শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩
শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩

ত্রাণকর্মীদের জন্য টানা তৃতীয় বছর বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান গাজা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৭ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ত্রাণকর্মীদের জন্য টানা তৃতীয় বছর বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান গাজা

ত্রাণকর্মীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ গাজা টানা তৃতীয় বছর বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য এই ভয়াবহ পরিস্থিতি তুলে ধরেছে। ২০২৫ সালেও বহু মানবিক সহায়তাকর্মী সেখানে প্রাণ হারিয়েছেন।

জাতিসংঘের হিসাবে, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে অন্তত ৩২৬ জন মানবিক সহায়তাকর্মী নিহত হয়েছেন। গত তিন বছরে নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। গাজা ও পশ্চিম তীরেই ৫৬০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন।

ত্রাণকর্মীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ গাজা তে প্রাণহানি

গাজা টানা তৃতীয় বছরের মতো সবচেয়ে বিপজ্জনক এলাকা হয়েছে। সংঘাতের মধ্যে সেখানে মানবিক কার্যক্রম চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

২০২৫ সালে গাজায় ১৮৬ জন মানবিক সহায়তাকর্মী নিহত হয়েছেন। এরপর তালিকায় রয়েছে সুদান। সেখানে একই সময়ে ৭১ জন ত্রাণকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।

ফলে গাজা ও সুদানের পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে। জীবন রক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছাতে গিয়েও কর্মীরা মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।

বিশ্বজুড়ে ত্রাণকর্মীদের হতাহতের চিত্র

এইড ওয়ার্কার সিকিউরিটি ডাটাবেসেও ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। ২০২৫ সালে মোট ৯০৭ জন সহায়তাকর্মী হতাহত বা অপহৃত হয়েছেন।

এর মধ্যে নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন হিসাবে পার্থক্য রয়েছে। জাতিসংঘ অন্তত ৩২৬ জন নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে। অন্য হিসাবে সংখ্যাটি বেশি।

২০২৪ সালেও ত্রাণকর্মীদের প্রাণহানি রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছিল। তবে পরের বছর সামগ্রিক হতাহত ও অপহরণের ঘটনা আরও বেড়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, তিন বছরে এক হাজারের বেশি ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন। আগের তিন বছরের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় তিনগুণ।

ত্রাণকর্মীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ গাজা ও পশ্চিম তীরে পাঁচ শতাধিক প্রাণহানি

গত তিন বছরের প্রাণহানির বড় অংশ ঘটেছে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে। গাজা ও পশ্চিম তীরে ৫৬০ জনের বেশি কর্মী নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে সুদানে একই সময়ে ১৩০ জন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ সুদানেও বহু মানবিক কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। ইউক্রেনেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

জাতিসংঘের বিস্তারিত তথ্য মানবিক সহায়তাকর্মীদের নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিবেদনে পাওয়া যায়।

সশস্ত্র ড্রোন বাড়াচ্ছে নিরাপত্তা ঝুঁকি

সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সশস্ত্র ড্রোনের ব্যবহারও বাড়ছে। এসব ড্রোন তুলনামূলক সস্তা এবং সহজলভ্য। ফলে মানবিক কর্মীদের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এদিকে হামলা ও সামরিক তৎপরতা সহায়তা কার্যক্রমেও বাধা সৃষ্টি করছে। নিরাপদে খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

স্থানীয় কর্মীরাও বড় ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মীরাও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।

ত্রাণকর্মীদের সুরক্ষায় জবাবদিহির আহ্বান

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে হামলার ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। জাতিসংঘও মানবিক কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে দৈনিক বাংলাভিউয়ের আরও আন্তর্জাতিক সংবাদ পড়তে পারেন। সেখানে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঘটনার সর্বশেষ তথ্য পাওয়া যাবে।

২০২৬ সালেও অব্যাহত প্রাণহানি

নতুন বছরেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বরং ত্রাণকর্মীদের ওপর হামলা এবং হতাহতের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।

