কোটি টাকা খরচেও অকার্যকর বেনাপোলের ওজন নিয়ন্ত্রণ স্কেল

যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে অতিরিক্ত পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল নিয়ন্ত্রণে স্থাপন করা এক্সেল লোড কন্ট্রোল স্টেশন কার্যত কোনো কাজে আসছে না। স্টেশনটি পরিচালনায় সরকারকে প্রতিবছর প্রায় ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয় করতে হলেও অতিরিক্ত পণ্য বহন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেনাপোলের পণ্য পরিবহনকারী ব্যবসায়ী ও বাণিজ্যিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতা না পাওয়ায় ওজন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে না। ব্যবসায়ীদের মূল আপত্তি হলো—ভোমরা, নওয়াপাড়া ও মোংলা বন্দরসংলগ্ন সড়কে একই ধরনের ওজন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় শুধু বেনাপোল রুটে স্কেল চালু হলে এই বন্দরের ব্যবসা অন্যত্র চলে যেতে পারে

  • ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপন

সড়ক উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয় করা হলেও অতিরিক্ত পণ্য বহনকারী যানবাহনের কারণে অনেক সড়ক দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ওজনের ট্রাক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে।

বাংলাদেশ-ভারত স্থলবাণিজ্যের বড় অংশ বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পরিচালিত হয়। এ কারণে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ওপর যানবাহনের চাপও বেশি।

সড়কটি সুরক্ষায় জাইকার অর্থায়নে প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২২ সালে বেনাপোল পৌর গেট এলাকায় ওয়িং স্কেল স্থাপন করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। পরে স্কেল পরিচালনার জন্য ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট ৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা হয়।

গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও কর্মচারীসহ ৪২ জন স্কেল পরিচালনার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। নিরাপত্তার জন্য রয়েছেন আরও সাতজন আনসার সদস্য।

  • জরিমানার বিধান থাকলেও প্রয়োগ নেই

অতিরিক্ত পণ্য বহনের ক্ষেত্রে প্রথম অতিরিক্ত টনের জন্য ৫ হাজার টাকা এবং পরবর্তী প্রতি টনের জন্য ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। কিন্তু স্কেলে অতিরিক্ত ওজন শনাক্ত হওয়ার পরও জরিমানা আদায় কিংবা অতিরিক্ত পণ্য পরিবহন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছে না।

ফলে একদিকে সরকারের ব্যয় করা অর্থের সুফল মিলছে না, অন্যদিকে অতিরিক্ত ওজনের পণ্যবাহী যান চলাচলের কারণে মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

  • ব্যবসায়ীদের দাবি চার বন্দরেই স্কেল

বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি মালিক সমিতির সভাপতি আতিকুজ্জমান সনি বলেন, পদ্মার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বেনাপোল ছাড়াও ভোমরা, নওয়াপাড়া ও মোংলা বন্দর রয়েছে। এসব বন্দরের সড়কে ওজন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না রেখে শুধু বেনাপোল সড়কে স্কেল চালু করাকে তারা বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন।

তার দাবি, চারটি বন্দরের সড়কেই ওজন নিয়ন্ত্রণ স্কেল চালু করা হলে ব্যবসায়ীদের আপত্তি থাকবে না। শুধু বেনাপোল রুটে ব্যবস্থা কার্যকর করা হলে পণ্য পরিবহনকারীরা অন্য বন্দরের দিকে চলে যেতে পারেন, এতে বেনাপোল বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বেনাপোলের ব্যবসায়ী সাজেদুর রহমানও একই ধরনের দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, আশপাশের বন্দরের সড়কে ওজন নিয়ন্ত্রণ না থাকলে শুধু বেনাপোল রুটে অতিরিক্ত ওজনের জন্য জরিমানা দিতে ব্যবসায়ীরা আগ্রহী হবেন না।

  • পুলিশের বক্তব্য

নাভারন হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান জানান, বেনাপোল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর হওয়ায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পণ্যবাহী ট্রাক এই মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করে।

তিনি বলেন, অনেক ট্রাকে অতিরিক্ত পণ্য থাকলেও ওজনের স্লিপ না থাকায় সেগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ সমস্যা সমাধানের জন্যই বেনাপোল পৌর গেটে ওজন নিয়ন্ত্রণ স্কেল স্থাপন করা হয়েছে।

তবে ব্যবসায়ীদের অসহযোগিতার কারণে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ব্যবস্থা কার্যকর করা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি। স্কেলটি চালু করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা

তথ্যসূত্র: সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্র

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *