গৃহায়নের প্রকৌশলী জোয়ারদার তাবেদুন নবীকে ঘিরে দূর্নীতি ও অনিয়মের নানা অভিযোগ

গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা প্রকৌশলী তাবেদুন নবীকে ঘিরে দুর্নীতি ও অনিয়মের নানা অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ঘুষ লেনদেন, জমির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, প্লট-ফ্ল্যাট সংক্রান্ত অনিয়ম এবং একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার দাবি।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট নথি, অভিযোগ এবং বিভিন্ন ব্যক্তির বক্তব্য যাচাই করে দেখা হচ্ছে। তবে অভিযোগগুলোর সবকটির সত্যতা আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এমন দাবি করা যাচ্ছে না।

  • অফিসে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ

অভিযোগ রয়েছে, গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ঢাকা ডিভিশন-১-এ দায়িত্ব পালনের সময় তাবেদুন নবীর সঙ্গে আইনজীবী তানিয়া রহমানের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। অভিযোগকারীদের দাবি, অফিসের একটি কক্ষে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন জমি ও প্লট সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা হতো।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া প্রয়োজন। কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বা অনৈতিক আচরণের অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

  • জমি নিয়ে সিন্ডিকেটের অভিযোগ

তাবেদুন নবীর সঙ্গে শেখ সোহেল রানা, ইমামুল, শাহারিয়ার জনি ও রাদিউজ্জামানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মিরপুরের বাউনিয়া মৌজার জমির নামজারি এবং জমির শ্রেণি পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে একটি চক্র প্রভাব বিস্তার করত।

এ বিষয়ে সরকারি নথি, অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করা প্রয়োজন।

  • বদলির আগে ২০ একর জমির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অভিযোগ

অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ২০২৪ সালের ২০ আগস্টের ঘটনা। অভিযোগ অনুযায়ী, বদলির আগের দিন বাউনিয়া মৌজার প্রায় ২০ একর জমির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং এর সঙ্গে ৬ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের সম্পর্ক ছিল।

এই অভিযোগ সত্য হলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। তবে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ প্রমাণের জন্য আর্থিক লেনদেনের নথি, সরকারি আদেশ, সংশ্লিষ্ট ফাইল এবং তদন্ত প্রতিবেদনসহ নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন।

অভিযোগ রয়েছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ওই জমিতে উন্নয়নকাজ শুরু করে। এতে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধে থাকা সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

  • তিরস্কার’ নিয়ে প্রশ্ন

তাবেদুন নবীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার প্রসঙ্গও সামনে এসেছে। অভিযোগের তুলনায় যদি শাস্তি হিসেবে কেবল ‘তিরস্কার’ দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তি কী ছিল—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

দুর্নীতির অভিযোগের গুরুত্ব এবং শাস্তির মাত্রার মধ্যে সামঞ্জস্য ছিল কি না, সেটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি ও সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

  • প্রভাবশালী পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগ

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, তাবেদুন নবী বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কের পরিচয় ব্যবহার করে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছেন।

তবে এসব দাবির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং নির্ভরযোগ্য নথি ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে অপরাধে জড়িত হিসেবে উপস্থাপন করা সমীচীন নয়।

  • তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি

বাউনিয়া মৌজার জমি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, কথিত আর্থিক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি উঠেছে।

অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন। একই সঙ্গে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের বক্তব্য প্রকাশের সুযোগ দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *