নেপালের দেবঘাট বনে ১৯৯ অজ্ঞাত মরদেহ দাফন

নেপালের দেবঘাট বনে ১৯৯ অজ্ঞাত মরদেহ অস্থায়ী সমাধিস্থলে পরিণত হয়েছে। গত ২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যায় রসুয়া থেকে ভেসে আসা বহু মরদেহ চিতওয়ানে উদ্ধার হয়েছে।
কয়েক দিন আগেও পর্যটকে মুখর এলাকাটির চিত্র এখন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। কর্তৃপক্ষ দেবঘাট বনে অজ্ঞাত মরদেহ সাময়িকভাবে দাফন করছে। দ্রুত পচন এবং স্থানীয় মর্গে জায়গার সংকটের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের সম্ভাব্য ঝুঁকিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
দেবঘাট বনে ১৯৯ অজ্ঞাত মরদেহ দাফন
৩১ আগস্ট সকালে পাওয়া সর্বশেষ তথ্যে চিতওয়ানে ২৭২টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৯টি অজ্ঞাত মরদেহ দেবঘাট বনে দাফন করা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত ১২ জনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। নেপালি সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার এবং মরদেহ ব্যবস্থাপনায় কাজ করছে।
নদীর তীর ও আশপাশে এখনও নতুন মরদেহ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে শনাক্তকরণ ও সংরক্ষণে কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ বাড়ছে।
ডিএনএ নমুনা ও কবরের তথ্য সংরক্ষণ দেবঘাট বনে ১৯৯ অজ্ঞাত মরদেহ
অজ্ঞাত মরদেহগুলো দাফনের আগে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রতিটি মরদেহের শনাক্তকরণ চিহ্ন এবং কবরের অবস্থানও নথিভুক্ত করছে কর্তৃপক্ষ। পরে ডিএনএ মিললে নির্দিষ্ট কবর থেকে দেহাবশেষ উত্তোলন করা সম্ভব হবে।
নিখোঁজ স্বজনের সন্ধানে বহু পরিবার চিতওয়ানের অস্থায়ী ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রে যাচ্ছেন। কেউ ছবি নিয়ে যাচ্ছেন, আবার কেউ উদ্ধার হওয়া মরদেহের তথ্য পরীক্ষা করছেন।
দৈনিক বাংলাভিউয়ে নেপালসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনের আরও খবর পাওয়া যাবে।
নেপাল বন্যায় প্রাণহানি আরও বেড়েছে
সর্বশেষ হিসাবে নেপালে ৭৮৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। দেশটিতে এখনও ২ হাজার ৫০২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যু এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
সব মিলিয়ে নেপাল ও তিব্বতে মৃতের সংখ্যা ৮০৪ জনে পৌঁছেছে। নিখোঁজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৮ জনে। উদ্ধার অভিযান এখনও বিভিন্ন এলাকায় অব্যাহত রয়েছে।
নতুন বিপর্যয়ের আশঙ্কা
এদিকে নতুন বন্যার ঝুঁকিও পুরোপুরি কাটেনি। বিশেষজ্ঞরা নতুন পাথরধসে পাহাড়ি জলাধারগুলোর ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কা করছেন। এক গবেষকের হিসাবে প্রাথমিক ঢলের গতি ঘণ্টায় প্রায় ৩০০ কিলোমিটার ছিল।
কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলেছে। নদীর পানি বাড়লে দ্রুত উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ সংবাদ জানতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের এক্স অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করা যাবে।















