রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩

কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৫৪

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০৯ এম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৫৪

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কলম্বিয়া এখন এক মৃত্যুপুরী। কমপক্ষে ২৫৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের ভিতর আটকরা পড়ে আছেন কয়েক হাজার মানুষ। তাদের নিখোঁজ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা কোথায় গিয়ে শেষ হয় তা অনুমান করা যাচ্ছে না। সোমবার (১০ আগস্ট) ভোরে ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে কলম্বিয়ায়। তারপর থেকে চারদিকে আতঙ্ক। জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা।

আতঙ্কিত মানুষ ধ্বংসস্তূপের ভিতর নিজের স্বজনদের খুঁজছেন। এ খবর দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, দেশটির পশ্চিমাঞ্চলজুড়ে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিতদের উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন উদ্ধারকারীরা। দেশটির কফি উৎপাদনকারী কেন্দ্রস্থল দিয়ে ভূমিকম্পটি বয়ে যাওয়ার সময় অ্যাপার্টমেন্ট ভবন, বাড়িঘর, স্কুল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অনেকগুলোতে ফাটল ধরে, কিছু ভবন হেলে পড়ে এবং কিছু পুরোপুরি ধসে যায়। মঙ্গলবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন শহর থেকে পাওয়া পৃথক প্রতিবেদনে মৃতের সংখ্যা ২৫৪ জন বলে জানানো হয়।

এর মধ্যে কফি উৎপাদন এলাকার গভীরে অবস্থিত পেরেইরায় ১০১ জন এবং দেশের তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালীতে ৯৫ জন নিহত হয়েছেন। ভূমিকম্পের উপকেন্দ্রের কাছাকাছি প্রশান্ত মহাসাগরমুখী বনাঞ্চলীয় চোকো অঞ্চলের বহু আদিবাসী সম্প্রদায় এখনো বিদ্যুৎ ও মৌলিক সেবা থেকে বিচ্ছিন্ন। এতে উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলার শপথ গ্রহণের মাত্র কয়েক দিন পরই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। প্রেসিডেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সফর করে যেসব মানুষ বাড়িঘর হারিয়েছেন, তাদের অর্থনৈতিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ন্যাশনাল কফি ফেডারেশন ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। কৃষিখামার ও গ্রামীণ অবকাঠামোর ক্ষতিও তারা মূল্যায়ন করছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রধান জার্মান বাহামন।

এদিকে সোমবার (১০ আগস্ট) রাত থেকে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) পর্যন্ত উদ্ধারকারীরা ক্রেন, খননযন্ত্র এবং নিজেদের হাত ব্যবহার করে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ধ্বংসস্তূপ সরাতে তারা মানবশৃঙ্খল তৈরি করে একে অন্যের হাতে বালতি তুলে দিচ্ছেন এবং আটকে পড়া মানুষদের খুঁজছেন।

পেরেইরায় স্বামী ও ১০ মাসের শিশুকে নিয়ে পরিচালিত অতিথিশালা থেকে কীভাবে পালিয়ে বেঁচেছেন, তার বর্ণনা দিয়েছেন রোসা গনজালেজ। তিনি রয়টার্সকে বলেন, ভবনটি কাঁপতে ও কড়কড় শব্দ করতে শুরু করে। আমরা বাইরে দৌড়ে বের হওয়ার পরই ভবনটি ধসে পড়ে। রোসা জানান, অতিথিশালার ভেতরে থাকা প্রায় ২০ জনের মধ্যে মাত্র আটজন জীবিত বের হতে পেরেছেন। একজন বয়স্ক ব্যক্তি একটি টেরেসে আটকা পড়েছিলেন। তিনি আশঙ্কা করছেন, ওই ব্যক্তি নিহতদের মধ্যে থাকতে পারেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সার হোসে গায়েগো ভূমিকম্পের সময় পেরেইরা বিমানবন্দরে মাত্র পৌঁছেছিলেন। তিনি তখন লাইভ ভিডিও করছিলেন। ভিডিওতে ভূমিকম্পের তীব্র কম্পনের দৃশ্য ধারণ করা হয়। ছাদের কিছু অংশ ভেঙে পড়ার সময় তিনি একটি টেবিলের নিচে আশ্রয় নেন। গায়েগো বলেন, মানুষ আহত, রক্তাক্ত ও চিৎকার করছিল। তারা পরিবারের সদস্যদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিল। তিনি সারা রাত ঘুমাতে পারেননি এবং পরাঘাতের আশঙ্কায় খোলা জায়গায় অবস্থান করছিলেন। মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত প্রায় ১০০টি পরাঘাত রেকর্ড করা হয়েছে।

কালী শহরে বাসিন্দারা রাস্তায় রান্না করেছেন এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে সম্ভবপর জিনিসপত্র উদ্ধার করেছেন। ধ্বংস হয়ে যাওয়া টোরেস দেল লিমোনার অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের সামনে উদ্ধারকর্মী, সাধারণ স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় কর্মকর্তারা জড়ো হন। গাছপালায় ঘেরা অভিজাত আবাসিক এলাকায় একসময় বহুতল দুটি ভবন নিয়ে দাঁড়িয়েছিল এই কমপ্লেক্সটি।

উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একজন নারীকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনলে উপস্থিত জনতা উল্লাসে ফেটে পড়ে। পরে তাকে স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সবার ভাগ্য এতটা ভালো ছিল না। কালী শহরের জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সচিব জার্মান এসকোবার জানান, শহরের মর্গ ইতোমধ্যে মৃতদেহে পূর্ণ হয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষ রাস্তায় পড়ে থাকা আরও মরদেহ মর্গে নিয়ে যাচ্ছে।

সুনামগঞ্জে সিজারে নবজাতকের গলায় ক্ষতের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪০ পিএম
সুনামগঞ্জে সিজারে নবজাতকের গলায় ক্ষতের অভিযোগ

সুনামগঞ্জে নবজাতকের গলায় ক্ষত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে পৌর শহরের কাজী পয়েন্টের জেনারেল হাসপাতালের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটে ২৭ আগস্ট সন্ধ্যায়। ডা. অতুল কুমার মজুমদার (মিন্টু)-র তত্ত্বাবধানে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারটি সম্পন্ন হয়।

নবজাতকটি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের মঈনুল ইসলামের সন্তান। পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকের অসাবধানতায় শিশুটির গলায় গভীর ক্ষত তৈরি হয়। এরপর ওই স্থান থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়।

সুনামগঞ্জে নবজাতকের গলায় ক্ষত নিয়ে পরিবারের অভিযোগ

রোগীর স্বজন উস্তার আলী জানান, ঘটনার পর তারা চিকিৎসকের কাছে বিষয়টির ব্যাখ্যা চান। তবে চিকিৎসক প্রথমে ক্ষতটিকে ‘জন্মগত দাগ’ বলে উল্লেখ করেন বলে তার দাবি।

একই সঙ্গে শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আরেক স্বজন নূর মিয়া বলেন, তারা চিকিৎসকের কাছ থেকে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাননি।

বরং কথা বলতে গেলে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। স্বজনদের দাবি, রাতে চিকিৎসকের চেম্বারে গেলে তারা হুমকিরও মুখে পড়েন।

হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতাল এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা তানভীর আহমেদ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।

তিনি বলেন, চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এদিকে সুনামগঞ্জে নবজাতকের গলায় ক্ষত হওয়ার অভিযোগ ঘিরে উপস্থিত স্বজনদের উদ্বেগ বাড়ে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে।

নবজাতককে সিলেটে পাঠানো

সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রতন শেখ জানান, নবজাতককে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের সহায়তায় তাকে এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

তখন শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল বলে পুলিশ জানায়।

এছাড়া স্বজনদের অভিযোগের পর জিল্লুর রহমান সোহাগ নামে একজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।

তবে অভিযোগের বিষয়ে চিকিৎসকের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

দৈনিক বাংলাভিউয়ের দেশের আরও খবর নিয়মিত পড়তে পারেন।

ইমরানের ছেলেদের সাক্ষাৎকারে স্কাই স্পোর্টসের ওপর ক্ষুব্ধ পিসিবি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ২:২৯ পিএম
ইমরানের ছেলেদের সাক্ষাৎকারে স্কাই স্পোর্টসের ওপর ক্ষুব্ধ পিসিবি

স্কাই স্পোর্টসের ওপর পিসিবির ক্ষোভ তৈরি হয়েছে ইমরান খানের দুই ছেলের একটি সাক্ষাৎকার ঘিরে। লর্ডসে ইংল্যান্ড-পাকিস্তান দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনে সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটি।

সুলাইমান খান ও কাসিম খানের সাক্ষাৎকার নেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইক আথারটন। সেখানে তারা কারাবন্দি বাবার স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

স্কাই স্পোর্টসের ওপর পিসিবির আপত্তি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাক্ষাৎকার প্রচারের আগেই স্কাই স্পোর্টসের সঙ্গে যোগাযোগ করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।

সাক্ষাৎকার দেখানো হলে ক্রিকেটাররা মাঠে না ফেরার বিষয়টিও বিবেচনায় ছিল।

তবে পিসিবির আপত্তি সত্ত্বেও ১৮ মিনিটের সাক্ষাৎকারটি শেষ পর্যন্ত প্রচার করে স্কাই স্পোর্টস।

এরপর পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা নির্ধারিত সময়েই মাঠে ফেরেন। পাকিস্তানে সিরিজ সম্প্রচারকারী রাষ্ট্রীয় চ্যানেল পিটিভি অবশ্য সাক্ষাৎকারটি দেখায়নি।

ফলে স্কাই স্পোর্টসের ওপর পিসিবির ক্ষোভ নিয়ে ক্রিকেট অঙ্গনে আলোচনা বাড়ে।

ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে ছেলেদের উদ্বেগ

সুলাইমান ও কাসিম জানান, প্রায় তিন বছর ধরে কারাগারে থাকা বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। একই সঙ্গে উপযুক্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি ইমরানকে ইসলামাবাদের শিফা হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

তবে তাকে পিমস হাসপাতালে পরীক্ষার পর আবার কারাগারে পাঠানো হয়।

ইমরানের পরিবার এ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। তারা ব্যক্তিগত চিকিৎসকের মাধ্যমে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সুযোগ চায়।

সাবেক অধিনায়কদেরও চিকিৎসার আহ্বান

ইমরানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ২১ জন সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে চিঠি দিয়েছেন।

তাদের মধ্যে মাইক আথারটনসহ বিভিন্ন দেশের সাবেক অধিনায়ক রয়েছেন।

অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার ইমরানের প্রতি নির্যাতন বা সাক্ষাতে বাধার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সরকারের দাবি, বন্দি হওয়ার পর বহুবার পরিবার ও আইনজীবীরা তার সঙ্গে দেখা করেছেন।

২০২৩ সালের আগস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে রয়েছেন ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান।

তিনি ও পিটিআই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

দৈনিক বাংলাভিউয়ের খেলাধুলার আরও খবর পড়ুন। নিয়মিত আপডেট পাওয়া যাবে দৈনিক বাংলাভিউয়ের এক্স অ্যাকাউন্টে

নেপাল-তিব্বত বন্যায় ৩০ দেশের নাগরিক নিখোঁজ, উদ্ধার অব্যাহত

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৪:১৫ এম
নেপাল-তিব্বত বন্যায় ৩০ দেশের নাগরিক নিখোঁজ, উদ্ধার অব্যাহত

নেপাল-তিব্বত বন্যায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে। শনিবারের সর্বশেষ হিসাবে দুই অঞ্চলে অন্তত ৬৭৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। প্রায় তিন হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ, যাদের মধ্যে বহু বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।

নেপালের দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে ২ হাজার ৪২৬ জন এখনো নিখোঁজ। তিব্বতের গিরোং কাউন্টিতে পাঁচ শতাধিক মানুষের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

উদ্ধার অভিযানে হেলিকপ্টার, সেনা, পুলিশ ও বিশেষায়িত দল কাজ করছে।

নেপাল-তিব্বত বন্যায় ৩০টির বেশি দেশের নাগরিক নিখোঁজ

নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের নাগরিক রয়েছেন।

নেপালের পর্যটন কর্তৃপক্ষের হিসাবে ৩০টির বেশি দেশের নাগরিক দুর্যোগের সময় ওই অঞ্চলে ছিলেন।

অনেকেই কৈলাস-মানসসরোবরগামী পর্যটক ও তীর্থযাত্রী। ভারত জানিয়েছে, তাদের শতাধিক নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আরও কয়েকশ ভারতীয় এখনো যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, ইউক্রেন ও অস্ট্রেলিয়ার অনেক নাগরিকের সন্ধানেও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলো কাজ করছে।

দুর্যোগের বিস্তৃত প্রেক্ষাপট ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও জানুন

পাহাড়ি অঞ্চল, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক এবং বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ উদ্ধার তৎপরতাকে কঠিন করে তুলছে।

উদ্ধার অভিযানে আন্তর্জাতিক সহায়তা

নেপাল এখন টানেল উদ্ধার, ডিএনএ শনাক্তকরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক কারিগরি সহায়তা চেয়েছে। ভারত ও অন্যান্য দেশ ইতোমধ্যে উদ্ধার সরঞ্জাম, চিকিৎসা সহায়তা এবং ত্রাণ পাঠিয়েছে।

কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের শ্রমিকও নিখোঁজ তালিকায় রয়েছেন। কাদা ও ধ্বংসাবশেষে আটকে থাকা টানেলগুলোতে উদ্ধারকারী দল বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে।

খারাপ আবহাওয়া ও নতুন বৃষ্টির আশঙ্কায় কিছু সময় হেলিকপ্টার অভিযান ব্যাহত হয়েছে।

চীনও তিব্বতের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার কাজ চালাচ্ছে।

সীমান্তবর্তী নতুন হ্রদের পানি নিয়ে সতর্কতা থাকলেও সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে তাৎক্ষণিক ঝুঁকি কিছুটা কমেছে। তবু সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা বন্যা নিয়ে সতর্ক রয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নেপালে চার হাজারের বেশি মানুষকে বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের তালিকা যাচাই করতে কনস্যুলার সমন্বয়ও জোরদার করা হয়েছে।

নেপাল-তিব্বত বন্যার উদ্ধার পরিস্থিতি আরও জানতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের এক্স আপডেটেও নজর রাখা যেতে পারে।

নতুন মরদেহ উদ্ধার ও নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়ায় সরকারি হিসাব নিয়মিত পরিবর্তিত হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য এখন জীবিতদের উদ্ধার, আহতদের চিকিৎসা এবং বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি পৌঁছানো।

একই সঙ্গে বিদেশি নাগরিকদের পরিচয় ও অবস্থান নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তথ্য বিনিময় চলছে।