হান্নান মাসুদের সংসদ সদস্য পদ বাতিলের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসুদের বিরুদ্ধে এই রিট করা হয়। হাতিয়া উপজেলার বাসিন্দা নাজমুল হোসেন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি জমা দিয়েছেন।
রিট আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, নির্বাচনী হলফনামায় প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন করেছেন হান্নান মাসুদ। এ অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিলের বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। তবে রিটে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে আদালত এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি।
হান্নান মাসুদের পদ বাতিল চেয়ে যা বলা হয়েছে রিটে
রিটকারীর আইনজীবীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটির শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবেদনে নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
রিটে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবের মাধ্যমে সরকারের প্রতি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় তাদের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে।
হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ
হান্নান মাসুদের বিরুদ্ধে করা রিটের মূল বিষয় হলো নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ। রিটকারী দাবি করেছেন, হলফনামায় প্রয়োজনীয় তথ্য যথাযথভাবে প্রকাশ করা হয়নি। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁর সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকার বৈধতা নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।
তবে অভিযোগগুলো এখন আদালতের বিবেচনাধীন বিষয়। রিট দায়ের হওয়া মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। শুনানির পর আদালত সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য, দাখিল করা নথি এবং প্রযোজ্য আইন বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় আদেশ দেবেন।
নোয়াখালী-৬ আসন নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
আবদুল হান্নান মাসুদ জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা এবং নোয়াখালী-৬, অর্থাৎ হাতিয়া আসনের সংসদ সদস্য। তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিলের আবেদন আদালতে যাওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিক ও আইনগতভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।
হান্নান মাসুদের সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণা করা হবে কি না, তা শেষ পর্যন্ত আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। একই সঙ্গে হলফনামায় তথ্য গোপনের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেটির আইনগত ভিত্তি ও গ্রহণযোগ্যতাও শুনানিতে পর্যালোচনা হতে পারে।
রিটটির শুনানি হলে আদালত কী আদেশ দেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।