রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩

কলকাতার অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের দ্রুত দেশে ফেরানোর উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২২ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কলকাতার অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের দ্রুত দেশে ফেরানোর উদ্যোগ

বাংলাদেশিদের মরদেহ ফেরানো দ্রুত সম্পন্ন করতে কলকাতার বাংলাদেশ মিশন কাজ শুরু করেছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বুধবার এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি প্রক্রিয়াটি দ্রুত এগোনোর কথা বলেছেন।

নিহতদের পরিবার ব্যয় বহনে অসুবিধায় পড়লে সরকার বিষয়টি দেখবে। প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশিদের মরদেহ ফেরানো নিয়ে সরকারের পদক্ষেপ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, পরিচয় যাচাই এবং আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ দেশে পাঠানো হবে। প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।

কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল এবং হাসপাতালও পরিদর্শন করেছেন।

বাংলাদেশে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ চলছে। প্রত্যেক পরিবারকে সর্বশেষ তথ্য জানানো হচ্ছে।

মরদেহ হস্তান্তরের আগে স্থানীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। তবে ফেরানোর নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।

নিহত পাঁচ বাংলাদেশির পরিচয়

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাঁচ বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে। তাদের মধ্যে চারজন একই পরিবারের সদস্য।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত এবং তার স্ত্রী আফসানা শারমীন। তাদের ছোট ছেলে স্বর্ণাশিস দত্তও মারা গেছে।

একই ঘটনায় দেবাশীষের শ্বশুর মোহাম্মদ আকরাম আলীর মৃত্যু হয়েছে। চারজন চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন।

নিহত অপর বাংলাদেশি আহম্মেদ বাবু সাভারের আমিনবাজারের বেগুনবাড়ী এলাকার বাসিন্দা। তিনি ব্যবসার কাজে কলকাতায় গিয়েছিলেন।

স্থানীয় পুলিশ পরিচয়গুলো নিশ্চিত করার পর বাংলাদেশ মিশন পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। মরদেহ শনাক্তের প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে।

কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ আগুন

মঙ্গলবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে নিউমার্কেট এলাকার একটি হোটেলে আগুন লাগে। ভবনটি ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে অবস্থিত।

আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে হোটেলের অতিথিরা আটকা পড়েন। ধোঁয়ার কারণে উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে ওঠে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে মোট নয়জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন।

অন্য নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে কলকাতার কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে।

হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কলকাতা পুলিশ ঘটনায় মামলা করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের খুঁজছে।

বাংলাদেশিদের মরদেহ ফেরানো ও আহতদের অবস্থা

অগ্নিকাণ্ডে আহত ছয় বাংলাদেশিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরে তাদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

উপ-হাইকমিশন আহতদের অবস্থারও খোঁজ রাখছে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার কাজ চলছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। মরদেহ হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে।

পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশে আনার ব্যবস্থা চূড়ান্ত হবে। ব্যয় বহনে সমস্যা হলে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা বিবেচনা করবে।

বাংলাদেশিদের মরদেহ ফেরানো এখন সরকারের অগ্রাধিকার। পরিচয় যাচাই শেষ করে দ্রুত স্বজনদের কাছে পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: বাংলাভিউয়ের সর্বশেষ জাতীয় সংবাদ

ভিডিও সংবাদ: বাংলাভিউয়ের ভিডিও সংবাদ দেখুন

 

নেপাল-তিব্বত বন্যায় ৩০ দেশের নাগরিক নিখোঁজ, উদ্ধার অব্যাহত

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৪:১৫ এম
নেপাল-তিব্বত বন্যায় ৩০ দেশের নাগরিক নিখোঁজ, উদ্ধার অব্যাহত

নেপাল-তিব্বত বন্যায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে। শনিবারের সর্বশেষ হিসাবে দুই অঞ্চলে অন্তত ৬৭৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। প্রায় তিন হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ, যাদের মধ্যে বহু বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।

নেপালের দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে ২ হাজার ৪২৬ জন এখনো নিখোঁজ। তিব্বতের গিরোং কাউন্টিতে পাঁচ শতাধিক মানুষের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

উদ্ধার অভিযানে হেলিকপ্টার, সেনা, পুলিশ ও বিশেষায়িত দল কাজ করছে।

নেপাল-তিব্বত বন্যায় ৩০টির বেশি দেশের নাগরিক নিখোঁজ

নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের নাগরিক রয়েছেন।

নেপালের পর্যটন কর্তৃপক্ষের হিসাবে ৩০টির বেশি দেশের নাগরিক দুর্যোগের সময় ওই অঞ্চলে ছিলেন।

অনেকেই কৈলাস-মানসসরোবরগামী পর্যটক ও তীর্থযাত্রী। ভারত জানিয়েছে, তাদের শতাধিক নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আরও কয়েকশ ভারতীয় এখনো যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, ইউক্রেন ও অস্ট্রেলিয়ার অনেক নাগরিকের সন্ধানেও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলো কাজ করছে।

দুর্যোগের বিস্তৃত প্রেক্ষাপট ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও জানুন

পাহাড়ি অঞ্চল, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক এবং বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ উদ্ধার তৎপরতাকে কঠিন করে তুলছে।

উদ্ধার অভিযানে আন্তর্জাতিক সহায়তা

নেপাল এখন টানেল উদ্ধার, ডিএনএ শনাক্তকরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক কারিগরি সহায়তা চেয়েছে। ভারত ও অন্যান্য দেশ ইতোমধ্যে উদ্ধার সরঞ্জাম, চিকিৎসা সহায়তা এবং ত্রাণ পাঠিয়েছে।

কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের শ্রমিকও নিখোঁজ তালিকায় রয়েছেন। কাদা ও ধ্বংসাবশেষে আটকে থাকা টানেলগুলোতে উদ্ধারকারী দল বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে।

খারাপ আবহাওয়া ও নতুন বৃষ্টির আশঙ্কায় কিছু সময় হেলিকপ্টার অভিযান ব্যাহত হয়েছে।

চীনও তিব্বতের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার কাজ চালাচ্ছে।

সীমান্তবর্তী নতুন হ্রদের পানি নিয়ে সতর্কতা থাকলেও সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে তাৎক্ষণিক ঝুঁকি কিছুটা কমেছে। তবু সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা বন্যা নিয়ে সতর্ক রয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নেপালে চার হাজারের বেশি মানুষকে বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের তালিকা যাচাই করতে কনস্যুলার সমন্বয়ও জোরদার করা হয়েছে।

নেপাল-তিব্বত বন্যার উদ্ধার পরিস্থিতি আরও জানতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের এক্স আপডেটেও নজর রাখা যেতে পারে।

নতুন মরদেহ উদ্ধার ও নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়ায় সরকারি হিসাব নিয়মিত পরিবর্তিত হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য এখন জীবিতদের উদ্ধার, আহতদের চিকিৎসা এবং বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি পৌঁছানো।

একই সঙ্গে বিদেশি নাগরিকদের পরিচয় ও অবস্থান নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তথ্য বিনিময় চলছে।

নেপালের বন্যায় ভেসে উত্তর প্রদেশে সাত মরদেহ উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ৩:২৬ পিএম
নেপালের বন্যায় ভেসে উত্তর প্রদেশে সাত মরদেহ উদ্ধার

নেপালের বন্যায় ভেসে আসা সাতটি মরদেহ ভারতের উত্তর প্রদেশে উদ্ধার করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। মহারাজগঞ্জ ও কুশীনগর জেলার নদী থেকে মরদেহগুলো পাওয়া যায়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন নারী ও দুজন পুরুষ রয়েছেন।

এখনো কারও পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। কর্মকর্তাদের ধারণা, নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার স্রোতে মরদেহগুলো সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে এসেছে।

উত্তর প্রদেশের এই অংশটি নেপালের বন্যায় কবলিত চিতওয়ান অঞ্চলের ভাটিতে অবস্থিত। গণ্ডক নদীতে এখনো প্রবল স্রোত থাকায় প্রশাসন নজরদারি বাড়িয়েছে।

মহারাজগঞ্জে উদ্ধার চার অজ্ঞাত মরদেহ

মহারাজগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট গৌরব সিং সোগারওয়াল জানান, বৃহস্পতিবার জেলায় চারটি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিচলাউল তহসিলের উপবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্ধার্থ গুপ্ত বলেন, গণ্ডক নদী থেকে তিন নারী ও এক পুরুষের মরদেহ পাওয়া গেছে।

তার ভাষ্য, মরদেহগুলো নেপাল থেকে ভেসে আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। পরিচয় শনাক্তের জন্য ভারতীয় প্রশাসন নেপালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

একই সঙ্গে নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে উদ্ধার ও নিরাপত্তা দল।  বিস্তারিত আরও জানুন দৈনিক বাংলাভিউয়ের আন্তর্জাতিক সংবাদে।

নেপালের বন্যায় কুশীনগরে আরও তিন মরদেহ

মহারাজগঞ্জ থেকে ভাটির দিকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরের কুশীনগরে আরও তিনটি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিদ্ধার্থ ভার্মা জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে দুজন নারী ও একজন পুরুষ।

মরদেহগুলো ফ্রিজারে সংরক্ষণ করে পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। ভারী বৃষ্টির পর গণ্ডক নদীতে তীব্র স্রোত অব্যাহত রয়েছে।

ফলে আগামী কয়েক দিনে আরও মরদেহ বা ধ্বংসাবশেষ ভেসে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন।

মহারাজগঞ্জ ও কুশীনগরের নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

এদিকে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের দুর্যোগে প্রাণহানির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। শনিবারের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক হিসাবে নেপাল ও তিব্বতে অন্তত ৬৩৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে।

প্রায় তিন হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

ভারতে উদ্ধার হওয়া সাতটি মরদেহ ওই সরকারি মৃত্যুর হিসাবের বাইরে রয়েছে।

তাদের পরিচয় নিশ্চিত হলে সংশ্লিষ্ট দেশের প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এগোবে।

নেপালের বন্যা নিয়ে নতুন উদ্ধার তথ্য ও সীমান্ত পরিস্থিতি আরও জানতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের এক্স পাতায়ও হালনাগাদ দেখা যাবে।

উদ্ধারকারী দলগুলো নদীর প্রবাহ ও সম্ভাব্য নতুন ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছে।

লা গ্রঁদ-মোত: স্থাপত্যেই যে শহরের অনন্য পরিচয়

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪০ এম
লা গ্রঁদ-মোত: স্থাপত্যেই যে শহরের অনন্য পরিচয়

লা গ্রঁদ-মোত ফ্রান্সের দক্ষিণ উপকূলের এমন এক সমুদ্রতীরবর্তী শহর, যার পরিচয়ের কেন্দ্রে রয়েছে স্থাপত্য। স্থপতি জ্যাঁ বালাদুরের পরিকল্পনায় গড়ে ওঠে শহরটি।

পিরামিডসদৃশ ভবন, বাঁকানো অবয়ব ও জ্যামিতিক নকশা আলাদা করে নজর কাড়ে। ১৯৬০-এর দশকে লাঙ্গেদক উপকূল উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন এই পর্যটনশহরের নির্মাণ শুরু হয়।

ফরাসি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বালাদুর প্রায় তিন দশক ধরে শহরটির নগর পরিকল্পনা ও স্থাপত্যে কাজ করেন।

লা গ্রঁদ-মোতের পিরামিড স্থাপত্য

শহরটির সবচেয়ে পরিচিত স্থাপনাগুলোর একটি ‘লা গ্রঁদ পিরামিদ’। এর এক পাশ সরল ঢালু, অন্য পাশ বাঁকানো।

নকশাটিতে কাছের পিক সাঁ-লু পাহাড়ের উল্টো অবয়বের অনুপ্রেরণা রয়েছে বলে স্থানীয় পর্যটন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এখানকার অনেক আবাসিক ভবনের বারান্দা ধাপে ধাপে বাইরে বেরিয়ে এসেছে। ফলে দূর থেকে সেগুলো থিয়েটারের বক্স কিংবা বিশাল জ্যামিতিক ভাস্কর্যের মতো দেখায়।

শহরের পথ, উন্মুক্ত স্থান ও সবুজায়নও একই পরিকল্পনার অংশ। পথচারী ও সাইকেল আরোহীদের চলাচল সহজ করতে সড়কের পাশাপাশি আলাদা সংযোগপথও রাখা হয়েছিল।

এতে পর্যটনকেন্দ্র হলেও শহরটি কেবল কংক্রিটনির্ভর হয়ে ওঠেনি।

—ফ্রান্সের স্থাপত্য ও ভ্রমণের নানা গল্প জানতে ক্লিক করুন।

২০১০ সালে শহরটি ফ্রান্সের বিংশ শতাব্দীর স্থাপত্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পায়।

পুয়াঁ জেরো থেকে শুরু শহরের গল্প

পুয়াঁ জেরো শহরটির ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৬৭ সালে নির্মিত এই স্থাপনাকে কেন্দ্র করেই নতুন শহরের পরিকল্পনা বিস্তার পায়।

কাছের পুয়াঁ জেরো সৈকত এখন পরিবার, পর্যটক ও সাইকেল আরোহীদের জনপ্রিয় গন্তব্য।

সৈকতটি শহরের জন্মপর্বের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত এবং বিস্তৃত সবুজ এলাকার পাশে অবস্থিত।

এখানকার ৫০ মিটার উঁচু ফেরিস হুইলও পর্যটকদের আকর্ষণ করে। এতে ৯০ বর্গমিটার সৌর প্যানেল রয়েছে।

ফলে প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের একটি অংশ সেখানেই উৎপাদিত হয়। শক্তি পুনরুদ্ধারকারী বৈদ্যুতিক মোটরও এর ব্যবস্থায় যুক্ত রয়েছে।

ভ্রমণের আরও তথ্য জানতে এক্স পাতায় চোখ রাখুন।

লা গ্রঁদ-মোত স্থাপত্য ফ্যাশনজগতেও প্রভাব ফেলেছে। ফরাসি ডিজাইনার সিমন পোর্ত জাকেমুস তার ২০১৪ সালের বসন্ত-গ্রীষ্ম সংগ্রহের নাম দেন ‘লা গ্রঁদ-মোত’।

একই বছর শহরটি ঘিরে তিনি একটি ফটোগ্রাফি বইও প্রকাশ করেন। স্থাপত্য, সমুদ্র ও পরিকল্পিত সবুজের এই সমন্বয় শহরটিকে সাধারণ সৈকতনগরীর বাইরে আলাদা পরিচয় দিয়েছে।

তাই শুধু সমুদ্রভ্রমণ নয়, আধুনিক নগর স্থাপত্য দেখতেও পর্যটকদের কাছে জায়গাটি বিশেষ আকর্ষণ হয়ে আছে।