চলতি বছরেও বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় মানবিক কর্মীরা নিহত হয়েছেন। আহত ও অপহরণের ঘটনাও নিয়মিতভাবে সামনে আসছে।

ফলে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক এলাকায় সাধারণ মানুষের কাছে জরুরি সেবা পৌঁছানোও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ত্রাণকর্মীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ গাজা সহায়তার সংকট

ত্রাণকর্মীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ গাজা এখন মানবিক কার্যক্রমের বড় চ্যালেঞ্জ। কর্মীরা জীবন বাজি রেখে খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন।

তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি তাঁদের কাজ কঠিন করছে। একই সঙ্গে বেসামরিক মানুষের প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার সুযোগও সংকুচিত হচ্ছে।

সব মিলিয়ে ত্রাণকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন বড় আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ। কার্যকর সুরক্ষা ছাড়া মানবিক সহায়তা কার্যক্রম আরও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

মেসিদের নতুন কোচ কিলি গঞ্জালেজ, সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪৯ এম
মেসিদের নতুন কোচ কিলি গঞ্জালেজ, সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

ইন্টার মায়ামির নতুন কোচ হিসেবে আর্জেন্টিনার ক্রিস্তিয়ান আলবার্তো ‘কিলি’ গঞ্জালেজকে নিয়োগ দিয়েছে ক্লাবটি। তবে প্রয়োজনীয় ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার পরই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেবেন।

ততদিন অন্তর্বর্তী কোচ গিয়ের্মো হোয়োসই মেসিদের ডাগআউট সামলাবেন। ৫২ বছর বয়সী কিলির জন্ম আর্জেন্টিনার রোসারিও শহরে, লিওনেল মেসিরও জন্ম একই শহরে।

খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে ৫৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। ইউরোপে ভ্যালেন্সিয়া ও ইন্টার মিলানের মতো বড় ক্লাবেও খেলেছেন এই সাবেক উইঙ্গার।

কিলি গঞ্জালেজের খেলোয়াড়ি ও কোচিং অভিজ্ঞতা

ভ্যালেন্সিয়ার হয়ে ২০০২ সালে লা লিগা জেতেন কিলি। পরে ইন্টার মিলানের হয়ে ২০০৬ সালে সিরি আ শিরোপার অংশ ছিলেন।

অবসরের নয় বছর পর ২০২০ সালে রোসারিও সেন্ট্রালের মাধ্যমে কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেন তিনি।

এরপর আর্জেন্টিনার ইউনিয়ন সান্তা ফে ও প্লাতেন্সের দায়িত্বও সামলেছেন কিলি। ইন্টার মায়ামির আগে প্লাতেন্স ছিল তার সর্বশেষ ক্লাব।

আন্তর্জাতিক ফুটবলের আরও খবর আরও জানুন দৈনিক বাংলাভিউয়ে।

এমএলএসের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মায়ামি এখন ইস্টার্ন কনফারেন্সে দ্বিতীয় স্থানে আছে। তাদের সংগ্রহ ৩৯ পয়েন্ট, শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলের চেয়ে ১০ পয়েন্ট কম।

বিশ্বকাপ বিরতির পর দলটির পারফরম্যান্সে বড় ধাক্কা এসেছে।

ইন্টার মায়ামির নতুন কোচের বড় চ্যালেঞ্জ

সাম্প্রতিক পাঁচ ম্যাচে মায়ামি জয়হীন, এর মধ্যে চারটিতে হেরেছে দলটি। ফলে নতুন কোচের প্রধান দায়িত্ব হবে দ্রুত জয়ের ধারায় ফেরানো।

স্কোয়াডে মেসির পাশাপাশি লুইস সুয়ারেজ, রদ্রিগো দে পল ও কাসেমিরোর মতো তারকা রয়েছেন।

গত এপ্রিলে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে হাভিয়ের মাসচেরানো প্রধান কোচের পদ ছাড়েন।

