জুড়ীতে অবৈধ বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি ও ঘুষের অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সরবরাহ কেন্দ্র ঘিরে। দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ উঠেছে।
একজন অমিত কুমার বিশ্বাস। তিনি ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রকৌশলী। অপরজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী সব্যসাচী দত্ত। অভিযোগটি জুড়ী নিউমার্কেটের বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে।
কোটি টাকার জরিমানা কমানোর অভিযোগ রয়েছে। জরিমানা ৩২ লাখ টাকায় রফাদফার খবর ছড়িয়েছে। এছাড়া ১০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
জুড়ীতে অবৈধ বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অভিযান
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জুলাই অভিযান চালানো হয়। এটি ছিল বিশেষ মোবাইল কোর্টের অভিযান। সিলেট বিদ্যুৎ আদালত অভিযানটি পরিচালনা করে। ঘটনাস্থল ছিল জুড়ী নিউমার্কেট।
অভিযানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। সেখানে ৫০টির বেশি মিটার পাওয়া যায়। এসব মিটারের বিপরীতে ৪২টি মামলা হয়।
পরে জরিমানার চূড়ান্ত হিসাব তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্তের পর হিসাব তৈরির কথা ছিল। বিবরণ আদালতে পাঠানোর নির্দেশও ছিল।
এই দায়িত্ব ছিল অমিত কুমার বিশ্বাসের ওপর। তিনি কেন্দ্রটির ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রকৌশলী।
অবৈধ সংযোগের জরিমানা কমানোর অভিযোগ
অভিযোগ অনুযায়ী, নিউমার্কেটে দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ চুরি হয়েছে। জরিমানা এক কোটি টাকা ছাড়ানোর কথা ছিল। তবে সেই হিসাব গোপনের অভিযোগ রয়েছে।
দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগে ১০ লাখ টাকা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নিউমার্কেট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এর বিনিময়ে জরিমানা কমানোর অভিযোগ উঠেছে। কোটি টাকার জরিমানা ৩২ লাখ টাকা করা হয়। পরে আদালতে সেই হিসাব জমা দেওয়া হয়।
জুড়ীতে অবৈধ বিদ্যুৎ বিল ঘিরে ঘুষের অভিযোগ
অনুসন্ধানে দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অনিয়ম চলছে বলে অভিযোগ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জুড়ী বিদ্যুৎ অফিসে ঘুষ বাণিজ্য চলছে। পাশাপাশি দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। গ্রাহকদের হয়রানির অভিযোগও পাওয়া গেছে।
গ্রাহকরা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পারেন না বলে অভিযোগ। কাজের জন্য দালালের দ্বারস্থ হতে হয়।
সরাসরি অফিসে গেলেও সমস্যার অভিযোগ রয়েছে। গ্রাহকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁরা বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন। একই সঙ্গে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন।
অমিত কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চান স্থানীয়রা। সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি রয়েছে।
অভিযোগ নিয়ে স্থানীয়দের হুঁশিয়ারি
দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
তাঁরা বিউবোর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। পাশাপাশি অভিযোগগুলো তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও রয়েছে।
আরও দেশের সংবাদ পড়তে দৈনিক বাংলাভিউয়ে থাকুন। ভিডিও দেখুন দৈনিক বাংলাভিউয়ের ইউটিউব চ্যানেলে।