৪ লাখ ৫০ হাজার সদস্যকে নতুন প্রশিক্ষণ, যুদ্ধ-দুর্যোগে প্রস্তুত আনসার বাহিনী

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সংস্কার ও রূপান্তরের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে গাজীপুরের সফিপুরে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বাহিনীর গত দুই বছরের সংস্কার, ডিজিটাল রূপান্তর, প্রশিক্ষণ ও সদস্যকল্যাণের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) আনসার-ভিডিপি একাডেমিতে আয়োজিত সভায় বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আব্দুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ এসব তথ্য জানান।

  • সাড়ে চার লাখ সদস্যকে নতুন প্রশিক্ষণ

মহাপরিচালক জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সাড়ে চার লাখের বেশি তরুণ সদস্যকে নতুন করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তবে এই প্রশিক্ষণ শুধু নির্বাচন বা উৎসবকেন্দ্রিক দায়িত্বের জন্য নয়।

যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি কিংবা যেকোনো জরুরি ও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতেও প্রশিক্ষিত সদস্যরা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে জানান তিনি।

গত দুই বছরে প্রশিক্ষণের ধরন, লক্ষ্য ও সিলেবাসে পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের দক্ষতা বাড়াতে সতেজকরণ প্রশিক্ষণও জোরদার করা হয়েছে।

  • ৬০ লাখ সদস্য ডাটাবেজে

আনসার বাহিনীর প্রায় ৬০ লাখ সদস্যের তথ্য ডাটাবেজের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানান মহাপরিচালক। গ্রাম, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও প্লাটুন পর্যায়ের সদস্যদের তথ্যকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, সদস্যদের তথ্য সংরক্ষণ, নিরাপত্তা দায়িত্বে মোতায়েন, বেতন-ভাতা ব্যবস্থাপনা ও দাপ্তরিক কাজে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি আনসার-ভিডিপি জব পোর্টালের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

  • আসছে AI-সমন্বিত ব্যবস্থাপনা

ভবিষ্যতে ৬০ লাখ সদস্যকে যুক্ত করে বিদ্যমান ERP ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মহাপরিচালক।

এর আওতায় স্বেচ্ছাসেবকদের রক্তের প্রয়োজনীয় তথ্য ব্যবহারের মাধ্যমে বড় পরিসরের ব্লাড ব্যাংক সেবা তৈরির পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে মিটরিং সিস্টেম ও ডাটা সার্ভিস ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

  • নিরাপত্তা ও সদস্যকল্যাণে পরিবর্তন

গুরুত্বপূর্ণ ও কেপিআই স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন মহাপরিচালক। এজন্য সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে জোর দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া চাকরির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের রেস্টপ্রথা বাতিলের প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম চলছে। সদস্যদের বেতন, রেশন ও অন্যান্য প্রাপ্যতা সময়মতো নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চাকরি শেষে অবসরকালীন গ্র্যাচুইটি ফান্ড পাওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

  • নিয়োগে স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাকে সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন মহাপরিচালক। তিনি জানান, কঠিন ও প্রতিযোগিতামূলক ধাপ পেরিয়ে যোগ্য প্রার্থীদের চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হচ্ছে।

নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি বা দালালির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে ভিডিপি ও টিডিপি সদস্যদের তৃণমূল পর্যায়ে আর্থসামাজিক উন্নয়নেও যুক্ত করা হচ্ছে। বৃক্ষরোপণ, পরিবেশ সুরক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, অগ্নিনির্বাপণ, কৃষিকাজে সহায়তা, স্বেচ্ছাশ্রম ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির মতো কার্যক্রমে তারা ভূমিকা রাখছেন।

সভায় বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদ, আনসার-ভিডিপি একাডেমির কমান্ড্যান্ট (ভারপ্রাপ্ত) উপমহাপরিচালক মো. সাইফুল্লাহ রাসেলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *