লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল স্থানীয় বিএনপির একটি গ্রুপের বিরুদ্ধে চলমান ষড়যন্ত্রের বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তাকে অযোগ্য মনে করে পদত্যাগের নির্দেশ দিলে এক মুহূর্তও বিলম্ব করবেন না বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার রাতে সরকারি আদিতমারী জিএস উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একটি কর্মী মূল্যায়ন সভার আয়োজন করা হয়। আদিতমারী উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠন আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অভিযোগ নিয়ে যা বললেন রোকন উদ্দিন বাবুল
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এমপি বাবুল। তিনি বলেন, সভার মঞ্চে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারাও সেখানে অংশ নেন।
যারা নিজেদের তৃণমূল দাবি করে তাকে অযোগ্য আখ্যা দিচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার অভিযোগ, নির্বাচনের আগে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার সময়ও একটি মহল তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের চক্রান্ত ও বিষোদগার করেছিল।
তবে নির্বাচন শেষ হওয়ার পরও ওই মহলটি থেমে নেই। বরং তারা নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব কর্মকাণ্ড শহীদ জিয়াউর রহমানের পরিবারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করছে বলে অভিযোগ করেন এমপি বাবুল।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে রোকন উদ্দিন বাবুল বলেন, কোনো অপশক্তি বা চক্রান্তকারী শহীদ জিয়ার পরিবারের আদর্শ ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে পারবে না।
সভা শুরুর পর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১৮০ দিনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এতে ওই সময়ে বাস্তবায়িত বিভিন্ন কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরা হয়।
এদিকে তৃণমূলের অনেক নেতা দাবি করেন, নির্বাচনের আগে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম দলীয় মনোনয়ন পাননি। এরপর থেকে স্থানীয় বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও অসহযোগিতার মধ্যেও রোকন উদ্দিন বাবুল বিপুল ভোটে জয়ী হন বলে তারা জানান।
চক্রান্তকারীদের বয়কটের দাবি
তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর বাবুলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দেখে একটি পরাজিত মহল ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়ে। ওই মহল তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর পাশাপাশি উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে বলেও তারা দাবি করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট চক্রান্তকারীদের দল থেকে বয়কটের দাবি জানান নেতারা।
সভায় আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে পাল্টা অভিযোগ
এর আগে সোমবার রোকন উদ্দিন বাবুলের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন আদিতমারী উপজেলা বিএনপির একাংশের নেতারা। সেখানে তারা তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ তোলেন।
আদিতমারী উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব সালেকুজ্জামান প্রামাণিক। তার অভিযোগ, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে বাবুল দলীয় মূলধারা ও প্রবীণ নেতাদের তোয়াক্কা করছেন না। বরং তিনি নিজের স্বার্থ গুছিয়ে চলছেন বলে দাবি করেন সালেকুজ্জামান।
এ ছাড়া জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও স্বার্থান্বেষী মহলের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও তোলা হয়। তাদের দাবি, বাবুল নিজের ইচ্ছামতো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। এর ফলে বিএনপির ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপের অপেক্ষা
পাল্টাপাল্টি এসব অভিযোগের কারণে লালমনিরহাট বিএনপির রাজনীতিতে অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। একদিকে এমপি বাবুল তৃণমূলের সমর্থন নিয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে দলের একটি অংশ তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপ স্থানীয় রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রোকন উদ্দিন বাবুল তার বক্তব্যে বারবার দলীয় শৃঙ্খলার ওপর জোর দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: সর্বশেষ সংবাদ