রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে গ্রেপ্তার হওয়া অর্ণব দাসকে (৩২) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ শনিবার বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এই নির্দেশ দেন। ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবুল বাশার আব্দুল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের দাবি অনুযায়ী, অর্ণব নিষিদ্ধঘোষিত যুবলীগের একজন সক্রিয় কর্মী। আজ সকাল ১০টার দিকে তাকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় ধানমন্ডি মডেল থানার উপপরিদর্শক বাবন উদ্দিন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেন এবং অর্ণবকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সদস্য।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছিল। তারা মিছিলের উদ্দেশ্যে সমবেত হয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি ও জনজীবন বিপন্ন করার চেষ্টা চালিয়েছে। পুলিশ জানায়, অর্ণবসহ ১০০ থেকে ১৫০ জনের বেশি ব্যক্তি সাদা রঙের হায়েস মাইক্রোবাসে করে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. আরিফুল ইসলাম আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান।
আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অর্ণব ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই চলছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে পালিয়ে যেতে পারেন বা পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। শুনানির সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী লিটন মিয়াসহ কয়েকজন জামিনের আবেদন জানালেও রাষ্ট্রপক্ষ তার তীব্র বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য, শুনানির সময় আসামিকে আদালতের এজলাসে হাজির না করে হাজতখানায় রাখা হয়েছিল।
মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁকে জেলহাজতে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন।
আসামির কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও নাম–ঠিকানা যাচাই–বাছাই করা হচ্ছে।
আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত আছে।