ইন্দোনেশিয়ার যোগ্যাকার্তা শহরের একটি ডে-কেয়ার কেন্দ্রে শিশুদের নির্যাতন ও অবহেলার অভিযোগে ১১ কর্মীর বিচার শুরু হয়েছে। ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার স্থানীয় আদালতে এই বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। মামলাটি লিটল আরেশা ডে-কেয়ার কেন্দ্রকে ঘিরে, যা দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে দুই থেকে ছয় বছর বয়সী বেশ কয়েকজন শিশুকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দেখতে পায়। পুলিশ জানিয়েছে, কয়েকজন শিশুকে দরজার সঙ্গেও বেঁধে রাখা হয়েছিল।
আরোও পড়ুনঃ
ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে ঘুরে দাঁড়ানোর এখনই সময়: প্রধানমন্ত্রী
নারীদের জন্য বিশেষ বিআরটিসি বাস সার্ভিসের যাত্রা
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, শিশুদের শাস্তি দেওয়ার নামে তাদের খাবার থেকে বঞ্চিত করা, পানিতে মাথা ডুবিয়ে দেওয়া এবং পা বেঁধে রাখার মতো ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হতো। এসব ঘটনার কারণে অনেক শিশু মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুদের মধ্যে ঘুমের সমস্যা ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক ভয়ের মতো লক্ষণ দেখা দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের তদন্তে এ ঘটনায় মোট ৩২ জনকে সন্দেহভাজন বা আসামি করা হয়েছে। এর আগে জুলাইয়ে পুলিশ জানিয়েছিল, নতুন করে আরও ১৪ জনকে আসামি করায় মোট সন্দেহভাজনের সংখ্যা ২৭-এ দাঁড়িয়েছে। পরবর্তী সময়ে এই সংখ্যা আরও বেড়ে ৩২ হয়েছে। মামলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ডে-কেয়ার কেন্দ্রটি প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পরিচালিত হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান দিয়াহ কুসুমাস্তুতির বিরুদ্ধেও শিশু নির্যাতনের নির্দেশ দেওয়ার এবং লাইসেন্স ছাড়া প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশের অভিযানের পর ঘটনাটি ইন্দোনেশিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডে-কেয়ার কেন্দ্রগুলোর ওপর সরকারি নজরদারি আরও কঠোর করার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে শিশুদের দেখভালের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ইন্দোনেশিয়ার আইনে এসব অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি ইন্দোনেশীয় রুপিয়া জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যাবে না। শিশুদের নিরাপদে রাখার কথা যেখানে, সেই ডে-কেয়ারেই নির্যাতনের অভিযোগ ইন্দোনেশিয়ায় গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। এখন আদালতের বিচার ও রায়ের পাশাপাশি দেশটির ডে-কেয়ার ব্যবস্থায় শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।