কারিগরি সহায়তা চেয়েছে। ভারত ও অন্যান্য দেশ ইতোমধ্যে উদ্ধার সরঞ্জাম, চিকিৎসা সহায়তা এবং ত্রাণ পাঠিয়েছে।

কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের শ্রমিকও নিখোঁজ তালিকায় রয়েছেন। কাদা ও ধ্বংসাবশেষে আটকে থাকা টানেলগুলোতে উদ্ধারকারী দল বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে।

খারাপ আবহাওয়া ও নতুন বৃষ্টির আশঙ্কায় কিছু সময় হেলিকপ্টার অভিযান ব্যাহত হয়েছে।

চীনও তিব্বতের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার কাজ চালাচ্ছে।

সীমান্তবর্তী নতুন হ্রদের পানি নিয়ে সতর্কতা থাকলেও সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে তাৎক্ষণিক ঝুঁকি কিছুটা কমেছে। তবু সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা বন্যা নিয়ে সতর্ক রয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নেপালে চার হাজারের বেশি মানুষকে বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের তালিকা যাচাই করতে কনস্যুলার সমন্বয়ও জোরদার করা হয়েছে।

নেপাল-তিব্বত বন্যার উদ্ধার পরিস্থিতি আরও জানতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের এক্স আপডেটেও নজর রাখা যেতে পারে।

নতুন মরদেহ উদ্ধার ও নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়ায় সরকারি হিসাব নিয়মিত পরিবর্তিত হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য এখন জীবিতদের উদ্ধার, আহতদের চিকিৎসা এবং বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি পৌঁছানো।

একই সঙ্গে বিদেশি নাগরিকদের পরিচয় ও অবস্থান নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তথ্য বিনিময় চলছে।

নেপালের বন্যায় ভেসে উত্তর প্রদেশে সাত মরদেহ উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ৩:২৬ পিএম
নেপালের বন্যায় ভেসে উত্তর প্রদেশে সাত মরদেহ উদ্ধার

নেপালের বন্যায় ভেসে আসা সাতটি মরদেহ ভারতের উত্তর প্রদেশে উদ্ধার করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। মহারাজগঞ্জ ও কুশীনগর জেলার নদী থেকে মরদেহগুলো পাওয়া যায়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন নারী ও দুজন পুরুষ রয়েছেন।

এখনো কারও পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। কর্মকর্তাদের ধারণা, নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার স্রোতে মরদেহগুলো সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে এসেছে।

উত্তর প্রদেশের এই অংশটি নেপালের বন্যায় কবলিত চিতওয়ান অঞ্চলের ভাটিতে অবস্থিত। গণ্ডক নদীতে এখনো প্রবল স্রোত থাকায় প্রশাসন নজরদারি বাড়িয়েছে।

মহারাজগঞ্জে উদ্ধার চার অজ্ঞাত মরদেহ

মহারাজগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট গৌরব সিং সোগারওয়াল জানান, বৃহস্পতিবার জেলায় চারটি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিচলাউল তহসিলের উপবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্ধার্থ গুপ্ত বলেন, গণ্ডক নদী থেকে তিন নারী ও এক পুরুষের মরদেহ পাওয়া গেছে।

তার ভাষ্য, মরদেহগুলো নেপাল থেকে ভেসে আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। পরিচয় শনাক্তের জন্য ভারতীয় প্রশাসন নেপালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

একই সঙ্গে নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে উদ্ধার ও নিরাপত্তা দল।  বিস্তারিত আরও জানুন দৈনিক বাংলাভিউয়ের আন্তর্জাতিক সংবাদে।

নেপালের বন্যায় কুশীনগরে আরও তিন মরদেহ

মহারাজগঞ্জ থেকে ভাটির দিকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরের কুশীনগরে আরও তিনটি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিদ্ধার্থ ভার্মা জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে দুজন নারী ও একজন পুরুষ।

মরদেহগুলো ফ্রিজারে সংরক্ষণ করে পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। ভারী বৃষ্টির পর গণ্ডক নদীতে তীব্র স্রোত অব্যাহত রয়েছে।

ফলে আগামী কয়েক দিনে আরও মরদেহ বা ধ্বংসাবশেষ ভেসে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন।

মহারাজগঞ্জ ও কুশীনগরের নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

এদিকে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের দুর্যোগে প্রাণহানির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। শনিবারের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক হিসাবে নেপাল ও তিব্বতে অন্তত ৬৩৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে।

প্রায় তিন হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

ভারতে উদ্ধার হওয়া সাতটি মরদেহ ওই সরকারি মৃত্যুর হিসাবের বাইরে রয়েছে।

তাদের পরিচয় নিশ্চিত হলে সংশ্লিষ্ট দেশের প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এগোবে।

নেপালের বন্যা নিয়ে নতুন উদ্ধার তথ্য ও সীমান্ত পরিস্থিতি আরও জানতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের এক্স পাতায়ও হালনাগাদ দেখা যাবে।

উদ্ধারকারী দলগুলো নদীর প্রবাহ ও সম্ভাব্য নতুন ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছে।