কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক তিন দিনের জন্য স্থগিত করলেন ডনাল্ড ট্রাম্প
কানাডার নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপর নতুন করে আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্ক তিন দিনের জন্য স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত ১২টা ১ মিনিটে শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টারও কম সময় আগে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। পরে হোয়াইট হাউসের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় শুল্ক কার্যকরের নতুন সময় নির্ধারণ করা হয় ২২ আগস্ট রাত ১২টা ১ মিনিট, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময়।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানান, চূড়ান্ত নথিপত্র সম্পন্ন হওয়ার শর্তে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র একটি বাণিজ্য সমঝোতায় পৌঁছেছে। এ কারণেই ৫০ শতাংশ শুল্ক তিন দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনিও বলেছেন, দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, তবে চূড়ান্ত সমঝোতার জন্য আরও কাজ বাকি রয়েছে।
প্রায় ২ হাজার কোটি ডলারের কানাডীয় পণ্যের ওপর এই অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। গত ২০ জুলাই ট্রাম্প প্রশাসন কানাডার নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়। মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি, মদ ও দুগ্ধজাত পণ্যের ক্ষেত্রে কানাডার নীতিতে বৈষম্য রয়েছে। ওয়াইন, হকি সরঞ্জাম, দুগ্ধজাত পণ্য ও কিছু কাঠজাত পণ্যসহ বিভিন্ন কানাডীয় পণ্য নতুন শুল্কের আওতায় পড়ার কথা ছিল।
যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য আলোচনায় অগ্রগতি
শুল্ক কার্যকর হওয়া ঠেকাতে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ওয়াশিংটন ও অটোয়ার মধ্যে জোর আলোচনা চলে। মার্ক কারনি ও ডনাল্ড ট্রাম্প গত দুই দিনে দুবার ফোনে কথা বলেন। দুই দেশের আলোচনাকারীরাও গাড়ি, মদ ও দুগ্ধজাত পণ্যের বাজারে প্রবেশাধিকারসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কানাডার ওপর নতুন শুল্ক কার্যকর হলে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিল অটোয়া। ফলে শেষ মুহূর্তের এই স্থগিতাদেশ দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বাণিজ্যসংশ্লিষ্টদের মধ্যে আপাতত স্বস্তি এনে দিয়েছে। এখন ২২ আগস্টের নতুন সময়সীমার আগে চূড়ান্ত নথিপত্র সম্পন্ন হয় কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে।
আলোচনায় কিস্টোন এক্সএল পাইপলাইন
শুল্ক স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার সময় বিতর্কিত কিস্টোন এক্সএল তেল পাইপলাইন প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া কিস্টোন এক্সএল পাইপলাইন আবারও চালু হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে পাইপলাইনটি বাণিজ্য সমঝোতার অংশ কি না, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
কানাডার আলবার্টা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের জন্য কিস্টোন এক্সএল প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পাইপলাইনটির প্রতিদিন প্রায় ৮ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল তেল পরিবহনের সক্ষমতা থাকার কথা ছিল। বারাক ওবামার প্রশাসন ২০১৫ সালে প্রকল্পটির গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদন প্রত্যাখ্যান করলেও ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে সেটি পুনরুজ্জীবিত করেন। ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সীমান্ত অতিক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অনুমতি বাতিল করার পর প্রকল্পটির মালিক প্রতিষ্ঠান টিসি এনার্জি শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি বাতিল করে।
পরিবেশবাদী সংগঠন ও আদিবাসী গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে কিস্টোন এক্সএল প্রকল্পের বিরোধিতা করে আসছে। তবে ট্রাম্প বরাবরই প্রকল্পটি পুনরুজ্জীবিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এখন যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার সম্ভাব্য নতুন বাণিজ্য সমঝোতায় পাইপলাইনটির ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসে কি না, সেটিও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।