দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক পদের বিপরীতে রিট আবেদনকারী ১০ জন চাকরিপ্রার্থীকে কেন নিয়োগ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
আরোও পড়ুন: বগুড়ায় নারীদের জন্য বিশেষ বিআরটিসি বাস সার্ভিসের যাত্রা শুরু
একইসঙ্গে, এই শূন্য পদগুলোতে আবেদনকারীদের নিয়োগ দিতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা-ও জানতে চেয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. হামিদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব।
আরোও পড়ুন: নেতানিয়াহুর নির্বাচনী বিলবোর্ডে জোহরান মামদানি: উত্তপ্ত রাজনৈতিক মাঠ
সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ চেয়ে রিট
দিলরুবা বেগমসহ ১০ জন চাকরিপ্রার্থীর পক্ষে গত ৯ই আগস্ট হাইকোর্টে এই রিটটি দায়ের করা হয়। রিট আবেদনে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।
আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব, যাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী মাকসুদুর রহমান ও মারুফ হাসান তমাল। অন্যদিকে, দুদকের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম।
দুদকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষার বিবরণ
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৯ সালের ১৮ই নভেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন সহকারী পরিচালক, উপসহকারী পরিচালক ও কোর্ট পরিদর্শক পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে সহকারী পরিচালকের ১৩২টি পদের বিপরীতে আবেদন করেন রিট আবেদনকারীরা। তারা লিখিত ও অন্যান্য পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পর ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।
আরোও পড়ুন: বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান ভারতের অংশ হবে: বিতর্কিত যোগগুরু রামদেব
তবে পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশের আগেই ২০২২ সালের ২১ জুন কমিশন ১৩০টি পদের বিপরীতে ১৩০ জনকে নিয়োগ প্রদান করে।
রিটকারীদের দাবি, নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে অনেকেই পরবর্তীতে অন্য চাকরিতে যোগ দেওয়ায় সহকারী পরিচালকের বেশ কিছু পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে, যা কমিশন পূরণ করেনি।
অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে নিয়োগের বিধান
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা বিদ্যমান পরিপত্র অনুযায়ী, নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাকরিতে যোগদান না করলে সৃষ্ট শূন্য পদে একই নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রার্থীদের অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে মেধার ভিত্তিতে প্রার্থী সুপারিশ করার বিধান রয়েছে।
রিট আবেদনকারীদের অভিযোগ, একই বিজ্ঞপ্তির অধীনে কোর্ট পরিদর্শক পদে এই নিয়ম অনুসরণ করা হলেও সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে দুদক সেই নিয়ম মানেনি। এই বৈষম্যমূলক আচরণের কারণেই তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
নিয়োগ নিয়ে হাইকোর্টের রুল
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে এবং বিজ্ঞাপিত শূন্য পদগুলোতে যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে রিট আবেদনকারীদের নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে এই রিটটি করা হয়। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত রুল জারি করেন।
এ বিষয়ে ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব বলেন, সুপ্রতিষ্ঠিত নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিয়ম ভঙ্গ করায় আবেদনকারীদের সংবিধানস্বীকৃত মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।
তিনি জানান, গত ২৯ জুলাই আবেদনকারীদের পক্ষে বিবাদীদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেই নোটিশের কোনো জবাব না পাওয়ায় পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়।