এরপর হোয়োস অন্তর্বর্তী দায়িত্ব নেন। একই সঙ্গে ক্লাবের প্রধান ফুটবল কর্মকর্তা আলবার্তো মাররেরো স্পোর্টিং ডিরেক্টরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

হোয়োসও সাম্প্রতিক সময়ে শাস্তির মুখে পড়েছেন। নির্ধারিত সময়ে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করতে মাঠে না ফেরার নিয়ম বারবার ভাঙায় তাকে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছে এমএলএস। ক্লাব ও হোয়োসকে জরিমানাও করা হয়েছে।

কিলির নিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় অন্তর্বর্তী সময়ে দায়িত্ব পালনের জন্য হোয়োসকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ইন্টার মায়ামি।

ইন্টার মায়ামির নতুন কোচ কে ঘিরে পরবর্তী খবর আরও জানতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের এক্স আপডেটে নজর রাখা যেতে পারে।

ওয়ার্ক পারমিট হাতে পাওয়ার পর কিলি তার কোচিং স্টাফসহ দায়িত্ব নেবেন।

তখন বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে নতুন অধ্যায় শুরু হবে।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র: আগস্টে ৬৪ কোটি ইউনিট উৎপাদন

বাংলাভিউ ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫০ এম
রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র: আগস্টে ৬৪ কোটি ইউনিট উৎপাদন

রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র জ্বালানি সংকটের মধ্যেও জাতীয় গ্রিডে ধারাবাহিক বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। বাগেরহাটের এই কেন্দ্রের স্থাপিত ক্ষমতা এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট।

আগস্টের প্রথম ২৫ দিনে কেন্দ্রটি উল্লেখযোগ্য উৎপাদন ধরে রেখেছে। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত কেন্দ্রটির অ্যাভেইলিবিলিটি ছিল ১০০ শতাংশ।

এ সময়ে প্রায় ৬৪ কোটি ৩৬ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। গড় উৎপাদন ছিল প্রায় এক হাজার ৭৩ মেগাওয়াট।

আগস্টে ধারাবাহিক উৎপাদন ধরে রেখেছে রামপাল

এর আগে জুনেও রামপাল থেকে প্রায় ৮২ কোটি ৭৩ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছিল। তখন গড় উৎপাদন ছিল প্রায় এক হাজার ১৪৯ মেগাওয়াট।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থিতিশীল উৎপাদন জাতীয় গ্রিডের চাপ সামলাতে সহায়তা করছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক রমানাথ পূজারী জানান, বর্তমানে দুটি ইউনিটই চালু রয়েছে।

এপ্রিল থেকে গ্রিডের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। আগামী অক্টোবর পর্যন্ত প্রয়োজনীয় কয়লাও মজুত রয়েছে বলে তিনি জানান।

দেশের বিদ্যুৎ খাতের অন্যান্য প্রতিবেদন আরও জানুন দৈনিক বাংলাভিউয়ে।

উৎপাদনের ধারাবাহিকতা থাকলে বাড়তি চাহিদার সময় রামপাল গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিতে পারবে।

বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের হাতে মূল পরিচালনা

মহাব্যবস্থাপক ও প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিম বলেন, কেন্দ্রটির মূল পরিচালনা এখন বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের হাতে।

ভারতীয় প্রকৌশলীরা নতুন বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। বর্তমানে তারা মূলত উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

উপব্যবস্থাপক (অপারেশন) খাঁন নোমান শিবলী বলেন, আন্তর্জাতিক স্বীকৃত মান অনুসরণ করে কেন্দ্রটি পরিচালনা করা হচ্ছে।

তার দাবি, পরিবেশগত সুরক্ষা বজায় রেখেই উৎপাদন চলছে। গ্রিডের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন ধরে রাখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

এদিকে রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র অতীতে কয়লা সংকটসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার অভিজ্ঞতা দেখেছে।

তবে দুটি ইউনিট সচল থাকায় পরিস্থিতি এখন তুলনামূলক স্থিতিশীল। কর্মকর্তারা ভবিষ্যতেও চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ অব্যাহত রাখার আশা প্রকাশ করেছেন।

রামপালসহ বিদ্যুৎ খাতের দ্রুত আপডেট আরও জানতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের এক্স পেজে নজর রাখা যেতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কয়লার মজুত ও ইউনিট সচল থাকলে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হবে।

সাম্প্রতিক উৎপাদন পরিসংখ্যান জ্বালানি সংকটের মধ্যেও কেন্দ্রটির সক্ষমতার চিত্র তুলে ধরছে।

তবে প্রকৃত সরবরাহ প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডের চাহিদার ওপর নির্ভর করছে। তাই স্থাপিত ক্ষমতা ও বাস্তব উৎপাদনের পার্থক্য বিবেচনায় রেখেই সক্ষমতা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

নেপাল-তিব্বত বন্যায় মৃত্যু ৫৮৪, নিখোঁজ প্রায় আড়াই হাজার

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৮ এম
নেপাল-তিব্বত বন্যায় মৃত্যু ৫৮৪, নিখোঁজ প্রায় আড়াই হাজার

নেপাল-তিব্বত বন্যা প্রাণহানি ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বেড়েছে। সর্বশেষ হিসাবে নেপালে ৫৭৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। তিব্বতে আরও পাঁচজনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ।

নেপালে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৯২৪ জনে পৌঁছেছে। তিব্বতে আরও পাঁচ শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে দুই অঞ্চলে নিখোঁজের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে।

নেপাল-তিব্বত বন্যায় বাড়ছে প্রাণহানি ও নিখোঁজ

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নতুন হ্রদ তৈরি হওয়ায় উদ্ধারকাজও জটিল হয়ে পড়েছে। তাই কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় উদ্ধারকারী দলকে সাময়িকভাবে পিছিয়ে যেতে হয়েছে।

হ্রদের পানি উপচে পড়ায় নতুন বন্যার আশঙ্কাও রয়েছে।

চিলিমে এলাকার জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মী কমল খারেল ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

তার ভাষ্য, পুরো এলাকা ভূমিকম্পের মতো কাঁপছিল। বাইরে গিয়ে তিনি প্রচণ্ড জলরাশি ও সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো উঁচু স্রোত দেখেন।

অন্যদিকে নুয়াকোটের সোলে গ্রামের সাংবাদিক নিরাজন পৌড়েল নিখোঁজ বাবা-মা ও স্বজনদের খুঁজছেন। এখনো তাদের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় তিনি গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

নতুন হ্রদে বাড়ছে উদ্ধারকাজের ঝুঁকি

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বলছে, ধসের ধ্বংসাবশেষে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে নতুন হ্রদ সৃষ্টি হয়েছে। এর পানি বাড়লে আবারও আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।

আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক খবর জানতে আরও জানুন বিভাগ দেখতে পারেন।

এদিকে জাতিসংঘ জরুরি চিকিৎসা, আশ্রয় ও বিশুদ্ধ পানির জন্য ২০ লাখ ডলার বরাদ্দ করেছে।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার এই বিপর্যয়কে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছেন।

এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছাতে কাজ করছে।

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের সৃজনা গুরুং বলেছেন, নেপাল ধারাবাহিক জলবায়ু ধাক্কার মুখে রয়েছে।

তার মতে, বন্যা ও ভূমিধসের তীব্রতা এবং ঘনত্ব বাড়ছে। বিশুদ্ধ পানির সংকটে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে।

অন্যদিকে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মায়া ওয়াং তিব্বতে তথ্যপ্রবাহ ও প্রবেশাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তিনি আন্তর্জাতিক গবেষক ও সাংবাদিকদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

রেড ক্রসের হিসাবে অন্তত ৯৩ হাজার মানুষ এই দুর্যোগে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

তাই উদ্ধার, চিকিৎসা, আশ্রয় ও বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করাই এখন প্রধান অগ্রাধিকার।

নেপাল-তিব্বত বন্যা পরবর্তী আপডেট আরও জানতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের এক্স পেজ অনুসরণ করতে পারেন।