শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩
শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩

ব্যয় বাড়ছে প্রায় ১৩০%, প্রকল্প খরচ দাঁড়াচ্ছে ১.২০ লাখ কোটি টাকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২৫ পিএম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ব্যয় বাড়ছে প্রায় ১৩০%, প্রকল্প খরচ দাঁড়াচ্ছে ১.২০ লাখ কোটি টাকা

দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল প্রকল্প এমআরটি লাইন-১-এর ব্যয় প্রায় ১৩০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং নতুন বাজার থেকে পূর্বাচলকে যুক্ত করতে নেওয়া এই প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৭৯৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের মাধ্যমে পরিকল্পনা কমিশনে প্রথম সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (আরডিপিপি) পাঠিয়ে এ ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে।

মূল প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫২ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা। অর্থাৎ সংশোধিত প্রস্তাব অনুমোদন পেলে ব্যয় বাড়বে প্রায় ১২৯ দশমিক ৮২ শতাংশ। একই সঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদও বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত মেয়াদ পরিবর্তন করে ২০৩৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

  • ঋণ ও সরকারি অর্থায়নেও বড় পরিবর্তন

সংশোধিত প্রস্তাবে জাপানি ঋণের পরিমাণ ৩৯ হাজার ৪৫০ কোটি ৩২ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৫ হাজার ৫৩৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ ঋণের পরিমাণ বাড়ছে ১১৬ দশমিক ৮২ শতাংশ।

অন্যদিকে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১৩ হাজার ১১১ কোটি ১১ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ৩৫ হাজার ২৫৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারি অর্থায়ন বাড়ছে ১৬৮ দশমিক ৯২ শতাংশ।

এর আগে চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি ডিএমটিসিএল পরিকল্পনা কমিশনকে জানিয়েছিল, প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় ৮৩ শতাংশ বেড়ে ৯৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকার কাছাকাছি যেতে পারে। নতুন প্রস্তাবে সেই ব্যয় আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।

  • ঠিকাদারদের বেশি দরেই মূল ব্যয় বৃদ্ধি

ডিএমটিসিএল ও পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, দরপত্রে ঠিকাদারদের প্রস্তাবিত মূল্য মূল প্রাক্কলনের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে। এর পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন এবং দেশি-বিদেশি বাজারে মূল্যস্ফীতিও ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকল্পটি মোট ১২টি কন্ট্রাক্ট প্যাকেজে ভাগ করা হয়েছে। এসব প্যাকেজের প্রাথমিক প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৩৭ হাজার ৬৫৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সর্বশেষ ঠিকাদারদের দর ও সংশোধিত প্রাক্কলনে তা বেড়ে ৮০ হাজার ৯৯৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে, রামপুরা স্টেশনের উত্তর পাশ থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ অংশের সিপি-০৪ প্যাকেজের মূল ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ৩৩০ কোটি ২০ লাখ টাকা। পরবর্তী প্রাক্কলনে তা বেড়ে ১৩ হাজার ২৬৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা হয়। দরপত্রে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান ১৪ হাজার ৯৮৮ কোটি ৭ লাখ টাকার প্রস্তাব দেয়।

আবার নদ্দা স্টেশন থেকে বিমানবন্দর স্টেশন পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ অংশের সিপি-০৬ প্যাকেজের প্রাথমিক ব্যয় ছিল ৪ হাজার ৬০৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। সেখানে সর্বনিম্ন দরপ্রস্তাব এসেছে ১০ হাজার ৮২১ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

  • সীমিত প্রতিযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন

প্রকল্পটির দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতা কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, জাপানি অর্থায়নের প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগসহ কিছু শর্তের কারণে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ বেশি তৈরি হয়।

পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) মাধ্যমে হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত নকশা ও প্রাক্কলনে পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন কাজের ব্যয় বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকেও প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ, দরপত্রের প্রতিযোগিতা এবং ভবিষ্যতে ব্যয় আরও বাড়ার ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাদের মতে, এত বড় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে ব্যয়ের তুলনা এবং প্রকল্পের আর্থিক যৌক্তিকতা যাচাই করা প্রয়োজন

  • প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় নিয়েও তুলনা

বিভিন্ন দেশের মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয়ের সঙ্গে তুলনা করলে ঢাকার এমআরটি লাইন-১-এর ব্যয় নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পর্যালোচনা তথ্য অনুযায়ী, ভারতের পাটনায় প্রতি কিলোমিটার মেট্রোরেল নির্মাণে ব্যয় প্রায় ৪০.৭৭ মিলিয়ন ডলার। রিয়াদে এই ব্যয় প্রায় ১৬৬ মিলিয়ন এবং দুবাইয়ে প্রায় ১৮৮ মিলিয়ন ডলার।

অন্যদিকে ঢাকার এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় প্রায় ২২৬.৭৪ থেকে ২৫৩.৬৩ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর কথা বলা হচ্ছে।

  • প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা

এমআরটি লাইন-১-এর মোট দৈর্ঘ্য ৩১ দশমিক ২৪১ কিলোমিটার। এর মধ্যে বিমানবন্দর রুটের দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৮৭২ কিলোমিটার এবং পুরো অংশটি ভূগর্ভস্থ। এ রুটে ১২টি স্টেশন থাকবে।

অন্যদিকে ১১ দশমিক ৩৬৯ কিলোমিটার দীর্ঘ পূর্বাচল রুটে উড়াল ও ভূগর্ভস্থ—দুই ধরনের ব্যবস্থা থাকছে। এই অংশে সাতটি উড়াল ও দুটি ভূগর্ভস্থ স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পের ১২টি প্যাকেজের মধ্যে ডিপো এলাকার ভূমি উন্নয়নসংক্রান্ত সিপি-১ প্যাকেজের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ১১টি প্যাকেজের ক্রয় প্রক্রিয়া বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

ঠিকাদারদের উচ্চ দর নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় কয়েকটি প্যাকেজের দরপত্র প্রক্রিয়া স্থগিতও করা হয়েছিল। ব্যয় কমানোর বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, ডিএমটিসিএল ও সড়ক পরিবহন বিভাগ জাইকা এবং জাপানের সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল জাপান সফরও করেছে।

তথ্যসূত্র: সংশ্লিষ্ট প্রকল্প ও পরিকল্পনা কমিশন সূত্র

লা গ্রঁদ-মোত: স্থাপত্যেই যে শহরের অনন্য পরিচয়

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪০ এম
লা গ্রঁদ-মোত: স্থাপত্যেই যে শহরের অনন্য পরিচয়

লা গ্রঁদ-মোত ফ্রান্সের দক্ষিণ উপকূলের এমন এক সমুদ্রতীরবর্তী শহর, যার পরিচয়ের কেন্দ্রে রয়েছে স্থাপত্য। স্থপতি জ্যাঁ বালাদুরের পরিকল্পনায় গড়ে ওঠে শহরটি।

পিরামিডসদৃশ ভবন, বাঁকানো অবয়ব ও জ্যামিতিক নকশা আলাদা করে নজর কাড়ে। ১৯৬০-এর দশকে লাঙ্গেদক উপকূল উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন এই পর্যটনশহরের নির্মাণ শুরু হয়।

ফরাসি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বালাদুর প্রায় তিন দশক ধরে শহরটির নগর পরিকল্পনা ও স্থাপত্যে কাজ করেন।

লা গ্রঁদ-মোতের পিরামিড স্থাপত্য

শহরটির সবচেয়ে পরিচিত স্থাপনাগুলোর একটি ‘লা গ্রঁদ পিরামিদ’। এর এক পাশ সরল ঢালু, অন্য পাশ বাঁকানো।

নকশাটিতে কাছের পিক সাঁ-লু পাহাড়ের উল্টো অবয়বের অনুপ্রেরণা রয়েছে বলে স্থানীয় পর্যটন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এখানকার অনেক আবাসিক ভবনের বারান্দা ধাপে ধাপে বাইরে বেরিয়ে এসেছে। ফলে দূর থেকে সেগুলো থিয়েটারের বক্স কিংবা বিশাল জ্যামিতিক ভাস্কর্যের মতো দেখায়।

শহরের পথ, উন্মুক্ত স্থান ও সবুজায়নও একই পরিকল্পনার অংশ। পথচারী ও সাইকেল আরোহীদের চলাচল সহজ করতে সড়কের পাশাপাশি আলাদা সংযোগপথও রাখা হয়েছিল।

এতে পর্যটনকেন্দ্র হলেও শহরটি কেবল কংক্রিটনির্ভর হয়ে ওঠেনি।

—ফ্রান্সের স্থাপত্য ও ভ্রমণের নানা গল্প জানতে ক্লিক করুন।

২০১০ সালে শহরটি ফ্রান্সের বিংশ শতাব্দীর স্থাপত্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পায়।

পুয়াঁ জেরো থেকে শুরু শহরের গল্প

পুয়াঁ জেরো শহরটির ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৬৭ সালে নির্মিত এই স্থাপনাকে কেন্দ্র করেই নতুন শহরের পরিকল্পনা বিস্তার পায়।

কাছের পুয়াঁ জেরো সৈকত এখন পরিবার, পর্যটক ও সাইকেল আরোহীদের জনপ্রিয় গন্তব্য।

সৈকতটি শহরের জন্মপর্বের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত এবং বিস্তৃত সবুজ এলাকার পাশে অবস্থিত।

এখানকার ৫০ মিটার উঁচু ফেরিস হুইলও পর্যটকদের আকর্ষণ করে। এতে ৯০ বর্গমিটার সৌর প্যানেল রয়েছে।

ফলে প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের একটি অংশ সেখানেই উৎপাদিত হয়। শক্তি পুনরুদ্ধারকারী বৈদ্যুতিক মোটরও এর ব্যবস্থায় যুক্ত রয়েছে।

ভ্রমণের আরও তথ্য জানতে এক্স পাতায় চোখ রাখুন।

লা গ্রঁদ-মোত স্থাপত্য ফ্যাশনজগতেও প্রভাব ফেলেছে। ফরাসি ডিজাইনার সিমন পোর্ত জাকেমুস তার ২০১৪ সালের বসন্ত-গ্রীষ্ম সংগ্রহের নাম দেন ‘লা গ্রঁদ-মোত’।

একই বছর শহরটি ঘিরে তিনি একটি ফটোগ্রাফি বইও প্রকাশ করেন। স্থাপত্য, সমুদ্র ও পরিকল্পিত সবুজের এই সমন্বয় শহরটিকে সাধারণ সৈকতনগরীর বাইরে আলাদা পরিচয় দিয়েছে।

তাই শুধু সমুদ্রভ্রমণ নয়, আধুনিক নগর স্থাপত্য দেখতেও পর্যটকদের কাছে জায়গাটি বিশেষ আকর্ষণ হয়ে আছে।

চীন-নেপাল সীমান্তে ভূমিধসের হ্রদে নতুন বন্যার শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫১ এম
চীন-নেপাল সীমান্তে ভূমিধসের হ্রদে নতুন বন্যার শঙ্কা

চীন-নেপাল সীমান্তে হ্রদ ঘিরে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নেপালের দিক থেকে নেমে আসা ভূমিধস ও ধ্বংসাবশেষ নদীর প্রবাহ আটকে এই হ্রদ তৈরি করেছে।

গিরং সীমান্তবন্দর ও ভাটির জনপদগুলোকে তাই সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে হ্রদটিতে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি ছিল।

পরবর্তী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি প্রবেশের পূর্বাভাস দেওয়া হয়।

অব্যাহত বৃষ্টিতে প্রাকৃতিক বাঁধ ভাঙলে নিচু এলাকায় আকস্মিক বন্যা নামতে পারে।

চীন-নেপাল সীমান্তে হ্রদ নিয়ে সতর্কতা

কর্তৃপক্ষের হিসাবে, পানির প্রবাহ ১ সেপ্টেম্বরের দিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। বিশেষজ্ঞ দলও হ্রদের বাঁধ, পানির গভীরতা ও প্রবাহের গতি নিয়মিত পরীক্ষা করছে।

সম্ভাব্য ক্ষতির তালিকায় গিরং বন্দর এবং নদীর নিম্নাঞ্চল রয়েছে। স্যাটেলাইট ও জরুরি জলবিদ্যুৎ পর্যবেক্ষণ দল দিয়ে পরিস্থিতি নজরে রাখা হচ্ছে।

শুক্রবার পর্যন্ত ৪৯৯ জন ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা ও নির্মাণশ্রমিককে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৫৫৫ জন পর্যটককেও দুর্যোগ এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে আর কোনো পর্যটক আটকা নেই।

তবে শুক্রবার হ্রদের পানি কিছুটা কমায় তাৎক্ষণিক ঝুঁকি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণযোগ্য বলে উদ্ধারকারীরা জানান।

এরপর স্থগিত উদ্ধার কার্যক্রম আবার শুরু হয়। তবু চলমান বৃষ্টি ও অস্থিতিশীল পাহাড়ের কারণে দ্বিতীয় দফা দুর্যোগের আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি।

উদ্ধার ও পর্যবেক্ষণে বাড়তি সতর্কতা

বুধবারের ভয়াবহ কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতে গিরং এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাস্তা, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা কঠিন হয়ে পড়ে।

শত শত মানুষ নিখোঁজ থাকার খবরও পাওয়া গেছে। সীমান্ত দুর্যোগের প্রেক্ষাপট নিয়ে দৈনিক বাংলাভিউয়ে আরও জানুন

উদ্ধারকারীরা ড্রোন, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ও ভারী যন্ত্র ব্যবহার করে দুর্গম এলাকায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

চীনা কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য নতুন হ্রদ শনাক্ত করতেও আশপাশের নদী ও পাহাড় পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ জনপদ আগে থেকেই খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পানি ও ভূমিধস পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে।

চীন-নেপাল সীমান্তে হ্রদ পরিস্থিতির পরবর্তী সতর্কতা আরও জানতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের এক্স আপডেটে নজর রাখা যেতে পারে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, উদ্ধারকাজের পাশাপাশি আগাম সতর্কতা ও দ্রুত স্থানান্তর এখন প্রধান অগ্রাধিকার।

গ্যাস সংকটে ৬৬০ বস্ত্রকল বিপর্যস্ত, কোথাও উৎপাদন ৩০ শতাংশে

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২৮ এম
গ্যাস সংকটে ৬৬০ বস্ত্রকল বিপর্যস্ত, কোথাও উৎপাদন ৩০ শতাংশে

গ্যাস সংকটে বস্ত্রকল খাতের বড় অংশ এখনো স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে পারেনি। জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে দেশের ৬৬০টি বস্ত্রকল তীব্র সংকটে ভুগছে।

অনেক কারখানায় উৎপাদন আংশিক বন্ধ রয়েছে, কোথাও সক্ষমতার মাত্র ৩০ শতাংশ ব্যবহার হচ্ছে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে পরিস্থিতি জানিয়েছে।

সংগঠনটির হিসাবে দেশে এক হাজার ৮০০টির বেশি বস্ত্রকল রয়েছে। এর মধ্যে ৫২৭টি স্পিনিং মিল, আর ২০১৯ সাল থেকে ২৪৪টি কারখানা বন্ধ।

গ্যাস সংকটে বস্ত্রকল এর উৎপাদনে বড় ধাক্কা

গাজীপুরের ভবানীপুরে মোশাররফ কম্পোজিট টেক্সটাইলে স্বাভাবিক সময়ে দিনে ১৭০ টন সুতা উৎপাদিত হয়। তবে এক মাস ধরে উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ৩০ শতাংশে নেমেছে।

পল্লী বিদ্যুৎ ও ডিজেল জেনারেটরে সীমিত উৎপাদন চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশাররফ হোসেন জানান, সাম্প্রতিক দুই দিনে গ্যাসের চাপ ৩-৪ পিএসআই হয়েছে।

তবু উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। অন্যদিকে এশিয়া কম্পোজিট মিলস ৭০-৭৫ শতাংশ সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছে।

শ্রীপুরের একটি কারখানায় গ্যাসের চাপ এখনো ২ পিএসআইয়ের নিচে। সেখানে উৎপাদন সক্ষমতার ৩০-৩৫ শতাংশ ব্যবহার হচ্ছে।

নরসিংদীর ভূঁইয়া টেক্সটাইল ২২ দিন বন্ধ থাকার পর সীমিতভাবে উৎপাদন শুরু করেছে। সর্বশেষ সংবাদ জানতে ক্লিক করুন

নারায়ণগঞ্জে সংকট এখনো তীব্র

ফতুল্লার এমএস ডাইং প্রিন্টিং অ্যান্ড ফিনিশিংয়ে ১৮ আগস্ট থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ। কারখানাটির দৈনিক ১১০ টন কাপড় ডাইংয়ের সক্ষমতা থাকলেও উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

এতে গার্মেন্টস বিভাগেও প্রয়োজনীয় কাপড় সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

বিটিএমএর সহসভাপতি আবুল কালাম জানিয়েছেন, সোনারগাঁয়ের চৈতি কম্পোজিটে উৎপাদন ৪০ শতাংশে নেমেছে।

তবে হবিগঞ্জ ও চট্টগ্রামের কারখানায় গ্যাস সরবরাহ তুলনামূলক সন্তোষজনক রয়েছে।

বস্ত্র খাতের তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আরও জানতে দৈনিক বাংলাভিউয়ের এক্স আপডেটেও চোখ রাখা যেতে পারে।

সংকটের শুরু ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর। সামিটের টার্মিনাল থেকেও সরবরাহ ব্যাহত হয়।

পরে দুটি টার্মিনালের কার্যক্রম ধাপে ধাপে ফিরলেও কয়েকটি শিল্পাঞ্চলে চাপ এখনো স্বাভাবিক হয়নি।

বিটিএমএ কারখানাগুলোর বর্তমান অবস্থা যাচাই করছে। মূল্যায়ন শেষে পুনরুজ্জীবন ও প্রয়োজনীয় সহায়তার প্রস্তাব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দেওয়ার কথা রয়েছে।

সংগঠনটি বলছে, দীর্ঘ সংকটে আর্থিক চাপ বেড়েছে এবং বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তবে কিছু এলাকায় পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে।