রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩

ত্রাণকর্মীদের জন্য টানা তৃতীয় বছর বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান গাজা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৭ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ত্রাণকর্মীদের জন্য টানা তৃতীয় বছর বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান গাজা

ত্রাণকর্মীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ গাজা টানা তৃতীয় বছর বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য এই ভয়াবহ পরিস্থিতি তুলে ধরেছে। ২০২৫ সালেও বহু মানবিক সহায়তাকর্মী সেখানে প্রাণ হারিয়েছেন।

জাতিসংঘের হিসাবে, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে অন্তত ৩২৬ জন মানবিক সহায়তাকর্মী নিহত হয়েছেন। গত তিন বছরে নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। গাজা ও পশ্চিম তীরেই ৫৬০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন।

ত্রাণকর্মীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ গাজা তে প্রাণহানি

গাজা টানা তৃতীয় বছরের মতো সবচেয়ে বিপজ্জনক এলাকা হয়েছে। সংঘাতের মধ্যে সেখানে মানবিক কার্যক্রম চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

২০২৫ সালে গাজায় ১৮৬ জন মানবিক সহায়তাকর্মী নিহত হয়েছেন। এরপর তালিকায় রয়েছে সুদান। সেখানে একই সময়ে ৭১ জন ত্রাণকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।

ফলে গাজা ও সুদানের পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে। জীবন রক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছাতে গিয়েও কর্মীরা মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।

বিশ্বজুড়ে ত্রাণকর্মীদের হতাহতের চিত্র

এইড ওয়ার্কার সিকিউরিটি ডাটাবেসেও ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। ২০২৫ সালে মোট ৯০৭ জন সহায়তাকর্মী হতাহত বা অপহৃত হয়েছেন।

এর মধ্যে নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন হিসাবে পার্থক্য রয়েছে। জাতিসংঘ অন্তত ৩২৬ জন নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে। অন্য হিসাবে সংখ্যাটি বেশি।

২০২৪ সালেও ত্রাণকর্মীদের প্রাণহানি রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছিল। তবে পরের বছর সামগ্রিক হতাহত ও অপহরণের ঘটনা আরও বেড়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, তিন বছরে এক হাজারের বেশি ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন। আগের তিন বছরের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় তিনগুণ।

ত্রাণকর্মীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ গাজা ও পশ্চিম তীরে পাঁচ শতাধিক প্রাণহানি

গত তিন বছরের প্রাণহানির বড় অংশ ঘটেছে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে। গাজা ও পশ্চিম তীরে ৫৬০ জনের বেশি কর্মী নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে সুদানে একই সময়ে ১৩০ জন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ সুদানেও বহু মানবিক কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। ইউক্রেনেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

জাতিসংঘের বিস্তারিত তথ্য মানবিক সহায়তাকর্মীদের নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিবেদনে পাওয়া যায়।

সশস্ত্র ড্রোন বাড়াচ্ছে নিরাপত্তা ঝুঁকি

সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সশস্ত্র ড্রোনের ব্যবহারও বাড়ছে। এসব ড্রোন তুলনামূলক সস্তা এবং সহজলভ্য। ফলে মানবিক কর্মীদের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এদিকে হামলা ও সামরিক তৎপরতা সহায়তা কার্যক্রমেও বাধা সৃষ্টি করছে। নিরাপদে খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

স্থানীয় কর্মীরাও বড় ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মীরাও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।

ত্রাণকর্মীদের সুরক্ষায় জবাবদিহির আহ্বান

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে হামলার ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। জাতিসংঘও মানবিক কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে দৈনিক বাংলাভিউয়ের আরও আন্তর্জাতিক সংবাদ পড়তে পারেন। সেখানে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঘটনার সর্বশেষ তথ্য পাওয়া যাবে।

২০২৬ সালেও অব্যাহত প্রাণহানি

নতুন বছরেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বরং ত্রাণকর্মীদের ওপর হামলা এবং হতাহতের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।

চলতি বছরেও বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় মানবিক কর্মীরা নিহত হয়েছেন। আহত ও অপহরণের ঘটনাও নিয়মিতভাবে সামনে আসছে।

ফলে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক এলাকায় সাধারণ মানুষের কাছে জরুরি সেবা পৌঁছানোও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ত্রাণকর্মীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ গাজা সহায়তার সংকট

ত্রাণকর্মীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ গাজা এখন মানবিক কার্যক্রমের বড় চ্যালেঞ্জ। কর্মীরা জীবন বাজি রেখে খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন।

তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি তাঁদের কাজ কঠিন করছে। একই সঙ্গে বেসামরিক মানুষের প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার সুযোগও সংকুচিত হচ্ছে।

সব মিলিয়ে ত্রাণকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন বড় আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ। কার্যকর সুরক্ষা ছাড়া মানবিক সহায়তা কার্যক্রম আরও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

ইমরানের ছেলেদের সাক্ষাৎকারে স্কাই স্পোর্টসের ওপর ক্ষুব্ধ পিসিবি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ২:২৯ পিএম
ইমরানের ছেলেদের সাক্ষাৎকারে স্কাই স্পোর্টসের ওপর ক্ষুব্ধ পিসিবি

স্কাই স্পোর্টসের ওপর পিসিবির ক্ষোভ তৈরি হয়েছে ইমরান খানের দুই ছেলের একটি সাক্ষাৎকার ঘিরে। লর্ডসে ইংল্যান্ড-পাকিস্তান দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনে সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটি।

সুলাইমান খান ও কাসিম খানের সাক্ষাৎকার নেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইক আথারটন। সেখানে তারা কারাবন্দি বাবার স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

স্কাই স্পোর্টসের ওপর পিসিবির আপত্তি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাক্ষাৎকার প্রচারের আগেই স্কাই স্পোর্টসের সঙ্গে যোগাযোগ করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।

সাক্ষাৎকার দেখানো হলে ক্রিকেটাররা মাঠে না ফেরার বিষয়টিও বিবেচনায় ছিল।

তবে পিসিবির আপত্তি সত্ত্বেও ১৮ মিনিটের সাক্ষাৎকারটি শেষ পর্যন্ত প্রচার করে স্কাই স্পোর্টস।

এরপর পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা নির্ধারিত সময়েই মাঠে ফেরেন। পাকিস্তানে সিরিজ সম্প্রচারকারী রাষ্ট্রীয় চ্যানেল পিটিভি অবশ্য সাক্ষাৎকারটি দেখায়নি।

ফলে স্কাই স্পোর্টসের ওপর পিসিবির ক্ষোভ নিয়ে ক্রিকেট অঙ্গনে আলোচনা বাড়ে।

ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে ছেলেদের উদ্বেগ

সুলাইমান ও কাসিম জানান, প্রায় তিন বছর ধরে কারাগারে থাকা বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। একই সঙ্গে উপযুক্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি ইমরানকে ইসলামাবাদের শিফা হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

তবে তাকে পিমস হাসপাতালে পরীক্ষার পর আবার কারাগারে পাঠানো হয়।

ইমরানের পরিবার এ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। তারা ব্যক্তিগত চিকিৎসকের মাধ্যমে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সুযোগ চায়।

সাবেক অধিনায়কদেরও চিকিৎসার আহ্বান

ইমরানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ২১ জন সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে চিঠি দিয়েছেন।

তাদের মধ্যে মাইক আথারটনসহ বিভিন্ন দেশের সাবেক অধিনায়ক রয়েছেন।

অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার ইমরানের প্রতি নির্যাতন বা সাক্ষাতে বাধার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সরকারের দাবি, বন্দি হওয়ার পর বহুবার পরিবার ও আইনজীবীরা তার সঙ্গে দেখা করেছেন।

২০২৩ সালের আগস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে রয়েছেন ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান।

তিনি ও পিটিআই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

দৈনিক বাংলাভিউয়ের খেলাধুলার আরও খবর পড়ুন। নিয়মিত আপডেট পাওয়া যাবে দৈনিক বাংলাভিউয়ের এক্স অ্যাকাউন্টে

নেপাল-তিব্বত বন্যায় ৩০ দেশের নাগরিক নিখোঁজ, উদ্ধার অব্যাহত

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৪:১৫ এম
নেপাল-তিব্বত বন্যায় ৩০ দেশের নাগরিক নিখোঁজ, উদ্ধার অব্যাহত

নেপাল-তিব্বত বন্যায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে। শনিবারের সর্বশেষ হিসাবে দুই অঞ্চলে অন্তত ৬৭৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। প্রায় তিন হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ, যাদের মধ্যে বহু বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।

নেপালের দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে ২ হাজার ৪২৬ জন এখনো নিখোঁজ। তিব্বতের গিরোং কাউন্টিতে পাঁচ শতাধিক মানুষের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

উদ্ধার অভিযানে হেলিকপ্টার, সেনা, পুলিশ ও বিশেষায়িত দল কাজ করছে।

নেপাল-তিব্বত বন্যায় ৩০টির বেশি দেশের নাগরিক নিখোঁজ

নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের নাগরিক রয়েছেন।

নেপালের পর্যটন কর্তৃপক্ষের হিসাবে ৩০টির বেশি দেশের নাগরিক দুর্যোগের সময় ওই অঞ্চলে ছিলেন।

অনেকেই কৈলাস-মানসসরোবরগামী পর্যটক ও তীর্থযাত্রী। ভারত জানিয়েছে, তাদের শতাধিক নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আরও কয়েকশ ভারতীয় এখনো যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, ইউক্রেন ও অস্ট্রেলিয়ার অনেক নাগরিকের সন্ধানেও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলো কাজ করছে।

দুর্যোগের বিস্তৃত প্রেক্ষাপট ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও জানুন

পাহাড়ি অঞ্চল, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক এবং বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ উদ্ধার তৎপরতাকে কঠিন করে তুলছে।

উদ্ধার অভিযানে আন্তর্জাতিক সহায়তা

নেপাল এখন টানেল উদ্ধার, ডিএনএ শনাক্তকরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক কারিগরি সহায়তা চেয়েছে। ভারত ও অন্যান্য দেশ ইতোমধ্যে উদ্ধার সরঞ্জাম, চিকিৎসা সহায়তা এবং ত্রাণ পাঠিয়েছে।

কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের শ্রমিকও নিখোঁজ তালিকায় রয়েছেন। কাদা ও ধ্বংসাবশেষে আটকে থাকা টানেলগুলোতে উদ্ধারকারী দল বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে।

খারাপ আবহাওয়া ও নতুন বৃষ্টির আশঙ্কায় কিছু সময় হেলিকপ্টার অভিযান ব্যাহত হয়েছে।

চীনও তিব্বতের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার কাজ চালাচ্ছে।

সীমান্তবর্তী নতুন হ্রদের পানি নিয়ে সতর্কতা থাকলেও সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে তাৎক্ষণিক ঝুঁকি কিছুটা কমেছে। তবু সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা বন্যা নিয়ে সতর্ক রয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নেপালে চার হাজারের বেশি মানুষকে বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের তালিকা যাচাই করতে কনস্যুলার সমন্বয়ও জোরদার করা হয়েছে।

নেপাল-তিব্বত বন্যার উদ্ধার পরিস্থিতি আরও জানতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের এক্স আপডেটেও নজর রাখা যেতে পারে।

নতুন মরদেহ উদ্ধার ও নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়ায় সরকারি হিসাব নিয়মিত পরিবর্তিত হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য এখন জীবিতদের উদ্ধার, আহতদের চিকিৎসা এবং বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি পৌঁছানো।

একই সঙ্গে বিদেশি নাগরিকদের পরিচয় ও অবস্থান নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তথ্য বিনিময় চলছে।

নেপালের বন্যায় ভেসে উত্তর প্রদেশে সাত মরদেহ উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ৩:২৬ পিএম
নেপালের বন্যায় ভেসে উত্তর প্রদেশে সাত মরদেহ উদ্ধার

নেপালের বন্যায় ভেসে আসা সাতটি মরদেহ ভারতের উত্তর প্রদেশে উদ্ধার করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। মহারাজগঞ্জ ও কুশীনগর জেলার নদী থেকে মরদেহগুলো পাওয়া যায়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন নারী ও দুজন পুরুষ রয়েছেন।

এখনো কারও পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। কর্মকর্তাদের ধারণা, নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার স্রোতে মরদেহগুলো সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে এসেছে।

উত্তর প্রদেশের এই অংশটি নেপালের বন্যায় কবলিত চিতওয়ান অঞ্চলের ভাটিতে অবস্থিত। গণ্ডক নদীতে এখনো প্রবল স্রোত থাকায় প্রশাসন নজরদারি বাড়িয়েছে।

মহারাজগঞ্জে উদ্ধার চার অজ্ঞাত মরদেহ

মহারাজগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট গৌরব সিং সোগারওয়াল জানান, বৃহস্পতিবার জেলায় চারটি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিচলাউল তহসিলের উপবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্ধার্থ গুপ্ত বলেন, গণ্ডক নদী থেকে তিন নারী ও এক পুরুষের মরদেহ পাওয়া গেছে।

তার ভাষ্য, মরদেহগুলো নেপাল থেকে ভেসে আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। পরিচয় শনাক্তের জন্য ভারতীয় প্রশাসন নেপালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

একই সঙ্গে নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে উদ্ধার ও নিরাপত্তা দল।  বিস্তারিত আরও জানুন দৈনিক বাংলাভিউয়ের আন্তর্জাতিক সংবাদে।

নেপালের বন্যায় কুশীনগরে আরও তিন মরদেহ

মহারাজগঞ্জ থেকে ভাটির দিকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরের কুশীনগরে আরও তিনটি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিদ্ধার্থ ভার্মা জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে দুজন নারী ও একজন পুরুষ।

মরদেহগুলো ফ্রিজারে সংরক্ষণ করে পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। ভারী বৃষ্টির পর গণ্ডক নদীতে তীব্র স্রোত অব্যাহত রয়েছে।

ফলে আগামী কয়েক দিনে আরও মরদেহ বা ধ্বংসাবশেষ ভেসে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন।

মহারাজগঞ্জ ও কুশীনগরের নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

এদিকে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের দুর্যোগে প্রাণহানির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। শনিবারের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক হিসাবে নেপাল ও তিব্বতে অন্তত ৬৩৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে।

প্রায় তিন হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

ভারতে উদ্ধার হওয়া সাতটি মরদেহ ওই সরকারি মৃত্যুর হিসাবের বাইরে রয়েছে।

তাদের পরিচয় নিশ্চিত হলে সংশ্লিষ্ট দেশের প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এগোবে।

নেপালের বন্যা নিয়ে নতুন উদ্ধার তথ্য ও সীমান্ত পরিস্থিতি আরও জানতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের এক্স পাতায়ও হালনাগাদ দেখা যাবে।

উদ্ধারকারী দলগুলো নদীর প্রবাহ ও সম্ভাব্য নতুন ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছে।