যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনা আবারও বাড়ছে। উত্তেজনা আরও বাড়লে ইউরোপের মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছে তেহরান।
ইরানের হামলার পরিকল্পনা নিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। প্রতিবেদনটি ইরানি সরকারের দুটি সূত্রের তথ্য উল্লেখ করেছে।
সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় বুলগেরিয়া ও সাইপ্রাসের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরানের হামলার পরিকল্পনা নিয়ে যা জানা গেছে
ফিন্যান্সিয়াল টাইমস বলছে, পরিস্থিতি খারাপ হলে ইরান হামলার বিকল্পটি বিবেচনা করতে পারে। সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হতে পারে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপ।
বুলগেরিয়ার মার্কিন সামরিক ঘাঁটি তালিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাইপ্রাসে থাকা সামরিক স্থাপনাও সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইরানের হামলার পরিকল্পনা বাস্তব হলে সংঘাতের ভৌগোলিক পরিধি বাড়বে। একই সঙ্গে ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হবে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের আলোচনা বন্ধ
দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থাও আরও প্রকট হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার এ বিষয়ে কথা বলেছেন।
তিনি জানান, তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কোনো আলোচনা চলছে না। নতুন আলোচনার কোনো পরিকল্পনাও নেই বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
এদিকে বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাত নতুন একটি সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। দেশটি ইরানের সঙ্গে সব বাণিজ্যিক বিনিময় স্থগিত করেছে।
সব ধরনের আর্থিক লেনদেনও পরবর্তী নির্দেশ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা
বর্তমান ভূরাজনৈতিক বিরোধের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। ট্রাম্পের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ সম্পূর্ণ খোলা রয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, নৌপথটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তার মতে, সেখানে স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচল করছে।
তবে প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচলের হার এখনো অত্যন্ত কম। চলতি সপ্তাহে সেখানে একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলা হয়েছে।
ওই ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। ফক্স নিউজ ইরানের এক সামরিক মুখপাত্রের হুঁশিয়ারি প্রকাশ করেছে।
তিনি প্রণালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা জাহাজগুলোকে সতর্ক করেছেন। তার ভাষায়, জাহাজগুলোর হালে ‘কয়েকটি সুন্দর গর্ত’ দেখা যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের ওপর ট্রাম্পের চাপ
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কয়েকটি মিত্রের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক অভিযানে সহযোগিতা না করায় তিনি এই অবস্থান নিয়েছেন।
তিনি ওমানকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে বাধা না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধেও কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প।
দেশটির সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা
বিশ্লেষকেরা বলছেন, সংঘাত দীর্ঘ হলে বিশ্ববাজারে বড় প্রভাব পড়বে। হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা জ্বালানি সরবরাহে বাধা তৈরি করতে পারে।
ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ইউরোপের নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে চাপ বাড়তে পারে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমস ও সিএনবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন: সর্বশেষ আন্তর্জাতিক সংবাদ