ঈশ্বরগঞ্জে বিদ্যুৎ অফিসে হামলা ও ভাঙচুর, আহত প্রকৌশলী

ঈশ্বরগঞ্জ বিদ্যুৎ অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক প্রকৌশলী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। এর আগে শিমরাইল গ্রামে এক সপ্তাহ বিদ্যুৎ ছিল না।

বিদ্যুৎ না থাকায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। তীব্র গরমে শিশু ও বয়স্করা অসুস্থ হচ্ছেন। পাশাপাশি পানির সংকট দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

ঈশ্বরগঞ্জ বিদ্যুৎ অফিসে হামলা ও বিক্ষোভ

বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামবাসীরা পিডিবি কার্যালয়ে যান। বিক্ষোভে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন অংশ নেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

বিক্ষুব্ধরা অফিসের কাচ ভাঙচুর করেন। বৈদ্যুতিক সরঞ্জামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি কয়েকটি ড্রয়ার ভাঙার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ সময় উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম আহত হন। তাঁকে মারধরের অভিযোগও উঠেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ট্রান্সফরমার নিয়ে গ্রামবাসীর অভিযোগ

গ্রামবাসীর দাবি, ১৩ আগস্ট রাতে ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়। এরপর থেকে এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। এতে কয়েক শতাধিক বাসিন্দা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

মাসখানেক আগেও ট্রান্সফরমারটি নষ্ট হয়েছিল। তখন নতুন ট্রান্সফরমার দেওয়া হয়নি। পরিবর্তে পুরোনো একটি ট্রান্সফরমার বসানো হয়েছিল। সেটিও দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।

স্থানীয় সজিব মিয়া এ বিষয়ে অভিযোগ করেন। নূরুল হকও একই অভিযোগ করেন। আতিকুল ইসলাম ও জহিরুল ইসলামও সমস্যার কথা জানান।

তাঁদের দাবি, পুরোনো ট্রান্সফরমার বারবার বসানো হচ্ছে। তাই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। নতুন ট্রান্সফরমারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ

এদিকে নতুন ট্রান্সফরমার দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পরিমাণ ৫০ হাজার টাকা। স্থানীয় বাসিন্দারা পিডিবি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রেজাউল করিম। তাঁর দাবি, ট্রান্সফরমারের জন্য কোনো টাকা নেওয়া হয়নি। অভিযোগটি ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেন তিনি।

রেজাউল করিম বলেন, হঠাৎ লোকজন তাঁর ওপর চড়াও হন। তবে লাইন মেরামতে কিছু খরচ হয়। সংযোগের কাজেও লাইনম্যানদের কিছু খরচাপাতি থাকে।

তিনি আরও জানান, বিভাগে ট্রান্সফরমারের সংকট রয়েছে। তাই পুরোনো একটি ট্রান্সফরমার দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ ছিলেন।

পুরোনো ট্রান্সফরমার ঘিরে উত্তেজনা

আবাসিক প্রকৌশলী হামজা ইমামও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। তাঁর মতে, ট্রান্সফরমার নষ্ট হওয়ার তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল।

সরঞ্জামের সংকট থাকায় ট্রান্সফরমার পেতে দেরি হয়েছে। বুধবার রাতে একটি ট্রান্সফরমার আসে। তবে সেটিও পুরোনো ছিল।

হামজা ইমামের দাবি, পুরোনো ট্রান্সফরমার দেখে এলাকাবাসী উত্তেজিত হন। পরে তাঁরা অফিসে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

ঈশ্বরগঞ্জ বিদ্যুৎ অফিসে হামলার পর পরিস্থিতি

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। ওসি রবিউল আজম পুলিশের নেতৃত্ব দেন। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি। নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। সেই আশ্বাসে বিক্ষুব্ধ বাসিন্দারা শান্ত হন।

আরও সারাদেশের সংবাদ পড়ুন দৈনিক বাংলাভিউয়ে। ভিডিও দেখুন দৈনিক বাংলাভিউয়ের ইউটিউব চ্যানেলে

সব মিলিয়ে ঈশ্বরগঞ্জ বিদ্যুৎ অফিসে হামলা ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *