শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩
শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে ঘুরে দাঁড়ানোর এখনই সময়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪০ এম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে ঘুরে দাঁড়ানোর এখনই সময়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর পালা বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত রাজস্ব সম্মেলনে যোগ দিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ এনবিআরকে একটি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চায়। দক্ষ ও টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই জনগণের এই আস্থা অর্জন করা সম্ভব এবং করদাতাদের প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব রাজস্ব কর্মকর্তাদেরই নিতে হবে। বর্তমান সরকার এনবিআরকে জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।

আরোও পড়ুনঃ অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ আয় বাড়ানোর তাগিদ

সরকারপ্রধান বলেন, বিতাড়িত ও পলাতক ফ্যাসিস্ট চক্র দেশকে ঋণনির্ভর ও আমদানিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করে গণঅভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে গেছে। বর্তমান সরকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার নীতির বিরোধী। তাই রাজস্ব আহরণে অভ্যন্তরীণ আয়ের উৎস ও ক্ষেত্র বাড়াতে হবে।

আরও  পড়ুনঃ বগুড়ায় নারীদের জন্য বিশেষ বিআরটিসি বাস সার্ভিসের যাত্রা শুরু

তিনি আজকের এই রাজস্ব সম্মেলনকে কেবল একটি সাধারণ আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে না দেখে আগামী দিনের সাফল্যের পথনির্দেশক হিসেবে দেখছেন। কারণ, এনবিআরের কার্যক্রমের সাফল্যের ওপরই সরকারের সব উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সফলতা অনেকাংশে নির্ভরশীল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করি, আজকের এই সম্মেলন হবে আগামী দিনে আপনাদের আরও অধিক সাফল্যের পথনির্দেশনার সম্মেলন।’

এনবিআরের হারানো আস্থা পুনরুদ্ধারের আহ্বান

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কী ধরনের ভঙ্গুর অর্থনীতির মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছি, এটি দেশের যেকোনো শ্রেণি-পেশার মানুষের চেয়ে আপনারা বেশি অবগত। আপনারা জানেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অভিশাপ থেকে রাষ্ট্রের অন্য সব প্রতিষ্ঠানের মতো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডও মুক্ত থাকতে পারেনি।

আরোও পড়ুনঃ  দুদকের সহকারী পরিচালক পদে ১০ চাকরিপ্রার্থীকে নিয়োগের নির্দেশ কেন নয়: হাইকোর্টের রুল

এনবিআরের নীতি-নিয়ম উপেক্ষা করে ব্যক্তি কিংবা দলীয় স্বার্থে কাউকে পৃষ্ঠপোষকতা, কারও প্রতি বিরূপ মনোভাব কিংবা রাজস্ব আহরণে স্বেচ্ছাচারিতা এনবিআরকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল। এনবিআরের ওপর মানুষের আস্থা বিনষ্ট হয়েছিল। এখন সময় সেই হারানো আস্থা পুনরুদ্ধারের।’

রাজস্ব সম্মেলনে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান নিয়ে বার্তা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আয়ের ক্ষেত্র ও উৎস বাড়াতে সরকার গণমুখী উৎপাদননীতি গ্রহণ করেছে। এর ফলে দেশে বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়ন বাড়বে। মানুষের আয় বৃদ্ধি ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এনবিআরের দক্ষ ভূমিকা অনস্বীকার্য।

আরোও পড়ুনঃ নেতানিয়াহুর নির্বাচনী বিলবোর্ডে জোহরান মামদানি: উত্তপ্ত রাজনৈতিক মাঠ

আধুনিক রাজস্ব কর্মকর্তাকে অর্থনীতি, ব্যবসা, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখতে হবে। অন্যথায় সামগ্রিক কর্মক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। একটি ভালো রাজস্ব ব্যবস্থা এমন হওয়া দরকার, যেখানে মানুষ কর দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন। কর প্রদানের পদ্ধতি যথাসম্ভব দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত এবং সহজ করা দরকার।

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে ডিজিটাল কর প্রশাসনের তাগিদ

তারেক রহমান বলেন, অনলাইনে কর পরিশোধ করা সম্ভব হলে করদাতার অফিসে আসার দরকার নেই। যথানিয়মে কর আদায় করলে এটি করদাতা ও রাষ্ট্র উভয়ের জন্যই লাভজনক। কর ব্যবস্থাপনা সহজ ও দুর্নীতিমুক্ত হলে মানুষ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কর দেবেন।

একই করদাতাদের ওপর বারবার করের বোঝা না বাড়িয়ে কর প্রদানে সক্ষম ব্যক্তিদের শনাক্ত করে যথাযথ নিয়মে করের আওতায় আনা জরুরি। এ জন্য ডিজিটাল ও আধুনিক ডাটাভিত্তিক কর প্রশাসন গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

আরোও পড়ুনঃ বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান ভারতের অংশ হবে: বিতর্কিত যোগগুরু রামদেব

ভ্যাট আধুনিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলেও এর সফলতা নির্ভর করে কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। কাস্টমস, ভ্যাট কিংবা ট্যাক্স আদায় শুধু এনফোর্সমেন্টের বিষয় নয়; বরং রাজস্ব ব্যবস্থাপনার ওপর করদাতাদের আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি হলে রাজস্ব আহরণ অনেক সহজ হয়ে যায়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে মানুষ এই প্রতিষ্ঠানকে ভয় না করে, বরং বিশ্বাস করে।

লা গ্রঁদ-মোত: স্থাপত্যেই যে শহরের অনন্য পরিচয়

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪০ এম
লা গ্রঁদ-মোত: স্থাপত্যেই যে শহরের অনন্য পরিচয়

লা গ্রঁদ-মোত ফ্রান্সের দক্ষিণ উপকূলের এমন এক সমুদ্রতীরবর্তী শহর, যার পরিচয়ের কেন্দ্রে রয়েছে স্থাপত্য। স্থপতি জ্যাঁ বালাদুরের পরিকল্পনায় গড়ে ওঠে শহরটি।

পিরামিডসদৃশ ভবন, বাঁকানো অবয়ব ও জ্যামিতিক নকশা আলাদা করে নজর কাড়ে। ১৯৬০-এর দশকে লাঙ্গেদক উপকূল উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন এই পর্যটনশহরের নির্মাণ শুরু হয়।

ফরাসি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বালাদুর প্রায় তিন দশক ধরে শহরটির নগর পরিকল্পনা ও স্থাপত্যে কাজ করেন।

লা গ্রঁদ-মোতের পিরামিড স্থাপত্য

শহরটির সবচেয়ে পরিচিত স্থাপনাগুলোর একটি ‘লা গ্রঁদ পিরামিদ’। এর এক পাশ সরল ঢালু, অন্য পাশ বাঁকানো।

নকশাটিতে কাছের পিক সাঁ-লু পাহাড়ের উল্টো অবয়বের অনুপ্রেরণা রয়েছে বলে স্থানীয় পর্যটন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এখানকার অনেক আবাসিক ভবনের বারান্দা ধাপে ধাপে বাইরে বেরিয়ে এসেছে। ফলে দূর থেকে সেগুলো থিয়েটারের বক্স কিংবা বিশাল জ্যামিতিক ভাস্কর্যের মতো দেখায়।

শহরের পথ, উন্মুক্ত স্থান ও সবুজায়নও একই পরিকল্পনার অংশ। পথচারী ও সাইকেল আরোহীদের চলাচল সহজ করতে সড়কের পাশাপাশি আলাদা সংযোগপথও রাখা হয়েছিল।

এতে পর্যটনকেন্দ্র হলেও শহরটি কেবল কংক্রিটনির্ভর হয়ে ওঠেনি।

—ফ্রান্সের স্থাপত্য ও ভ্রমণের নানা গল্প জানতে ক্লিক করুন।

২০১০ সালে শহরটি ফ্রান্সের বিংশ শতাব্দীর স্থাপত্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পায়।

পুয়াঁ জেরো থেকে শুরু শহরের গল্প

পুয়াঁ জেরো শহরটির ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৬৭ সালে নির্মিত এই স্থাপনাকে কেন্দ্র করেই নতুন শহরের পরিকল্পনা বিস্তার পায়।

কাছের পুয়াঁ জেরো সৈকত এখন পরিবার, পর্যটক ও সাইকেল আরোহীদের জনপ্রিয় গন্তব্য।

সৈকতটি শহরের জন্মপর্বের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত এবং বিস্তৃত সবুজ এলাকার পাশে অবস্থিত।

এখানকার ৫০ মিটার উঁচু ফেরিস হুইলও পর্যটকদের আকর্ষণ করে। এতে ৯০ বর্গমিটার সৌর প্যানেল রয়েছে।

ফলে প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের একটি অংশ সেখানেই উৎপাদিত হয়। শক্তি পুনরুদ্ধারকারী বৈদ্যুতিক মোটরও এর ব্যবস্থায় যুক্ত রয়েছে।

ভ্রমণের আরও তথ্য জানতে এক্স পাতায় চোখ রাখুন।

লা গ্রঁদ-মোত স্থাপত্য ফ্যাশনজগতেও প্রভাব ফেলেছে। ফরাসি ডিজাইনার সিমন পোর্ত জাকেমুস তার ২০১৪ সালের বসন্ত-গ্রীষ্ম সংগ্রহের নাম দেন ‘লা গ্রঁদ-মোত’।

একই বছর শহরটি ঘিরে তিনি একটি ফটোগ্রাফি বইও প্রকাশ করেন। স্থাপত্য, সমুদ্র ও পরিকল্পিত সবুজের এই সমন্বয় শহরটিকে সাধারণ সৈকতনগরীর বাইরে আলাদা পরিচয় দিয়েছে।

তাই শুধু সমুদ্রভ্রমণ নয়, আধুনিক নগর স্থাপত্য দেখতেও পর্যটকদের কাছে জায়গাটি বিশেষ আকর্ষণ হয়ে আছে।

চীন-নেপাল সীমান্তে ভূমিধসের হ্রদে নতুন বন্যার শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫১ এম
চীন-নেপাল সীমান্তে ভূমিধসের হ্রদে নতুন বন্যার শঙ্কা

চীন-নেপাল সীমান্তে হ্রদ ঘিরে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নেপালের দিক থেকে নেমে আসা ভূমিধস ও ধ্বংসাবশেষ নদীর প্রবাহ আটকে এই হ্রদ তৈরি করেছে।

গিরং সীমান্তবন্দর ও ভাটির জনপদগুলোকে তাই সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে হ্রদটিতে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি ছিল।

পরবর্তী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি প্রবেশের পূর্বাভাস দেওয়া হয়।

অব্যাহত বৃষ্টিতে প্রাকৃতিক বাঁধ ভাঙলে নিচু এলাকায় আকস্মিক বন্যা নামতে পারে।

চীন-নেপাল সীমান্তে হ্রদ নিয়ে সতর্কতা

কর্তৃপক্ষের হিসাবে, পানির প্রবাহ ১ সেপ্টেম্বরের দিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। বিশেষজ্ঞ দলও হ্রদের বাঁধ, পানির গভীরতা ও প্রবাহের গতি নিয়মিত পরীক্ষা করছে।

সম্ভাব্য ক্ষতির তালিকায় গিরং বন্দর এবং নদীর নিম্নাঞ্চল রয়েছে। স্যাটেলাইট ও জরুরি জলবিদ্যুৎ পর্যবেক্ষণ দল দিয়ে পরিস্থিতি নজরে রাখা হচ্ছে।

শুক্রবার পর্যন্ত ৪৯৯ জন ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা ও নির্মাণশ্রমিককে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৫৫৫ জন পর্যটককেও দুর্যোগ এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে আর কোনো পর্যটক আটকা নেই।

তবে শুক্রবার হ্রদের পানি কিছুটা কমায় তাৎক্ষণিক ঝুঁকি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণযোগ্য বলে উদ্ধারকারীরা জানান।

এরপর স্থগিত উদ্ধার কার্যক্রম আবার শুরু হয়। তবু চলমান বৃষ্টি ও অস্থিতিশীল পাহাড়ের কারণে দ্বিতীয় দফা দুর্যোগের আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি।

উদ্ধার ও পর্যবেক্ষণে বাড়তি সতর্কতা

বুধবারের ভয়াবহ কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতে গিরং এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাস্তা, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা কঠিন হয়ে পড়ে।

শত শত মানুষ নিখোঁজ থাকার খবরও পাওয়া গেছে। সীমান্ত দুর্যোগের প্রেক্ষাপট নিয়ে দৈনিক বাংলাভিউয়ে আরও জানুন

উদ্ধারকারীরা ড্রোন, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ও ভারী যন্ত্র ব্যবহার করে দুর্গম এলাকায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

চীনা কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য নতুন হ্রদ শনাক্ত করতেও আশপাশের নদী ও পাহাড় পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ জনপদ আগে থেকেই খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পানি ও ভূমিধস পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে।

চীন-নেপাল সীমান্তে হ্রদ পরিস্থিতির পরবর্তী সতর্কতা আরও জানতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের এক্স আপডেটে নজর রাখা যেতে পারে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, উদ্ধারকাজের পাশাপাশি আগাম সতর্কতা ও দ্রুত স্থানান্তর এখন প্রধান অগ্রাধিকার।

গ্যাস সংকটে ৬৬০ বস্ত্রকল বিপর্যস্ত, কোথাও উৎপাদন ৩০ শতাংশে

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২৮ এম
গ্যাস সংকটে ৬৬০ বস্ত্রকল বিপর্যস্ত, কোথাও উৎপাদন ৩০ শতাংশে

গ্যাস সংকটে বস্ত্রকল খাতের বড় অংশ এখনো স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে পারেনি। জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে দেশের ৬৬০টি বস্ত্রকল তীব্র সংকটে ভুগছে।

অনেক কারখানায় উৎপাদন আংশিক বন্ধ রয়েছে, কোথাও সক্ষমতার মাত্র ৩০ শতাংশ ব্যবহার হচ্ছে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে পরিস্থিতি জানিয়েছে।

সংগঠনটির হিসাবে দেশে এক হাজার ৮০০টির বেশি বস্ত্রকল রয়েছে। এর মধ্যে ৫২৭টি স্পিনিং মিল, আর ২০১৯ সাল থেকে ২৪৪টি কারখানা বন্ধ।

গ্যাস সংকটে বস্ত্রকল এর উৎপাদনে বড় ধাক্কা

গাজীপুরের ভবানীপুরে মোশাররফ কম্পোজিট টেক্সটাইলে স্বাভাবিক সময়ে দিনে ১৭০ টন সুতা উৎপাদিত হয়। তবে এক মাস ধরে উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ৩০ শতাংশে নেমেছে।

পল্লী বিদ্যুৎ ও ডিজেল জেনারেটরে সীমিত উৎপাদন চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশাররফ হোসেন জানান, সাম্প্রতিক দুই দিনে গ্যাসের চাপ ৩-৪ পিএসআই হয়েছে।

তবু উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। অন্যদিকে এশিয়া কম্পোজিট মিলস ৭০-৭৫ শতাংশ সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছে।

শ্রীপুরের একটি কারখানায় গ্যাসের চাপ এখনো ২ পিএসআইয়ের নিচে। সেখানে উৎপাদন সক্ষমতার ৩০-৩৫ শতাংশ ব্যবহার হচ্ছে।

নরসিংদীর ভূঁইয়া টেক্সটাইল ২২ দিন বন্ধ থাকার পর সীমিতভাবে উৎপাদন শুরু করেছে। সর্বশেষ সংবাদ জানতে ক্লিক করুন

নারায়ণগঞ্জে সংকট এখনো তীব্র

ফতুল্লার এমএস ডাইং প্রিন্টিং অ্যান্ড ফিনিশিংয়ে ১৮ আগস্ট থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ। কারখানাটির দৈনিক ১১০ টন কাপড় ডাইংয়ের সক্ষমতা থাকলেও উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

এতে গার্মেন্টস বিভাগেও প্রয়োজনীয় কাপড় সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

বিটিএমএর সহসভাপতি আবুল কালাম জানিয়েছেন, সোনারগাঁয়ের চৈতি কম্পোজিটে উৎপাদন ৪০ শতাংশে নেমেছে।

তবে হবিগঞ্জ ও চট্টগ্রামের কারখানায় গ্যাস সরবরাহ তুলনামূলক সন্তোষজনক রয়েছে।

বস্ত্র খাতের তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আরও জানতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের এক্স আপডেটেও চোখ রাখা যেতে পারে।

সংকটের শুরু ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর। সামিটের টার্মিনাল থেকেও সরবরাহ ব্যাহত হয়।

পরে দুটি টার্মিনালের কার্যক্রম ধাপে ধাপে ফিরলেও কয়েকটি শিল্পাঞ্চলে চাপ এখনো স্বাভাবিক হয়নি।

বিটিএমএ কারখানাগুলোর বর্তমান অবস্থা যাচাই করছে। মূল্যায়ন শেষে পুনরুজ্জীবন ও প্রয়োজনীয় সহায়তার প্রস্তাব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দেওয়ার কথা রয়েছে।

সংগঠনটি বলছে, দীর্ঘ সংকটে আর্থিক চাপ বেড়েছে এবং বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তবে কিছু এলাকায় পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে।