হরমুজে নতুন নিষিদ্ধ অঞ্চল ঘোষণার পরিকল্পনা ইরানের

হরমুজে নিষিদ্ধ অঞ্চল ঘোষণার পরিকল্পনা করছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি জানিয়েছেন, কয়েক দিনের মধ্যেই অঞ্চলটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
এতে হরমুজ ও পারস্য উপসাগরের কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। রেজায়ির ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন অঞ্চলটি মার্কিন নৌ অবরোধের সীমারেখা থেকে শুরু হবে।
কোনো জাহাজ এতে প্রবেশ করলে সেটিকে ইরানের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখা হবে। তবে সুনির্দিষ্ট সীমানা ও নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পদ্ধতি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
হরমুজে নতুন নিষিদ্ধ অঞ্চল
ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘হুমকি ও হামলা’ বন্ধ না করা পর্যন্ত হরমুজের নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা দেওয়া কঠিন।
একই সঙ্গে প্রণালির ব্যবস্থাপনায় ওমানের সঙ্গে নতুন আন্তর্জাতিক নৌপথ তৈরির আলোচনা চলছে।
“নতুন অঞ্চলটি মার্কিন নৌ অবরোধের সীমা থেকে শুরু হবে।
সেখানে প্রবেশকারী জাহাজ ইরানের নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে।”
রেজায়ি জানিয়েছেন, নতুন নৌকরিডরের মানচিত্র নিয়ে ইরান ও ওমান নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।
করিডরের কিছু অংশ দুই দেশের সমুদ্রসীমার মধ্য দিয়ে যাবে। ব্যবস্থাপনায় ইরানের ভূমিকা থাকবে বলেও তিনি দাবি করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা বাড়ছে
সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সামরিক পাল্টাপাল্টি তৎপরতা আবার বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র তিনটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানোর পর তেহরানও মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার দাবি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য ইরানের কয়েকটি সামরিক দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। ওয়াশিংটন হরমুজকে আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসেবে খোলা রাখার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।
জাহাজ চলাচলে বড় পতন
কেপলারের হিসাবে, সাম্প্রতিক ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০টি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করেছে। এটি মে মাসের পর সর্বনিম্ন।
যুদ্ধের আগে দৈনিক জাহাজ চলাচল ছিল অনেক বেশি।
মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেছেন, বর্তমানে প্রতিদিন ৯০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল হরমুজ দিয়ে যাচ্ছে।
তবে এই প্রবাহ বজায় রাখতে মার্কিন নৌবাহিনীর এসকর্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি স্বীকার করেছেন।
হরমুজ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। ফলে হরমুজে নিষিদ্ধ অঞ্চল কার্যকর হলে জাহাজ চলাচল, বীমা ব্যয় এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।











